পরিত্যক্ত হিন্দুস্তান কেবলসের ভবনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক তলা।

রূপনারায়ণপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর: বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান কেবলসের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) বিভাগের পরিত্যক্ত বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সোমবার দুপুরে রূপনারায়ণপুরের ওই সুবিশাল ভবনে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ভবনের একাধিক ফ্লোরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে আচমকাই ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় চিত্তরঞ্জন দমকল বাহিনীকেও খবর দেওয়া হয়।

চিত্তরঞ্জন থেকে একটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আসানসোল থেকেও দমকলের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, ভবনের দ্বিতীয় তলায় BSNL-এর একটি দফতর ভাড়া নেওয়া ছিল। ওই অংশেই আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল বলে জানা যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, কিছুদিন আগেই BSNL কর্তৃপক্ষ ওই দফতরটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

ঘটনা প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান কেবলসের আধিকারিক আর এন ওঝা জানান, ভবনে সংস্থার নিজস্ব কোনও মূল্যবান সামগ্রী ছিল না। প্রয়োজনীয় এবং দামি সামগ্রী আগেই নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানা গিয়েছে।

তবে বিভিন্ন বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত কাঠ ও ফাইবারের কেবিন, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি এমনিতেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ, আগুনের কারণ নিয়ে তদন্ত

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনমানবহীন এই পরিত্যক্ত ভবনে বহিরাগতদের আনাগোনা ছিল। সেখানে আড্ডা-সহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, কারও ফেলে দেওয়া জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেটের টুকরো থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আবার ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এগুলি আপাতত স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুমান; আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ ও দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *