হনুমান তাড়াতে শ্যুটার এনেও ব্যর্থ বন দপ্তরের কর্মীরা।

দুবরাজপুর, সেখ ওলি মহম্মদঃ- হনুমানের তাণ্ডবে তিনদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের পণ্ডিতপুর, হালসত ও দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এখনও পর্যন্ত তিনটি গ্রামের ১২ জনকে কামড়ে আহত করেছে ঐ চারটি হনুমান। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। যদিও দুবরাজপুর বন দপ্তরের কর্মীরা গতকাল থেকে রয়েছেন কিন্তু তাঁরা চারটি হনুমানকে ধরতে ব্যর্থ। তারপর গতকাল বৈকালে বর্ধমান রেঞ্জের কয়েকজন বন দপ্তরের কর্মী এবং একজন শ্যুটারকে নিয়ে আসা হয়। আজ সকাল থেকে ৬ রাউণ্ড ফায়ার করা হয়েছে তবুও হনুমান ধরতে ব্যর্থ তাঁরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিউড়ির রেঞ্জার প্রদীপ মিশ্র। তিনি জানান, আমরা পুরোদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একজন শ্যুটার রয়েছেন তবুও বর্ধমান থেকে আর একজন শ্যুটারকে ডাকা হয়েছে। যতক্ষণ না হনুমানগুলোকে আমরা ধরতে পারছি ততক্ষণ আমরা এখান থেকে যাব না। অপরদিকে গ্রামবাসীদের অভিযোগ পর্যাপ্ত কর্মী নেই। তাই হনুমানগুলোকে ধরতে পারছেন না। আমাদের দাবী পর্যাপ্ত কর্মী দিয়ে এই হনুমানগুলোর ধরার ব্যবস্থা করা।
পাশাপাশি হনুমানের আতঙ্কে গ্রামের তিনটি বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং পণ্ডিতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। হালসত গ্রামের বাসিন্দা সুমন মজুমদার জানান, পণ্ডিতপুর, হালসত ও দৌলতপুর গ্রামে তিনদিন ধরে কয়েকটা হনুমান গ্রামবাসীদের কামড়ে আহত করেছে। ফলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাই বাচ্চাদের বিদ্যালয়েও পাঠাতে ভয় করছেন। যদিও বা বন দপ্তরের কর্মীরা হনুমান তাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পণ্ডিতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অরিন্দম চ্যাটার্জি জানান, এই গ্রামে হনুমানের কামড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাই আমরা যখন বিদ্যালয়ে আসি তখন কয়েকজন গ্রামবাসী এসে আমাদের জানান আজ বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে। কারন হনুমানের আতঙ্কে বাচ্চারা কেউ ঘর থেকে বেরোতে পারছে না। আর যদি বাচ্চারা বিদ্যালয়ে আসে তাহলে ভয়ের আশংকা রয়েছে। তাই আজকের দিনটা আমরা বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছি। আমরা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে বিষয়টি জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *