দুর্গা পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ করার সেরা উপায়।

ভূমিকা

দুর্গা পুজো বাঙালির জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই কয়েকটি দিন শুধু পূজোর নয়, একেবারে নতুন আনন্দের, হাসি-মজার, সাজগোজের আর একত্রে থাকার সময়। প্রতিবছর পুজোর দিনগুলোকে স্মরণীয় করে তুলতে আমরা অনেক কিছু করি – বন্ধুদের সঙ্গে বেরোনো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন জামা পরে প্যান্ডেল হপিং, খাওয়া-দাওয়া আর ছবি তোলা।

এবার দেখে নেওয়া যাক কীভাবে দুর্গা পুজোর দিনগুলোকে আরও আনন্দময় করে তোলা যায়।


১. প্যান্ডেল হপিং – শিল্পের শহরে এক যাত্রা

দুর্গা পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল বিভিন্ন প্যান্ডেলে ঘুরে ঘুরে দেবীকে দর্শন করা।

  • প্ল্যান তৈরি করুন: কোন কোন বিখ্যাত প্যান্ডেল (যেমন কুমোরটুলি, বাগবাজার, কলেজ স্কোয়ার, দেশপ্রিয় পার্ক, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ইত্যাদি) দেখতে চান তার লিস্ট তৈরি করুন।
  • সময় বাঁচান: সকালের দিকে বা গভীর রাতে গেলে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।
  • ক্যামেরা প্রস্তুত রাখুন: প্যান্ডেলের থিম আর শিল্পীদের অসাধারণ কাজগুলো ছবি তোলার মতোই।

২. নতুন জামা – পুজোর আবেগ

দুর্গা পুজোর সময় নতুন জামা না পরলে মজা সম্পূর্ণ হয় না।

  • পূজোর শপিং আগে থেকে করুন: যাতে শেষ মুহূর্তে ভিড় এড়ানো যায়।
  • প্রতিদিন আলাদা থিম: ষষ্ঠীতে ওয়েস্টার্ন, সপ্তমীতে কুর্তি বা শাড়ি, অষ্টমীতে ঐতিহ্যবাহী লাল পাড় সাদা শাড়ি – মুড একেবারে বদলে যাবে।

৩. খাওয়া-দাওয়া – পুজোর স্বাদ

দুর্গা পুজোর দিনগুলোতে নতুন রেস্তোরাঁ ট্রাই করার সময়।

  • স্ট্রিট ফুড: ফুচকা, ঘুগনি, কাটলেট, এগ রোল – এসব না খেলে যেন পুজোই অসম্পূর্ণ।
  • মিষ্টির দোকান ঘুরে আসুন: সন্দেশ, রসগোল্লা, চমচম, নারকেল নাড়ু – সবটাই চাই।
  • ফ্যামিলি লাঞ্চ বা ডিনার: পুরো পরিবার মিলে বাইরে খেতে গেলে আলাদা আনন্দ।

৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

অনেক ক্লাবেই সন্ধ্যায় গান, নাচ, নাটক বা কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান হয়।

  • বন্ধুদের নিয়ে যোগ দিন: নিজে পারফর্ম করতে পারেন, অথবা দর্শক হয়ে উপভোগ করুন।
  • ধুনুচি নাচ ও সন্ধিপুজো: অষ্টমীর সন্ধ্যায় ধুনুচি নাচ বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য – অংশ নিলে পুজোর আবেগ আরও বেড়ে যাবে।

৫. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো

পুজো মানেই একত্র হওয়ার সময়।

  • বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা: প্যান্ডেল ঘুরে সারা রাত আড্ডা দেওয়ার আনন্দ আলাদা।
  • পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলা: একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে রাখার জন্য কিছু গ্রুপ ফটো তুলুন।

৬. সামাজিক উদ্যোগ

শুধু আনন্দ নয়, কিছু মানবিক কাজও করা যায়।

  • দরিদ্রদের সাহায্য: পুরনো জামাকাপড় বা খাবার বিতরণ করতে পারেন।
  • পুজোয় প্লাস্টিক বর্জন: পরিবেশবান্ধব পুজোর জন্য সচেতন হোন।

৭. বিসর্জনের দিন

বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় অংশ নিন, মিষ্টি মুখ করুন এবং প্রিয়জনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রণাম নিন। বিজয়ার কোলাকুলি পুজোর শেষ মুহূর্তটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে।


উপসংহার

দুর্গা পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ করার সেরা উপায় হল – নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসবে মিশিয়ে দেওয়া। প্যান্ডেল হপিং, খাওয়া-দাওয়া, ছবি তোলা, বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া – এই সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলোকে করে তুলুন অমলিন। কারণ এই কয়েকটি দিন বাঙালির ক্যালেন্ডারে শুধুই উৎসব নয়, এটি আবেগ, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *