
বিজ্ঞানের অনেক গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষের চোখে সরাসরি ধরা পড়ে না। কোনও আবিষ্কার হয়তো গবেষণাগারের মধ্যে শুরু হয়, বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে, তারপর তার ফল পৌঁছয় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এমন গবেষণার মূল্য বোঝা যায় অনেক পরে—যখন তা অসংখ্য মানুষের জীবনকে নিরাপদ করে।
ড. গগনদীপ কাং এমনই এক বিজ্ঞানী। শিশুদের সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে অন্ত্রের সংক্রমণ, রোটাভাইরাস, টাইফয়েড এবং টিকা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ভারতীয় জনস্বাস্থ্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তাঁর কাজের বিশেষত্ব ছিল গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারের মধ্যে আটকে না রেখে মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করা। রোগ কতটা ছড়াচ্ছে, কোন বয়সের শিশু বেশি ঝুঁকিতে, সংক্রমণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী এবং টিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর—এই সব প্রশ্নকে তিনি একই গবেষণার পরিসরের মধ্যে এনেছেন। রয়্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণা সংক্রমণ, শিশুদের বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তিনি ভারতে রোটাভাইরাস ও টাইফয়েডের নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
চিকিৎসাবিদ্যা থেকে গবেষণার পথে
গগনদীপ কাং চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করেন Christian Medical College, Vellore-এ। তিনি ১৯৮৭ সালে MBBS, ১৯৯১ সালে Microbiology-তে MD এবং ১৯৯৮ সালে PhD সম্পন্ন করেন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও করেন। এরপর তিনি ভারতে ফিরে এসে গবেষণার কাজে আরও গভীরভাবে যুক্ত হন।
এই শিক্ষাজীবন থেকেই তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়—তিনি চিকিৎসা ও মৌলিক বিজ্ঞানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।
একজন চিকিৎসক রোগীর শরীরে রোগের লক্ষণ দেখেন। একজন গবেষক সেই রোগের কারণ, বিস্তার এবং প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করেন। গগনদীপ কাং এই দুই ভূমিকাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন।
শিশুদের সংক্রামক রোগ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা
ভারতে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া ও অন্ত্রের সংক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্যের বড় সমস্যা। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে তীব্র ডিহাইড্রেশন দ্রুত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
গগনদীপ কাং-এর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে রোটাভাইরাস।
রোটাভাইরাস শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ। এই ভাইরাস নিয়ে ভারতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, রোগের বিস্তার পর্যবেক্ষণ এবং টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গবেষণায় রোগের প্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের ধরন ও পরিবর্তন নিয়েও কাজ হয়েছে।
রোটাভাইরাস গবেষণায় ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা
টিকা তৈরি শুধু একটি গবেষণাগারে ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা করার বিষয় নয়।
একটি কার্যকর টিকা তৈরি করতে জানতে হয়—কোন ধরনের ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে, শরীর কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, টিকা নিরাপদ কি না এবং বাস্তব জনসংখ্যায় তা কতটা কার্যকর।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল গগনদীপ কাং-এর কাজ।
রয়্যাল সোসাইটির মতে, তিনি জাতীয় রোটাভাইরাস ও টাইফয়েড নজরদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, টিকা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগার গড়ে তুলেছেন এবং টিকার বিভিন্ন পর্যায়ের clinical trial পরিচালনায় অংশ নিয়েছেন। এই সমন্বিত গবেষণার সঙ্গে ভারতে তৈরি দুটি WHO pre-qualified রোটাভাইরাস টিকার উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণাগার থেকে মাঠপর্যায়ে
গগনদীপ কাং-এর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল community-based research।
শুধু হাসপাতালের রোগীদের তথ্য নিয়ে কোনও রোগকে বোঝা যায় না। একটি রোগ সমাজে কীভাবে ছড়ায়, কোন পরিবেশে তার ঝুঁকি বেশি এবং শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে তার কী প্রভাব পড়ে—এসব বুঝতে হলে গবেষণাকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হয়।
তাঁর গবেষণায় সংক্রমণের সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি, বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি তাঁর গবেষণার এই আন্তঃবিষয়ক দিকটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।
অর্থাৎ তাঁর কাছে একটি সংক্রমণ শুধু কয়েক দিনের অসুস্থতা নয়; শিশুর দীর্ঘমেয়াদি জীবনের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাবও গবেষণার বিষয়।
টিকার কার্যকারিতা যাচাই
টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের আলোচনায় প্রায়ই একটি প্রশ্ন থাকে—টিকা তৈরি হলেই কি কাজ শেষ?
বিজ্ঞান বলছে, না।
টিকার নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে তার কার্যকারিতা যাচাই করতে দীর্ঘ ও নিয়ন্ত্রিত গবেষণা দরকার।
গগনদীপ কাং এই clinical research-এর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। রোটাভাইরাসের পাশাপাশি কলেরা ও টাইফয়েডের টিকা এবং সংক্রামক রোগের নজরদারি নিয়েও তাঁর কাজ রয়েছে। Infosys Prize-এর প্রোফাইলেও তাঁর গবেষণার এই বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরা হয়েছে।
একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০১৯ সালে গগনদীপ কাং রয়্যাল সোসাইটির Fellow নির্বাচিত হন।
রয়্যাল সোসাইটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। তাঁর নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ তিনি প্রথম ভারতীয় নারী যিনি এই Fellowship অর্জন করেন। ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরও তাঁর এই অর্জনকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছে।
এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণার স্বীকৃতি ছিল না। ভারতের জনস্বাস্থ্য গবেষণা, সংক্রামক রোগের বিজ্ঞান এবং টিকা গবেষণার আন্তর্জাতিক গুরুত্বও এর মাধ্যমে সামনে আসে।
Infosys Prize
২০১৬ সালে গগনদীপ কাং Infosys Prize in Life Sciences পান।
এই পুরস্কার তাঁকে রোটাভাইরাস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের natural history বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
গবেষণার জগতে এই ধরনের পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও গগনদীপ কাং-এর কাজের আসল মূল্য তার বাস্তব প্রয়োগে।
একটি শিশুর সংক্রমণ কমানো, একটি টিকার কার্যকারিতা বোঝা কিংবা কোনও রোগের বিস্তার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য তৈরি করা—এই প্রতিটি কাজের প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনেই পড়ে।
বিজ্ঞানীদের নতুন প্রজন্ম তৈরি
একজন বিজ্ঞানীর অবদান শুধু তাঁর নিজের গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি যদি নতুন প্রজন্মের গবেষকদের তৈরি করতে পারেন, তবে তাঁর প্রভাব বহু বছর ধরে চলতে থাকে।
গগনদীপ কাং শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য clinical translational medicine-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গড়ে তুলেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এমন গবেষক তৈরি করা, যাঁরা দেশের বাস্তব স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা করতে পারবেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নত গবেষণার জন্য শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, স্থানীয় সমস্যাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ক্ষমতাও দরকার।
মহামারির সময় বিজ্ঞান
কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংক্রামক রোগের গবেষণা ও টিকার গুরুত্ব গোটা পৃথিবী নতুন করে উপলব্ধি করে।
গগনদীপ কাং সেই সময় জনস্বাস্থ্য, টিকা এবং মহামারি প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন। তিনি জোর দিয়েছেন গবেষণা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার ওপর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের এক আলোচনায় তিনি মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।
তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল বিশেষ মূল্যবান, কারণ কয়েক দশক ধরে তিনি সংক্রামক রোগের প্রকৃতি ও টিকা নিয়ে গবেষণা করে আসছিলেন।
একজন নারী বিজ্ঞানীর পথচলা
বিজ্ঞানের জগতে নারীদের অংশগ্রহণ আজ আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু গবেষণার নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছনো এখনও সহজ নয়।
গগনদীপ কাং নিজেও নারী বিজ্ঞানীদের পেশাগত যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও অনেক নারী গবেষণায় নিজেদের সামনে এগিয়ে দিতে দ্বিধা করেন।
তাঁর নিজের কর্মজীবন সেই দ্বিধার বিপরীত একটি উদাহরণ।
তিনি গবেষণা করেছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কাজ করেছেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের Fellowship অর্জন করেছেন।
বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া
গগনদীপ কাং-এর কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—বিজ্ঞান মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
রোটাভাইরাস নিয়ে গবেষণা মানে শুধু একটি ভাইরাসের গঠন বোঝা নয়।
তার অর্থ—একজন শিশুর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমানো।
টিকার clinical trial মানে শুধু গবেষণার তথ্য সংগ্রহ নয়।
তার অর্থ—ভবিষ্যতে কোন টিকা কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করা।
শিশুদের সংক্রমণ ও পুষ্টির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা মানে শুধু বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ নয়।
তার অর্থ—একটি শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও ভালোভাবে বোঝা।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় গবেষণা
গগনদীপ কাং-এর কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতেই থেকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা।
Christian Medical College, Vellore-কে কেন্দ্র করে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে পরিচিতি পায়। তিনি WHO, Wellcome Trust এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন advisory ও scientific কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
এর ফলে ভারতীয় গবেষণাগার ও গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতারও বিস্তার ঘটেছে।
বিজ্ঞান ও মানবিক দায়বদ্ধতা
গগনদীপ কাং-এর কাজের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—তিনি বিজ্ঞানের সাফল্যকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন।
শিশুদের রোগ, অপুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন, টিকা এবং সংক্রামক রোগ—এই বিষয়গুলি আলাদা আলাদা নয়। এগুলি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
একজন শিশুর স্বাস্থ্যকে তাই শুধু একটি রোগের চিকিৎসা দিয়ে বিচার করা যায় না। তার পরিবেশ, পুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামাজিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর গবেষণাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
উপসংহার
ড. গগনদীপ কাং-এর জীবন কোনও একটি পুরস্কার বা একটি ঐতিহাসিক “প্রথম”-এর গল্প নয়।
এটি কয়েক দশকের গবেষণা, প্রশ্ন করার সাহস এবং বাস্তব সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খোঁজার গল্প।
শিশুদের সংক্রামক রোগ নিয়ে তাঁর গবেষণা, রোটাভাইরাসের নজরদারি ও টিকা গবেষণায় অবদান, clinical trials-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং তরুণ গবেষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে তিনি ভারতের জনস্বাস্থ্য গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেছেন।
২০১৯ সালে রয়্যাল সোসাইটির Fellow নির্বাচিত হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমঞ্চে আরও একটি ঐতিহাসিক পরিচয় তৈরি করেন।
তবে তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হয়তো কোনও পদক বা সম্মানে নয়।
যে গবেষণার ফল একদিন কোনও শিশুকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে, যে টিকার নিরাপত্তা যাচাই ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে, কিংবা যে তথ্য একটি দেশের জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনাকে আরও নির্ভুল করতে পারে—সেই কাজই তাঁর বিজ্ঞানচর্চার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত।
গগনদীপ কাং দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান শুধু ল্যাবরেটরির পরীক্ষা নয়। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ করার এক দীর্ঘ, ধৈর্যশীল এবং দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা।
আর সেই কারণেই ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে তাঁর নাম শুধু একজন সফল নারী বিজ্ঞানী হিসেবে নয়—গবেষণাকে মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তোলা এক অসাধারণ পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












Leave a Reply