‘স্কুলে পড়ুয়া নেই, সই করে চলে যান শিক্ষিকারা’—খবর প্রকাশের পর মালদায় আচমকা শিক্ষা দপ্তরের পরিদর্শন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— স্কুলে পড়ুয়া নেই, শিক্ষিকারা হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান—এমন অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল জেলা শিক্ষা দপ্তর। সোমবার দুপুরে ইংরেজবাজার শহরের বিএস রোডের সেন্ট্রাল স্কুল ফর গার্লস জুনিয়র হাই স্কুলে আচমকা পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি তথা এআই অফ স্কুলস শুকদেব প্রামাণিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা থাকা এই স্কুলে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র সাতজন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে নিয়মিত পঠন-পাঠন হচ্ছে না। এমনকি স্কুল খোলা থাকার নির্ধারিত সময়েও স্কুল বন্ধ থাকার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষিকারা স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় সই করে কিছুক্ষণ পরেই চলে যান বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন আচমকাই স্কুলে পৌঁছন শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে কোনও ছাত্রীই উপস্থিত নেই। উপস্থিত ছিলেন একজন শিক্ষিকা এবং একজন ক্লার্ক। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাও এদিন উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। অন্যদিকে, দুই শিক্ষিকা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে রয়েছেন বলে স্কুল সূত্রে জানানো হয়।

পরিদর্শনের সময় স্কুলের হাজিরা খাতা-সহ বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামোও পরিদর্শন করা হয় এবং উপস্থিত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

পরিদর্শক শুকদেব প্রামাণিক জানান, স্কুলের সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়েছে। এদিন স্কুলে একজন শিক্ষিকা ও একজন ক্লার্ক উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা কেউ ছুটিতে, আবার কেউ পরীক্ষার ডিউটিতে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে স্কুলে কোনও ছাত্রীকে পাওয়া যায়নি। স্কুলের পরিকাঠামো রয়েছে বলেও জানান তিনি। গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষই নেবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দাবি করেছিলেন, তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষিকারা এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। যদিও স্কুলের এক শিক্ষিকা সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, প্রধান শিক্ষিকাই নিয়মিত স্কুলে আসেন না, অন্য শিক্ষিকারা নিয়মিত স্কুলে এসে স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত থাকেন।

অন্যদিকে, স্কুলে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন মাত্র সাতজন পড়ুয়া, কেন তাঁদের নিয়মিত স্কুলমুখী করা যাচ্ছে না এবং পড়ুয়া বাড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা শিক্ষা দপ্তরের এই আচমকা পরিদর্শনের ঘটনায় এবার স্কুলের পঠন-পাঠন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি এবং পড়ুয়াদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *