
গ্রামের নাম শালবনি। চারপাশে ধানখেত, মাটির রাস্তা, পুকুরপাড়ে ঝুঁকে থাকা নারকেলগাছ আর সন্ধ্যা নামলে দূর থেকে ভেসে আসা শিয়ালের ডাক—সব মিলিয়ে গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এক শান্ত পৃথিবী।
একসময় এই গ্রামে সন্ধ্যা হলেই শোনা যেত নানা রকম লোকগান। কেউ একতারা বাজিয়ে বাউলগান গাইতেন, কেউ ধামসা-মাদল নিয়ে বসতেন, আবার কখনও উঠোনে উঠোনে ছড়িয়ে পড়ত ভাটিয়ালি কিংবা পুরোনো পালাগানের সুর। গ্রামের বয়স্ক মানুষদের কাছে গান ছিল শুধু বিনোদন নয়, জীবনের দুঃখ-সুখ ভাগ করে নেওয়ার একটি ভাষা।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সুরগুলো ক্রমশ হারিয়ে যেতে লাগল।
গ্রামের অধিকাংশ তরুণ কাজের সন্ধানে শহরে চলে গেল। যাঁরা রয়ে গেলেন, তাঁদের অনেকেই মোবাইল ফোনে নতুন গান শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লেন। পুরোনো লোকগান শেখার আগ্রহ কমে গেল। গ্রামের যে কয়েকজন প্রবীণ মানুষ এসব গান জানতেন, তাঁদের অনেকেই আর আগের মতো গাইতে পারতেন না।
সেই গ্রামেরই এক কোণে থাকতেন নিতাই বাউল। বয়স প্রায় বাহাত্তর। তাঁর ঘরের দেওয়ালে ঝুলত একটি পুরোনো একতারা, পাশে রাখা থাকত কয়েকটি দোতারা ও খোল। একসময় বিভিন্ন মেলা, উৎসব এবং গ্রামের অনুষ্ঠানে তাঁর ডাক পড়ত। তাঁর গানের আসরে মানুষ রাত জেগে বসে থাকত।
এখন তাঁর উঠোনে সন্ধ্যাবেলা কেউ আসে না।
নিতাই মাঝে মাঝে একতারা হাতে নিয়ে বসতেন। তারে আঙুল ছোঁয়াতেই পুরোনো সুর জেগে উঠত, কিন্তু শ্রোতা না থাকায় কিছুক্ষণ পরেই তিনি থেমে যেতেন।
তাঁর স্ত্রী বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছেলে সঞ্জয় কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। সে বাবাকে বারবার নিজের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছে। কিন্তু নিতাই গ্রামের বাড়ি ছেড়ে যেতে চাননি।
সঞ্জয়ের ধারণা, বাবা অতীতকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন। এই গানবাজনা করে আর কী হবে? সংসারের প্রয়োজন মেটাতে তো এসব দিয়ে কিছুই হয় না।
একদিন সঞ্জয় ফোনে বলল,
—বাবা, এবার বাড়িটা বিক্রি করে দাও। এত বড় বাড়িতে তুমি একা থাকো। আমার কাছে চলে এলে অন্তত তোমার দেখাশোনা করতে পারব।
নিতাই জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
—বাড়িটা বিক্রি করলে কোথায় রাখব আমার গানগুলো?
সঞ্জয় একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
—গান কি বাড়ির মধ্যে আটকে থাকে, বাবা? গান তো ফোনেও শোনা যায়।
নিতাই আর কথা বাড়ালেন না। ফোনটা রেখে একতারা হাতে তুলে নিলেন। কিন্তু সেদিন তাঁর আঙুল যেন সুর খুঁজে পেল না।
সেই সময় গ্রামে এল তেরো বছরের মেয়ে ঐশী। তার বাবা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঐশী পড়াশোনায় ভালো, ছবি আঁকতে ভালোবাসে, আর অবসরে মোবাইলে নানা ধরনের গান শোনে। তবে গ্রামের পুরোনো গান সম্পর্কে তার কোনও ধারণা ছিল না।
এক বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার সময় সে নিতাইয়ের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ ভেসে এল এক অদ্ভুত সুর। সুরটি তার চেনা কোনও গানের মতো নয়, অথচ শুনতে শুনতে তার পা থেমে গেল।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখল, একজন বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করে একতারা বাজাচ্ছেন।
গান শেষ হলে ঐশী জিজ্ঞাসা করল,
—দাদু, এটা কোন গান?
নিতাই চোখ খুলে তাকালেন।
—এটা আমাদের গ্রামের পুরোনো গান। আমার গুরু আমাকে শিখিয়েছিলেন।
—গানটার নাম কী?
নিতাই একটু ভেবে বললেন,
—নদীর ওপারের ডাক।
ঐশী অবাক হয়ে বলল,
—এই গান আমি আগে কখনও শুনিনি। আপনি আমাকে শেখাবেন?
বহুদিন পরে নিতাইয়ের মুখে হাসি ফুটল।
—তুই গান শিখবি? এখনকার ছেলেমেয়েরা তো এসব শুনতেই চায় না।
ঐশী দৃঢ় গলায় বলল,
—আমি শুনতে চাই। আপনি যদি শেখান, আমি শিখব।
পরদিন থেকে ঐশী প্রতিদিন বিকেলে নিতাইয়ের বাড়িতে আসতে লাগল। প্রথমে সে শুধু গান শুনত। পরে নিতাই তাকে গানের কথা বোঝাতে শুরু করলেন। কোনও গানে নদীর কথা কেন এসেছে, কোনও গানে কৃষকের দুঃখ কেন ফুটে উঠেছে, আবার কোনও গানে বিচ্ছেদের ব্যথার আড়ালে কীভাবে আশার কথা লুকিয়ে আছে—সবই তিনি বুঝিয়ে বলতেন।
ঐশী বুঝতে পারল, এই গানগুলোর প্রতিটি যেন মানুষের জীবনের ছোট ছোট গল্প।
একদিন সে বলল,
—দাদু, এই গানগুলো কি কোথাও লেখা আছে?
নিতাই মাথা নাড়লেন।
—সব গান লেখা নেই। কিছু গান মনে আছে, কিছু আবার আমার গুরুদের কাছ থেকে শুনেছি। তাঁদের অনেকেই আর বেঁচে নেই।
ঐশীর মুখ মলিন হয়ে গেল।
—তাহলে আপনি ভুলে গেলে গানগুলোও হারিয়ে যাবে?
প্রশ্নটি শুনে নিতাই চুপ করে রইলেন। এত বছর ধরে তিনি গান গেয়েছেন, কিন্তু কোনও দিন ভাবেননি, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে কত গান হারিয়ে যেতে পারে।
ঐশী পরদিন একটি ছোট খাতা নিয়ে এল। বলল,
—আপনি গান গাইবেন, আমি কথা লিখে নেব। যেগুলোর কথা মনে নেই, সেগুলো আমরা অন্যদের কাছে জেনে নেব।
নিতাই প্রথমে দ্বিধা করলেও পরে রাজি হলেন।
শুরু হলো নতুন কাজ। ঐশী গানের কথা লিখত, নিতাই সুর বুঝিয়ে দিতেন। কোথাও কোনও শব্দের অর্থ নিয়ে সন্দেহ হলে গ্রামের প্রবীণ মানুষদের কাছে যেত তারা। এক বৃদ্ধা তাঁদের একটি ধানের গান শোনালেন, যা তিনি ছোটবেলায় নিজের মায়ের মুখে শুনেছিলেন। এক বৃদ্ধ কৃষক মনে করিয়ে দিলেন বীজ বোনার সময় গাওয়া একটি ছড়া। আরেকজন জানালেন, বর্ষার রাতে নৌকায় যেতে যেতে মাঝিরা যে সুরে গান ধরতেন, তার কয়েকটি পঙ্ক্তি এখনও তাঁর মনে আছে।
ঐশী সব লিখে রাখল। নিতাইয়ের অনুমতি নিয়ে তার মোবাইলে গানগুলোর অডিও রেকর্ডও করল।
কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরেই সমস্যা দেখা দিল।
ঐশীর কয়েকজন বন্ধু তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগল।
—তুই এখন বুড়োদের গান শিখছিস? এগুলো দিয়ে কী হবে? বরং নতুন গান শিখে ভিডিও বানালে অনেক মানুষ দেখবে।
ঐশী প্রথমে কিছু বলল না। কিন্তু একদিন নিতাইয়ের বাড়িতে এসে সে চুপচাপ বসে রইল।
নিতাই বুঝতে পারলেন, কিছু একটা হয়েছে।
—কী হয়েছে রে?
ঐশী সব কথা খুলে বলল।
নিতাই মৃদু হেসে বললেন,
—মানুষ যে জিনিসের মূল্য বোঝে না, তাকে নিয়ে হাসতে পারে। কিন্তু তাতে সেই জিনিসের মূল্য কমে যায় না। তবে মনে রাখিস, পুরোনো বলেই কোনও কিছু ভালো, এমন নয়। আর নতুন বলেই খারাপ, তাও নয়। যে জিনিস আমাদের জীবনের গল্প বাঁচিয়ে রাখে, তাকে বুঝে নেওয়াটাই আসল কথা।
কথাগুলো ঐশীর মনে সাহস জোগাল।
সে ঠিক করল, গ্রামের লোকগানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু খাতায় লিখে রাখলে হবে না, মানুষকে শুনতেও দিতে হবে।
ঐশী তার বাবার সাহায্য চাইল। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেননি। কিন্তু মেয়ের তৈরি খাতাটি দেখে তাঁর মন বদলে গেল। তিনি বুঝলেন, ঐশী শুধু গান শিখছে না; গ্রামের সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণের চেষ্টা করছে।
তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললেন। ঠিক হলো, স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ লোকসংগীতের পর্ব রাখা হবে। সেখানে নিতাই বাউল এবং গ্রামের অন্যান্য প্রবীণ শিল্পীরা গান শোনাবেন। ঐশীও তাঁদের কাছ থেকে শেখা একটি গান গাইবে।
অনুষ্ঠানের দিন স্কুলের মাঠে প্রচুর মানুষ জড়ো হলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, বাচ্চারা হয়তো দু-একটি পুরোনো গান গেয়ে দ্রুত অন্য অনুষ্ঠানে চলে যাবে। কিন্তু নিতাই যখন একতারা হাতে মঞ্চে উঠলেন, মাঠের পরিবেশ বদলে গেল।
তিনি গান শুরু করলেন।
সুরটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল মাঠজুড়ে। গানের মধ্যে ছিল নদীর ডাক, দূরে চলে যাওয়া মানুষের স্মৃতি, কৃষকের পরিশ্রম এবং ঘরে ফিরে আসার আকুলতা। বয়স্ক মানুষদের অনেকের চোখে জল এসে গেল। তাঁরা যেন বহু বছর পরে নিজেদের শৈশবের শব্দগুলো আবার শুনতে পেলেন।
গান শেষ হলে ঐশী মঞ্চে উঠল। তার হাতে একতারা নেই, কিন্তু পাশে বসে নিতাই তাল দিচ্ছেন। সে গাইতে শুরু করল সেই গান, যা কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম শুনে তার পা থেমে গিয়েছিল।
প্রথমে তার গলায় সামান্য কাঁপুনি ছিল। তারপর ধীরে ধীরে সে সুরের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেল।
গান শেষ হতেই মাঠে করতালির ঢেউ উঠল।
ঐশী মঞ্চ থেকে নেমে নিতাইয়ের পাশে দাঁড়াল। বৃদ্ধের চোখে তখন আনন্দের জল।
—দাদু, আজ সবাই শুনেছে!
নিতাই তার মাথায় হাত রেখে বললেন,
—আজ শুধু গান শোনেনি রে, আজ তারা নিজেদের পুরোনো দিনগুলোকে একটু ফিরে পেয়েছে।
অনুষ্ঠানের পর গ্রামের কয়েকজন যুবক ঐশীর কাছে এল। তারা বলল, তাদের দাদু-ঠাকুমারাও অনেক পুরোনো গান জানেন। চাইলে তাঁদের কাছ থেকেও গান সংগ্রহ করা যায়।
একজন প্রস্তাব দিল, গ্রামের বিভিন্ন বয়স্ক মানুষের গান রেকর্ড করে একটি ডিজিটাল সংগ্রহ তৈরি করা হোক। অন্যজন বলল, স্কুলে মাসে একদিন লোকগান শেখার আসর বসানো যায়।
এভাবেই গড়ে উঠল ‘আমাদের সুর’ নামে একটি ছোট উদ্যোগ।
কেউ গান রেকর্ড করত, কেউ গানের কথা লিখত, কেউ গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সংগ্রহ করত। গ্রামের তরুণেরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেই গানগুলির পরিচিতি তৈরি করতে লাগল। তবে তাঁরা একটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেন—প্রতিটি গান কার কাছ থেকে শেখা হয়েছে, কোন অঞ্চলে সেটি প্রচলিত এবং গানের কথা বা সুরে কোনও পরিবর্তন করা হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
নিতাই বাউল ধীরে ধীরে তাঁদের পরামর্শদাতা হয়ে উঠলেন। তিনি তরুণদের বলতেন, লোকগান শুধু সুরের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে মানুষের ভাষা, জীবনযাপন, শ্রম, আনন্দ এবং দুঃখ জড়িয়ে থাকে। তাই গান সংগ্রহ করতে গেলে গানের মানুষটিকেও জানতে হয়।
কয়েক মাস পর সঞ্জয় কলকাতা থেকে গ্রামে এল। বাবার বাড়িতে ঢুকে সে অবাক হয়ে গেল। উঠোনে কয়েকজন তরুণ বসে গান শিখছে। ঘরের মধ্যে ঐশী একটি রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করছে। দেওয়ালে টাঙানো হয়েছে গ্রামের প্রবীণ শিল্পীদের ছবি।
সঞ্জয় বাবার পাশে বসে বলল,
—বাবা, তুমি তো বলেছিলে তোমার গানগুলো বাড়ির মধ্যে আটকে আছে। এখন দেখছি, সেগুলো কত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
নিতাই হাসলেন।
—গান কখনও বাড়ির মধ্যে আটকে থাকে না, বাবা। মানুষ যদি শুনতে চায়, তবে গান নিজের পথ খুঁজে নেয়।
সঞ্জয় কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—আমি তোমার কাজটা বুঝতে পারিনি। শুধু ভেবেছিলাম, তুমি অতীত নিয়ে পড়ে আছ। বুঝিনি, তোমার স্মৃতির মধ্যে আমাদের গ্রামের কত কিছু লুকিয়ে আছে।
নিতাই ছেলের হাত ধরে বললেন,
—অতীতকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকা ভালো নয়। কিন্তু অতীত থেকে যা শেখার, তা ভুলে যাওয়াও ঠিক নয়। নতুন পথ তৈরি করতে গেলে পুরোনো পথের গল্পও জানতে হয়।
পরের বছর গ্রামের বসন্ত উৎসবে ‘আমাদের সুর’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান হলো। এবার নিতাই একা গান গাইলেন না। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উঠল ঐশী, গ্রামের কয়েকজন তরুণ এবং আরও কয়েকজন প্রবীণ শিল্পী।
শেষ গানটি ছিল গ্রামের মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে। কেউ খুব ভালো গাইতে পারেন না, কারও গলা কাঁপে, কারও সুর মাঝেমধ্যে বেসুরো হয়ে যায়। তবু সেদিন সেই গানে কোনও অসম্পূর্ণতা ছিল না। কারণ প্রত্যেকে নিজের মতো করে অংশ নিয়েছিলেন।
মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে নিতাই বুঝলেন, তাঁর গানের জীবন শেষ হয়ে আসেনি। শুধু শ্রোতার ভাষা বদলেছে, শোনার মাধ্যম বদলেছে। আর সেই নতুন ভাষার সঙ্গে পুরোনো সুরের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য দরকার ছিল একজন কৌতূহলী শ্রোতা, যে প্রশ্ন করতে ভয় পায় না।
সেই শ্রোতা ছিল ঐশী।
বছর কয়েক পরে ঐশী যখন উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য শহরে চলে গেল, তখনও ‘আমাদের সুর’ বন্ধ হলো না। নতুন প্রজন্মের কয়েকজন সেই দায়িত্ব গ্রহণ করল। নিতাইয়ের শেখানো গানগুলি রেকর্ডে রইল, খাতায় রইল, মানুষের স্মৃতিতেও রইল।
এক সন্ধ্যায় নিতাই একতারা হাতে নিয়ে উঠোনে বসেছিলেন। পাশে কয়েকটি শিশু নতুন একটি গান শিখছে। আকাশে তখন সন্ধ্যাতারা উঠেছে।
তিনি মনে মনে ভাবলেন, মানুষের জীবন একদিন থেমে যায়, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া জ্ঞান থেমে থাকে না। একটি প্রজন্মের কণ্ঠ থেকে আরেকটি প্রজন্মের কণ্ঠে পৌঁছে গেলে একটি গান নতুন জীবন পায়।
আর সেই দিন তিনি উপলব্ধি করলেন, কোনও সুরকে বাঁচিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় উপায় তাকে তালাবদ্ধ করে রাখা নয়, বরং অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।
শিক্ষা: নতুনকে গ্রহণ করা যেমন জরুরি, তেমনই নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে চিনে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের কৌতূহল একসঙ্গে কাজ করলে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যও নতুন জীবন পেতে পারে। উত্তরাধিকার মানে শুধু কিছু রেখে যাওয়া নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে তা ভালোবেসে গ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া।












Leave a Reply