
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :—- উত্তরবঙ্গে বৃহত্তম কালী পুজো বলতে আইহো বুলবুলচন্ডী।মালদার হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী বাজারে কালীপুজো মানেই বিশাল আকৃতির দেবীমূর্তি। দীর্ঘদিনের সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে এবছরও তৈরি হচ্ছে ৪২ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকার কালীপ্রতিমা। ইতিমধ্যেই পুজোকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
১৯৪৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বুলবুলচণ্ডী বাজার সার্বজনীন কালীপুজো। দীর্ঘ কয়েক দশকের এই পুজো বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই বিশাল আকৃতির দেবীমূর্তি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এবছরও বিষ্ণুর দশাবতার ও নবদুর্গার থিমে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মন্দির ও পুজো প্রাঙ্গণ।
প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন মালদার স্বনামধন্য মৃৎশিল্পী ভেলুচরণ পাল। একসময় তাঁর বাবা এই প্রতিমা তৈরি করতেন। বর্তমানে পারিবারিক সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রতিমা নির্মাণের কাজ সামলাচ্ছেন তিনি। তাঁকে সহযোগিতা করছেন তাঁর ভাইপো অমিত কুমার পাল-সহ অন্যান্য সহকর্মীরা।
পুজো কমিটি তরফে জানা গিয়েছে, বিশালাকার এই প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩ কাহন খড়, ৫০ কেজি সুতলি, ৫০ কেজি পেরেক এবং ১৫০টি বাঁশ। ইতিমধ্যেই প্রতিমা নির্মাণে শেষ মূহূতের কাজ চলছে ।
পুজোর উদ্যোক্তাদের কথায়, জমিদারি আমলে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে ছোট করে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। ধীরে ধীরে পুজোর আয়োজন ও প্রতিমার আকার বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে পুজো বড় আকার ধারণ করলেও সেই পুরনো ঐতিহ্য আজও বজায় রয়েছে।

এবছরও চন্দননগরের আকর্ষণীয় আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা বুলবুলচণ্ডী বাজার এলাকা। পাশাপাশি এই প্রতিমা ১৫ দিন থাকে মন্দিরে, পুজো উপলক্ষে চলে ১৫ দিনব্যাপী মেলা।এছাড়াও এই মায়ের বিসর্জনে বিশেষ আকর্ষণ বিশাল আকার এই মা কালী কে কোন চাকা ছাড়া দরি দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় দুই কিলোমিটার দুরে জলাশয়ে।
সব মিলিয়ে বুলবুলচণ্ডী বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোকে ঘিরে এখন সাজো সাজো রব।












Leave a Reply