১৯৭২ সালের আজকের দিনে শহীদ অজয় ভট্টাচার্য, কালাচাঁদ দালাল, মধুসূদন চ্যাটার্জী,শম্ভুসরকারকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিলো, জানা-অজানা এইরকমই বিভিন্ন শহীদদের স্মৃতিফলক উন্মোচন হলো আজ।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অতীতে খাদ্য আন্দোলন হোক বা নকশালবাড়ি কিংবা পেশাগত শ্রেণি আন্দোলন। শান্তিপুরের সর্বনন্দীপাড়া সাহাপাড়ার মতো বিভিন্ন পাড়ার যুবকরা অংশগ্রহণ করেছিলো। পরবর্তীতে তারাই বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্ব হয়ে দাঁড়ায় জেলা সহ রাজ্যের। কিন্তু সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য, মিথ্যা মামলা জেলবন্দি এমনকি মৃত্যুও হয়েছিল অনেকের। অথচ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে আন্দোলন গড়ে তোলেনি, অত্যাচারিত শোষিত লাঞ্ছিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির পথ তৈরি করেছিলো। আর এই দুঃসাহসিক কাজের জন্য, অনেকেই শহীদ হয়েছিলেন। আজ সেই কালো দিন ঐতিহাসিক ৩রা মে । ১৯৭২ সালের আজকের দিনে শহীদ অজয় ভট্টাচার্য, কালাচাঁদ দালাল, মধুসূদন চ্যাটার্জী,শম্ভুসরকারকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দ্বারা। অথচ আণবিক এবং দেশের আইন অনুযায়ী সকলেই দেশের সন্তান, তাদের হত্যা করা অমানবিক তাই নয় অগণতান্ত্রিক এবং আইন বিরোধী কাজ। শুধু এই চারজন তাই নয়, শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় শান্তিপুর সহ সমগ্র নদীয়া জেলায় হাজার হাজার শহীদ হয়েছিলেন। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিলো একটি প্রজন্মকে। তবে তাদের মধ্যে যাদের নাম এখনো পর্যন্ত পাওয়া গেছে তা সংগ্রহ করেই এক স্মৃতি ফলক বসানো হয় আজ থেকে ৪০ বছর আগে শান্তিপুর কাশ্যপপাড়া মোড়ে শহীদদের উদ্দেশ্যে তৈরি করা স্মৃতিতোড়নের গায়ে। বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষ আজ সকালে একত্রিত হয়ে স্মৃতিচারণা করেন তাঁদের মহান কর্মকান্ড এবং জীবনশৈলী নিয়ে। নকশাল অজয় ভট্টাচার্যের মূর্তিতে মাল্য দান করে, পার্শ্বস্ত স্মৃতিফলক এর উন্মোচন করা হয়।
শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে রথীন পাল চৌধুরী জানান। ১৯৭২ সালের ৩রা মে, শান্তিপুর শহরের অনতিদূরে গ্রীষ্মের ভরদুপুরে আম বাগানের ভিতরে পুলিশ ও সিআরপিএফ সঙ্গে সম্মুখ সমরে গুলি বিনিময়ে মৃত্যু হয় চার শহীদের। শুধুমাত্র তাঁরাই নন, সাধারণ মানুষকে পরিত্রান দিতে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে বহু তৎকালীন প্রতিবাদী যুবক শহীদ হয়েছিলেন যাদের সকলের নাম আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি, তবে এই স্মৃতি তোরণ এবং অজয় ভট্টাচার্যের মূর্তি এবং ছাউনি সংস্কারের মধ্য দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য এবং অত্যাচারিত মানুষের একত্রিত হওয়ার বার্তার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য এই ব্যবস্থা। শুধুমাত্র বাম মনস্করাই নন এ কাজে অনেক দক্ষিণপন্থিরাও এগিয়ে এসেছেন, শহীদদের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে। তাই দেশ এবং এ রাজ্যে যে পরিস্থিতি তাদের তৈরি হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও সেদিনের আন্দোলনই মুক্তির পথ দেখাতে পারবে বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন ।
অন্যান্য বাম ও গণতন্ত্র প্রিয় মানুষজন সর্বসাধারণে স্বার্থে সকলকে একত্রিত হওয়ার ডাক দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *