
OLYMPUS DIGITAL CAMERA
রাজস্থানের জোধপুর শহরের হৃদয়ে অবস্থিত মেহরানগড় ফোর্ট হল ভারতীয় স্থাপত্য এবং রাজপুতানার গৌরবের এক অনন্য নিদর্শন। “ব্লু সিটি” বা নীল শহরের প্রাচীন দুর্গ হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
মেহরানগড় ফোর্ট ১৪৫৯ সালে রানা জোধ্যা মেহরা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি জোধপুরের প্রাচীন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- দুর্গটি প্রায় ১২ কিলোমিটার বর্গফল জুড়ে বিস্তৃত এবং শহরের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হিসেবে নির্মিত।
- বহু যুগ ধরে এটি রাজপুত শাসক পরিবারের আবাসস্থল ও রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
দুর্গের আকর্ষণীয় স্থান
1️⃣ মেহরানগড় ফোর্ট গেটস
দুর্গে রয়েছে বিশাল ও প্রতিরক্ষা সমৃদ্ধ দরজা, যার মধ্যে হাঁসওয়ালা দরজা, জহাঙ্গীর দরজা, ফাতেপুরা দরজা উল্লেখযোগ্য।
- দরজাগুলো তার কারুকার্য এবং শক্তিশালী স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত।
2️⃣ প্যালেস ও কোর্ট
দুর্গের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রাসাদ –
- মেহরানগড় প্যালেস – রাজা ও রানীর আবাস।
- ফিল ও জবা প্যালেস – অনন্য স্থাপত্য ও নকশা।
- ভেতরের প্রাঙ্গণ ও বারান্দা রাজপরিবারের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিফলন।
3️⃣ মিউজিয়াম
দুর্গের ভিতরে জোধপুর রাজপরিবারের মিউজিয়াম রয়েছে, যেখানে দেখা যায় –
- প্রাচীন হস্তশিল্প, রাজপুতানার অস্ত্রশস্ত্র, রাজকীয় পোশাক ও ছবি।
- এটি ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
4️⃣ দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
দুর্গের প্রাচীরের ওপর থেকে পুরো জোধপুর শহর ও মরুপর্বতের দৃশ্য দেখা যায়।
- সূর্যাস্তের সময় দুর্গটি বিশেষভাবে সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর লাগে।
⚔️ ইতিহাস ও কিংবদন্তি
মেহরানগড় ফোর্ট বহুবার আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছিল, কিন্তু শক্তিশালী প্রাচীর ও সুরক্ষার কারণে এটি দখল হয়নি।
- রানা মেহরা, রানা জসওয়ান্ট ও অন্যান্য রাজা এই দুর্গকে বহু যুগ ধরে রক্ষা করেছেন।
- এটি জোধপুরের বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক।
ভ্রমণ উপায়
- ✈️ বিমানপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর জোধপুর বিমানবন্দর, যা শহরের মাত্র ৫ কিমি দূরে।
- রেলপথে: জোধপুর রেলওয়ে স্টেশন শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫–৬ কিমি দূরে।
- সড়কপথে: জয়পুর, উদয়পুর বা পুষ্কর থেকে বাস ও ট্যাক্সিতে পৌঁছানো সহজ।
স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতি
জোধপুর শহর ও মেহরানগড়ের কাছাকাছি স্থানীয় রাজস্থানি খাবারের স্বাদ পর্যটকদের আকর্ষণ করে –
- দাল-बाटি-চুরমা, গট্টে, লাল মাস, বাটেটি চুরমা
- স্থানীয় হস্তশিল্প, নীল পেইন্টিং এবং রাজপুতানার পোশাক কেনাকাটা করা যায়।
️ উপসংহার
মেহরানগড় ফোর্ট শুধুমাত্র একটি দুর্গ নয়, এটি জোধপুর শহরের ইতিহাস, রাজপুত সাহস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য ধন। এখানে ভ্রমণ করলে আপনি ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পাবেন, রাজপুতানার স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং মরুভূমি ও শহরের অপরূপ দৃশ্যের স্বাদ নেবেন। রাজস্থানে ভ্রমণ করলে মেহরানগড় ফোর্ট দর্শন এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।












Leave a Reply