
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বহু যোগ্য ভোটারের। সেই বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে পুরভোট না করার দাবি জানাল বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলি। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তকে চিঠি দিয়ে কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাল তারা। চিঠিতে স্পষ্ট দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বিশেষ পুনর্নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসএসআর) শেষ হওয়ার পরেই পুরভোট করা হোক। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই নির্বাচন হোক, অথবা নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সময়সীমা বাড়ালে সেই বর্ধিত সময়সীমার পর।
বিরোধীদের বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর জেরে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে পুরভোটের আগে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। ইতিমধ্যেই ১ অক্টোবর থেকে বাদ পড়া ভোটার এবং নতুন ও প্রথম বার ভোটদানের যোগ্য নাগরিকদের নাম তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ১ জানুয়ারি ২০২৭-কে যোগ্যতার তারিখ ধরে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ১২ নভেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন ৪ জানুয়ারি।
শুধু পুনর্নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া শেষ করার দাবিই নয়, এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করে যাঁদের মামলা এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদেরও পুরভোটের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছে বিরোধীরা। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুর এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার এবং হাওড়া পুর এলাকার প্রায় ৩৯ হাজার ভোটারের আপিল এখনও বিচারাধীন। অর্থাৎ, দুই পুর এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের ক্ষেত্রে কলকাতা জেলায় ১০০ শতাংশ এবং হাওড়ায় ৯৯ শতাংশ মামলায় আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে রায় হয়েছে। সেই যুক্তিতে বিরোধীদের বক্তব্য, বিচারাধীন আবেদনকারীদের পুরভোটের তালিকার বাইরে রাখা হলে বিধানসভা নির্বাচনের পরে দ্বিতীয় বার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
পুরভোটের ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার কথাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ২৪৩জেডএ অনুচ্ছেদ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন, ১৯৯৪-এর ৫ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বিরোধীদের দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী পুরভোটের ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সমস্ত আবেদনকারীর নাম পুরভোটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উভয় তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই পুরভোট হলে বহু যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচন করুক রাজ্য নির্বাচন কমিশন।












Leave a Reply