প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে হারিয়ে জয়ী মানবতা মালদার ভুতনিতে ত্রাণ হাতে পৌঁছে গেল শিলিগুড়ির ‘ইউনিক ফাউন্ডেশন’ ৷

​বিশেষ সংবাদদাতা, মালদা :- প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাণ্ডবের কাছে মানুষ বারে বারে অসহায় প্রমাণিত হলেও, বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাশক্তিই যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি—তা আরও একবার প্রমাণ করল শিলিগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইউনিক ফাউন্ডেশন’ এবং এর কর্ণধার তথা ভারতীয় সেনাজওয়ান শক্তি পাল। আয়লা, আম্ফান কিংবা অসমের ভয়াবহ বন্যা থেকে শুরু করে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে নেপালের হড়পা বান—যেখানেই বিপর্যয়, সেখানেই নিজের জীবন বাজি রেখে পৌঁছে যান এই সংগঠনের সদস্যরা। এবার সেই ধারাই বজায় রেখে দূরত্বের বাধা অতিক্রম করে মালদার মানিকচকের জলমগ্ন ভুতনিতে হাজির হলেন তাঁরা।
​সাম্প্রতিক সময়ে গঙ্গা ও আঞ্চলিক নদীগুলির জলস্ফীতিতে মালদার মানিকচক ব্লকের ভুতনি অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় রূপ নিয়েছে। সুদূর শিলিগুড়ি থেকে সেই ভয়াবহ বন্যার খবর পাওয়া মাত্রই আর স্থির থাকতে পারেননি ইউনিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। লক্ষ্য যখন মানুষের সেবা, তখন কোনো দূরত্বই যে বাধা হতে পারে না, তা প্রমাণ করে ট্রেনে চেপে ৪ জনের একটি প্রতিনিধি দল আজ সোজা পৌঁছে যায় দুর্গত এলাকাগুলিতে।
​ভুতনি থানার অন্তর্গত উত্তর চণ্ডীপুর, হিরানন্দপুর, নাজিরপুর এবং শুকদেব তলার মতো সম্পূর্ণ জলমগ্ন এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্য চালান সংগঠনের কর্মীরা। বানভাসি পরিবারগুলোর মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ত্রাণ তালিকায় ছিল বালিশ, মশারি, শুকনো খাবার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বিভিন্ন বাসনপত্র এবং গৃহপালিত পশুদের জন্য গো-খাদ্য।
​এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ত্রাণ বিতরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার নেপথ্যে ছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা। ভুতনি থানার পুলিশ কর্মীরা সারাক্ষণ নৌকায় চেপে ইউনিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সাথে উপস্থিত থেকে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করেন।
​ত্রাণ বিতরণ শেষে সংগঠনের কর্ণধার তথা সেনাজওয়ান শক্তি পাল আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়তো মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতিকে কেড়ে নিতে পারে না। বিপদের দিনে দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আমরা পাই, সেটাই আমাদের আগামীর পথচলার আসল শক্তি জোগায়।”
​প্রশাসনের সহায়তা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এই মানবিক উদযোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভুতনির হাজার হাজার বানভাসি মানুষ। দুর্যোগের এই কালো মেঘের মাঝে ইউনিক ফাউন্ডেশনের এই প্রচেষ্টা যেন আশার আলো হয়ে দেখা দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *