ড. পূর্ণিমা সিনহা : বিজ্ঞানের কঠিন জগতে এক সৃজনশীল মহীয়সী নারী।

ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এমন কিছু নারী রয়েছেন, যাঁদের অবদান শুধু গবেষণাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা একই সঙ্গে জ্ঞানচর্চা, শিল্প, সাহিত্য এবং সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রেখেছিলেন। ড. পূর্ণিমা সিনহা ছিলেন তেমনই এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

পদার্থবিদ্যার গবেষণায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি অর্জন করে তিনি ইতিহাস তৈরি করেন। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি অর্জনকারী প্রথম মহিলা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ভারতীয় মাটি ও কাদামাটির খনিজের গঠন এবং তার বিশ্লেষণ। এই গবেষণার জন্য তিনি এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন।

কিন্তু পূর্ণিমা সিনহার পরিচয় শুধু একজন পদার্থবিদ হিসেবে দিলে তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। তিনি সংগীত শিখেছেন, ছবি এঁকেছেন, মৃৎশিল্প নিয়ে কাজ করেছেন, বিজ্ঞানবিষয়ক বই বাংলায় অনুবাদ করেছেন এবং বিজ্ঞানের ধারণাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এক পরিবর্তনশীল সময়ে বেড়ে ওঠা

পূর্ণিমা সিনহার জন্ম ১২ অক্টোবর ১৯২৭ সালে কলকাতায়। তাঁর পরিবার ছিল শিক্ষিত ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার। সেই সময়ে ভারতীয় সমাজে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আজকের তুলনায় অনেক সীমিত ছিল। কিন্তু পূর্ণিমার পরিবার তাঁকে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েছিল।

তিনি কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করেন। সেখানেই তাঁর বিজ্ঞানচর্চার ভিত আরও শক্ত হয়।

তাঁর ছাত্রজীবনের সময়টা ছিল ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কলকাতা তখন বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম বড় কেন্দ্র। সেই পরিবেশে স্যার সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মতো কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর সংস্পর্শে আসা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে দাঁড়ায়।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছে গবেষণার শুরু

পূর্ণিমা সিনহা গবেষণা শুরু করেন অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর তত্ত্বাবধানে।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু মূলত তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কিন্তু তাঁর গবেষণাগারে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান নিয়েও কাজ চলত। পূর্ণিমা সিনহা সেখানে এমন একটি গবেষণার বিষয় বেছে নেন, যা সে সময় যথেষ্ট নতুন ও কঠিন ছিল।

তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের কাদামাটি ও clay minerals-এর গঠন বিশ্লেষণ।

এখানে এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পদার্থের অতি সূক্ষ্ম গঠন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। আজকের দিনে উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে এ ধরনের গবেষণা করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও পঞ্চাশের দশকের কলকাতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।

গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ছিল। ফলে শুধু গবেষণার বিষয় জানা থাকলেই চলত না—প্রয়োজন ছিল নিজের হাতে যন্ত্র তৈরি করার দক্ষতাও।

পুরনো যন্ত্রাংশ থেকে তৈরি গবেষণার সরঞ্জাম

পূর্ণিমা সিনহার গবেষণাজীবনের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায় তাঁর এক্স-রে যন্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

তৎকালীন কলকাতায় গবেষণার সরঞ্জাম সহজে পাওয়া যেত না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন সামগ্রী কলকাতার ফুটপাথে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হতো। সেইসব পুরনো যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে গবেষণার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের এক্স-রে সরঞ্জাম তৈরির কাজে তিনি এগিয়ে যান।

এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত কাহিনি নয়। এর মধ্যে রয়েছে সেই সময়ের ভারতীয় বিজ্ঞানীদের বাস্তব সংগ্রামের ছবি।

আজ কোনও গবেষক অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সুযোগ পান। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ভারতীয় গবেষণাগারে সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল প্রবল। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পূর্ণিমা সিনহা গবেষণা থামিয়ে দেননি।

নিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্র নিজেই তৈরি করার এই মানসিকতা তাঁর বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় বহন করে।

ভারতীয় মাটির কাদামাটি নিয়ে গবেষণা

পূর্ণিমা সিনহা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা মাটি, clay ও shale-এর নমুনা নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণায় এক্স-রে বিশ্লেষণ এবং তাপীয় ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারি বিজ্ঞান-ঐতিহ্য বিষয়ক নথি অনুযায়ী, ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে Nature পত্রিকায় দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।

একজন তরুণ ভারতীয় মহিলা বিজ্ঞানীর পক্ষে সেই সময়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকায় গবেষণাপত্র প্রকাশ পাওয়া ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তাঁর গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের কাদামাটির খনিজ গঠন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে আসে। এই কাজ ভূতত্ত্ব, পদার্থবিদ্যা ও উপাদানবিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

বিজ্ঞানের সঙ্গে জীবনের অন্য অনুসন্ধান

পূর্ণিমা সিনহার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বহুমুখী প্রতিভা।

বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি তিনি সংগীত শিখেছিলেন। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা নিয়েছিলেন ইয়ামিনী গাঙ্গুলির কাছে। আবার তবলা শেখেন পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছে। চিত্রকলার ক্ষেত্রেও তাঁর আগ্রহ ছিল এবং তিনি শিল্পী গোপাল ঘোষের কাছ থেকে ছবি আঁকার শিক্ষা নেন।

এখানেই তাঁর জীবন সাধারণ বিজ্ঞানীর জীবনী থেকে আলাদা হয়ে ওঠে।

তিনি মনে করতেন জ্ঞানকে আলাদা আলাদা ঘরে আটকে রাখা যায় না। বিজ্ঞান তাঁকে যেমন প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিল, শিল্প তাঁকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখিয়েছিল। সংগীত তাঁকে দিয়েছিল অনুভূতির অন্য ভাষা।

‘অরিজিন অব লাইফ’ নিয়ে গবেষণা

পিএইচডির পর পূর্ণিমা সিনহার গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।

১৯৬০-এর দশকের গোড়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘Origin of Life’ বা পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কিত গবেষণায় অংশ নেন। সেখানে তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানের সংযোগস্থলে গবেষণা করা।

কাদামাটির গঠন এবং DNA-তে থাকা কিছু রাসায়নিক ভিত্তির কাঠামোর মধ্যে জ্যামিতিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে এই ধরনের যোগাযোগ পরবর্তীকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানকে আলাদা আলাদা বিষয় হিসেবে না দেখে একসঙ্গে বোঝার প্রবণতা তাঁর গবেষণায় দেখা যায়।

গবেষণার পরবর্তী অধ্যায়

ভারতে ফিরে এসে পূর্ণিমা সিনহা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বোস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে সেন্ট্রাল গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করেন। সেখানে clay minerals-এর পাশাপাশি ceramic colour-এর পদার্থবিদ্যা নিয়েও কাজ করেন।

অর্থাৎ তাঁর গবেষণার মূল স্রোত কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। মাটি, খনিজ, কাচ, সিরামিক—পদার্থের গঠন এবং তার বৈশিষ্ট্য তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে আকৃষ্ট করেছে।

কিন্তু এখানেও তিনি গবেষণাকে শুধু ল্যাবরেটরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।

বিজ্ঞান ও বাংলা ভাষা

বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্ণিমা সিনহার আগ্রহ ছিল প্রবল।

তিনি বাংলায় বিজ্ঞানবিষয়ক লেখা ও অনুবাদের কাজ করেন। বিজ্ঞানকে মাতৃভাষায় বোঝানো দরকার—এই ধারণার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের বিজ্ঞানপ্রচার আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল।

তিনি বিজ্ঞানবিষয়ক বই বাংলায় অনুবাদ করেছেন। এর ফলে জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

এটি তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ গবেষণাগারে নতুন জ্ঞান তৈরি করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সেই জ্ঞান সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও বিজ্ঞানচর্চার একটি বড় দায়িত্ব।

মাটির বিজ্ঞান থেকে মাটির শিল্প

পূর্ণিমা সিনহার জীবনের আরেকটি চমৎকার দিক ছিল—তিনি যে মাটির উপাদান নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতেন, সেই মাটিকেই শিল্পের উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করতেন।

তিনি মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্যের সঙ্গে যুক্ত হন। শান্তিনিকেতনে তাঁর শিল্পচর্চারও পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর বিজ্ঞান ও শিল্পের এই মিলন তাঁকে একটি অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।

একদিকে মাইক্রোস্কোপ ও এক্স-রে বিশ্লেষণ, অন্যদিকে মাটি দিয়ে শিল্প সৃষ্টি—দুটি আপাতভাবে আলাদা জগত তাঁর জীবনে পাশাপাশি চলেছে।

নারী বিজ্ঞানীদের জন্য পথ তৈরি

পূর্ণিমা সিনহা যখন পদার্থবিদ্যায় গবেষণা শুরু করেছিলেন, তখন ভারতে বিজ্ঞান গবেষণায় নারীদের উপস্থিতি আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল।

সেই সময়ে একজন মহিলা গবেষকের সামনে সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পেশাগত সুযোগের সীমাবদ্ধতা—সবই ছিল।

পূর্ণিমা সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের পথ তৈরি করেন।

১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল আরও বড়। তিনি প্রমাণ করেন যে ভারতীয় মহিলারাও কঠিন পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে পারেন।

একটি বহুমাত্রিক জীবনের উত্তরাধিকার

পূর্ণিমা সিনহার জীবনকে শুধু ‘প্রথম মহিলা পদার্থবিদ’ পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাঁর আসল বৈশিষ্ট্যটি হারিয়ে যায়।

তিনি ছিলেন গবেষক, বিজ্ঞানপ্রচারক, অনুবাদক, সংগীতপ্রেমী, চিত্রশিল্পী এবং মৃৎশিল্পী।

তাঁর জীবনে বিজ্ঞান ও শিল্প একে অপরের বিরোধী ছিল না। বরং দুটি ক্ষেত্রই তাঁর কৌতূহলকে আরও বিস্তৃত করেছে।

তাঁর দুই কন্যার মধ্যেও বিজ্ঞানচর্চার ধারা দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে সুপর্ণা সিনহা পরবর্তীকালে বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিদ হিসেবে রামন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করেছেন।

এ যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জিজ্ঞাসা ও জ্ঞানচর্চার উত্তরাধিকার।

শেষ কথা

ড. পূর্ণিমা সিনহার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো তাঁর বহুমুখীতায়।

তিনি দেখিয়েছেন, একজন মানুষকে একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। একজন বিজ্ঞানী একই সঙ্গে শিল্পী হতে পারেন। একজন গবেষক সংগীত শিখতে পারেন। একজন পদার্থবিদ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান লিখতে পারেন। আর একজন গবেষক সীমিত সম্পদের মধ্যেও নিজের হাতে যন্ত্র তৈরি করে নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান করতে পারেন।

১৯৫০-এর দশকে কলকাতার এক গবেষণাগারে পুরনো যন্ত্রাংশ দিয়ে এক্স-রে সরঞ্জাম তৈরি করে যে তরুণী গবেষণা শুরু করেছিলেন, তাঁর পথ পরবর্তীকালে পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে।

তাঁর জীবনের গল্প তাই শুধু নারী-সাফল্যের গল্প নয়। এটি কৌতূহলের গল্প, সৃষ্টিশীলতার গল্প এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখাকে একসঙ্গে দেখার গল্প।

আজ যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ ক্রমশ বিশেষায়িত হয়ে উঠছে, তখন পূর্ণিমা সিনহার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিজ্ঞানের পাশাপাশি শিল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও কৌতূহল রাখা একজন মানুষের চিন্তাজগতকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

এই কারণেই ড. পূর্ণিমা সিনহা ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে শুধু একজন অগ্রণী নারী পদার্থবিদ নন; তিনি ছিলেন এক সত্যিকারের বহুমাত্রিক জ্ঞানসাধক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *