ডা. মেরি পুন্নেন লুকোস: চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের ইতিহাস গড়া এক পথিকৃৎ নারী।

ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন অনেক নারী রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের সময়ের সামাজিক বাধা অতিক্রম করে শুধু চিকিৎসক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হননি, বরং গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ডা. মেরি পুন্নেন লুকোসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে জন্ম নেওয়া এই নারী এমন এক সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পা রাখেন, যখন ভারতের বহু জায়গায় মেয়েদের উচ্চশিক্ষাই ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা। অথচ তিনি সেই সময়েই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন, গাইনোকলজি ও অবস্টেট্রিক্সে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন এবং দেশে ফিরে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

পরবর্তীকালে তিনি তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেন, সার্জন জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সঙ্গে আইনসভার সদস্য হয়েও জনস্বাস্থ্য নীতিতে ভূমিকা রাখেন। তাঁর কর্মজীবন তাই শুধুমাত্র চিকিৎসার ইতিহাস নয়—এটি নারীশিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক নেতৃত্বেরও ইতিহাস।

জন্ম ও পারিবারিক পরিবেশ

মেরি পুন্নেন লুকোসের জন্ম ১৮৮৬ সালের ২ আগস্ট তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুরের বর্তমান কেরলের কোট্টায়াম জেলার আয়মানমে।

তাঁর বাবা টি. ই. পুন্নেন ছিলেন তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুরের একজন চিকিৎসক এবং রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসা পরিষেবায় কাজ করেছিলেন। বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল।

চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে পরিচিত একটি পরিবারে বেড়ে ওঠায় মেরির মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা এবং চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের সামাজিক পরিস্থিতি তাঁর সামনে সহজ পথ তৈরি করেনি।

ভারতে বাধা, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

মেরি উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারতে মহিলাদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

তিনি ত্রিবাঙ্কুরের মহারাজা কলেজে বিজ্ঞান পড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু নারী হওয়ার কারণে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে তিনি ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯০৯ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতকদের অন্যতম হওয়ার পাশাপাশি ত্রিবাঙ্কুরের প্রথম মহিলা স্নাতক হিসেবে পরিচিতি পান।

কিন্তু ইতিহাস পড়ে থেমে যাওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

লন্ডনে চিকিৎসাশিক্ষা

মেরি লন্ডনে যান এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের একটি জীবনীমূলক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ১৯১৫ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন এবং পরে আয়ারল্যান্ডের Rotunda Hospital-এ obstetrics ও gynaecology-তে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি লন্ডনের বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবাতেও কাজ করেন।

অর্থাৎ চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করেই তিনি কেবল নিজের কর্মজীবনের কথা ভাবেননি; যুদ্ধকালীন চিকিৎসা পরিষেবাতেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।

দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

১৯১৬ সালে বাবার মৃত্যুর খবর পান মেরি। সেই সময় তিনি চাইলে ব্রিটেনেই থেকে যেতে পারতেন।

কিন্তু তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল নিজের দেশের মহিলাদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবায় কাজ করা। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে—উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর নিজের অর্জনকে সমাজের কাজে ব্যবহার করা।

দেশে ফিরে তিনি ত্রিবাঙ্কুরে চিকিৎসা পরিষেবায় যোগ দেন।

প্রথমদিকে বাধাও এসেছিল

দেশে ফিরে মেরি যে সহজেই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন, তা নয়।

থাইকাউডের Women and Children’s Hospital-এ চিকিৎসকের পদে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ওই পদটি ইউরোপীয়দের জন্য সংরক্ষিত থাকার কারণে তাঁর নিয়োগ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। পরে ত্রিবাঙ্কুর রাজপরিবারের সমর্থনে তিনি সেখানে কাজের সুযোগ পান।

এই ঘটনা সেই সময়ের ঔপনিবেশিক বৈষম্যের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন ভারতীয় নারীকে কেবল পরিচয় ও লিঙ্গের কারণে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল।

কিন্তু সেই বাধা তাঁর কর্মজীবন থামাতে পারেনি।

চিকিৎসায় নতুন অধ্যায়

মেরি পুন্নেন লুকোস দ্রুতই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।

কেরলের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত একটি বিশদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি কেরলে প্রথম দিকের সিজারিয়ান অপারেশনগুলির অন্যতম পরিচালনা করেছিলেন এবং প্রসূতি পরিষেবাকে আরও নিরাপদ করার জন্য প্রশিক্ষিত ধাত্রী বা midwife তৈরির উদ্যোগ নেন।

তখন প্রসবের সময় চিকিৎসা পরিষেবা আজকের মতো সহজলভ্য ছিল না। গ্রামাঞ্চল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশিক্ষিত প্রসূতি-সহায়িকার অভাব ছিল।

মেরি বুঝেছিলেন, শুধু বড় হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বাড়ালেই হবে না। প্রসবের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও জরুরি।

এই চিন্তা তাঁর জনস্বাস্থ্য-দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্ব

১৯২৪ সালে মেরি পুন্নেন লুকোস ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে আসেন।

তিনি ছিলেন তৎকালীন রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে থাকা প্রথম মহিলা। তাঁর দায়িত্ব ছিল শুধুমাত্র চিকিৎসা করা নয়—হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকা।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধে তাঁর কাজের উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নজর রাখতেন। তাঁর উদ্যোগে নাগেরকোয়িলে একটি যক্ষ্মা স্যানেটোরিয়াম এবং তিরুবনন্তপুরমে X-Ray ও Radium Therapy Institute গড়ে ওঠে।

এই উদ্যোগগুলি সেই সময়ের তুলনায় যথেষ্ট অগ্রসর চিন্তার পরিচয় বহন করে।

সার্জন জেনারেলের পদে

১৯৩৮ সালে মেরি পুন্নেন লুকোস ত্রিবাঙ্কুরের Surgeon General হন।

ভারত সরকারের MyGov-এর তথ্যেও তাঁকে ভারতের প্রথম মহিলা Surgeon General হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের জীবনীমূলক নথি অনুযায়ী, তাঁর অধীনে ত্রিবাঙ্কুরের বিস্তৃত স্বাস্থ্যব্যবস্থার বহু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হত।

একজন নারী চিকিৎসকের এমন প্রশাসনিক দায়িত্বে পৌঁছনো সেই সময়ে ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী।

তিনি প্রমাণ করেছিলেন, চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতা শুধু রোগীর চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন চিকিৎসক বৃহত্তর স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্বও দিতে পারেন।

চিকিৎসার সঙ্গে আইনসভায় প্রবেশ

মেরি পুন্নেন লুকোসের জীবনকে আরও অনন্য করে তুলেছিল তাঁর আইনসভার ভূমিকা।

১৯২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি তৎকালীন ত্রিবাঙ্কুর Legislative Council-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তিনি ছিলেন কোনও ভারতীয় দেশীয় রাজ্যের আইন পরিষদের প্রথম মহিলা সদস্য।

অর্থাৎ একজন চিকিৎসক একই সঙ্গে জননীতির ক্ষেত্রেও সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও নারীশিক্ষার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান।

তাঁর কাছে চিকিৎসা ছিল কেবল হাসপাতালের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সরকারি নীতির সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে—এই ধারণাই তাঁর কাজের মধ্যে ফুটে ওঠে।

নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রশ্ন

মেরির সময়ে মহিলাদের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সামাজিক সমস্যা ছিল।

নারী রোগীদের অনেকেই পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করতেন। ফলে মহিলা চিকিৎসকের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মেরি এই প্রয়োজনটি বুঝেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নের পক্ষেও কাজ করেন।

কেমব্রিজের গবেষণায় তাঁর জনজীবনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি মেয়েদের শিক্ষা ও মহিলাদের চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করার পক্ষে কাজ করেছিলেন।

এই কারণে তাঁর কর্মজীবনে চিকিৎসা ও নারীকল্যাণ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল।

প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আনা

মেরি পুন্নেন লুকোসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা।

X-Ray এবং Radium Therapy-এর মতো প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ করার উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন।

তখন ভারতে চিকিৎসা প্রযুক্তির পরিকাঠামো আজকের মতো উন্নত ছিল না। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরি করা মানে ছিল নতুন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।

তাঁর কাজ ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৫ সালে ভারত সরকার মেরি পুন্নেন লুকোসকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

তখন তাঁর বয়স প্রায় ৯০ বছর।

পরের বছর, ১৯৭৬ সালের ২ অক্টোবর তিনি মারা যান।

কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর অবদান চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।

এক নারীর জীবনে এতগুলি ইতিহাস

মেরি পুন্নেন লুকোসের জীবনের বিশেষত্ব হল—তাঁর কৃতিত্ব একটি মাত্র “প্রথম”-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি ছিলেন—

  • চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী পথিকৃৎ ভারতীয় নারী,
  • ত্রিবাঙ্কুরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্বদানকারী নারী,
  • প্রথম মহিলা Surgeon General-দের অন্যতম ঐতিহাসিক নাম,
  • ত্রিবাঙ্কুরের প্রথম মহিলা আইনসভার সদস্য,
  • নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সক্রিয় চিকিৎসক,
  • এবং আধুনিক জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

এই সব ভূমিকা একই জীবনে একত্রিত হওয়াই তাঁকে অনন্য করে তুলেছে।

উপসংহার

ডা. মেরি পুন্নেন লুকোসের জীবন আমাদের সামনে একটি বিশেষ ধরনের নেতৃত্বের ছবি তুলে ধরে।

তিনি শুধু নিজের জন্য চিকিৎসাশিক্ষা অর্জন করেননি। বিদেশে শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে সেই জ্ঞানকে বৃহত্তর সমাজের কাজে ব্যবহার করেছেন।

তিনি চিকিৎসক ছিলেন, কিন্তু তাঁর কাজ হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসক হয়েছেন, নতুন চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়েছেন, নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন, আইনসভায় গিয়ে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নীতি নির্ধারণে অংশ নিয়েছেন।

একজন নারী হিসেবে তাঁর সময়ের সামাজিক ও পেশাগত বাধা ছিল যথেষ্ট। তবু তিনি প্রতিটি পর্যায়ে নিজের দক্ষতা দিয়ে নতুন জায়গা তৈরি করেছেন।

আজকের আধুনিক কেরলের উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে তাকালে বহু মানুষের অবদান সামনে আসে। সেই ইতিহাসের প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতাদের মধ্যে ডা. মেরি পুন্নেন লুকোসের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তাঁর জীবন দেখায়, একজন চিকিৎসক যখন সমাজের বৃহত্তর সমস্যাগুলিকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন তাঁর কাজ একজন রোগীকে সুস্থ করার সীমা ছাড়িয়ে একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।

মেরি পুন্নেন লুকোস সেই অর্থে শুধু একজন চিকিৎসক নন—তিনি ছিলেন চিকিৎসা, প্রশাসন এবং জনকল্যাণকে একসূত্রে যুক্ত করা এক অসাধারণ পথিকৃৎ নারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *