
পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গার ভাঙনে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে পূর্বস্থলীর কমলনগর ফেরিঘাটের ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনও সময় মন্দিরটি গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মন্দিরটির বিপন্ন অবস্থার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মাজিদা অঞ্চলবাসীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘মঠ মন্দির সংস্কার কমিটি’। কমিটির সভাপতি গৌড় ঘোষ-সহ সদস্যরা বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
এরই মধ্যে মন্দির রক্ষায় সামনে এসেছে প্রথম সম্ভাব্য সমাধান। একসময় নিজেদের আর্থিক সহায়তায় এই মন্দির নির্মাণে সহযোগিতা করা ধর কনস্ট্রাকশন পরিবারের সদস্যরা কমলনগর ঘাটে পৌঁছে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে নিজেদের উদ্যোগেই মন্দিরটি সংস্কারের কাজ করতে তাঁরা প্রস্তুত। সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও তাঁরাই দেবেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, মন্দির রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কমলনগর জল প্রকল্পের কাছে মঠ মন্দির সংস্কার কমিটি ও বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী প্রজ্ঞানন্দজি ওরফে কার্তিক মহারাজ।
মন্দির ও গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে মোকাবিলার জন্য ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এলাকা পরিদর্শন করিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান-এস্টিমেট তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন করানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিন ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। মন্দিরকে ঘিরে মানুষের আবেগ যেমন রয়েছে, তেমনই গঙ্গার ভাঙন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। একদিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুত সংস্কারের সম্ভাবনা, অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সমাধানের উদ্যোগ—এই দুই পথের মধ্যে কোনটি আগে কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কমলনগরের মানুষ।
স্থানীয়দের একটাই দাবি, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আপাতত গঙ্গার ভাঙন ঠেকিয়ে ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরটিকে দ্রুত রক্ষা করা হোক।












Leave a Reply