
ভারতের রাজধানী দিল্লির হৃদয়ে অবস্থিত ইন্ডিয়া গেট (India Gate) শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নয়, এটি ভারতের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক অমর প্রতীক। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এখানে আসে শহিদদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ইতিহাস ও নির্মাণ
ইন্ডিয়া গেট নির্মাণ করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শহিদ হওয়া ৭০,০০০-এর বেশি ভারতীয় সেনার স্মরণে।
- নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯২১ সালে এবং শেষ হয় ১৯৩১ সালে।
- স্থপতি ছিলেন স্যার এডউইন লুটিয়েন্স, যিনি দিল্লির আধুনিক স্থাপত্য নকশার অন্যতম স্রষ্টা।
- গেটটির উচ্চতা প্রায় ৪২ মিটার।
- এর দেওয়ালে শহিদদের নাম খোদাই করা আছে।
অমর জওয়ান জ্যোতি
ইন্ডিয়া গেটের নিচে রয়েছে অমর জওয়ান জ্যোতি, যেখানে চিরন্তন শিখা জ্বলছে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের পর থেকে।
এটি দেশের শহিদ সেনাদের স্মৃতিরক্ষার প্রতীক।
দর্শনীয় দৃশ্য
- সন্ধ্যাবেলায় ইন্ডিয়া গেট আলোয় ঝলমল করে ওঠে এবং আশেপাশের এলাকা এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
- এখানে পরিবার নিয়ে পিকনিক করা, রাস্তার ধারের খাবার খাওয়া এবং ঠান্ডা হাওয়া উপভোগ করার আলাদা আনন্দ রয়েছে।
- চারপাশের বড় লন ও রাস্তার ধারে রঙিন আলোয় সজ্জিত ফোয়ারা মনকে প্রশান্ত করে।
️ আশেপাশের আকর্ষণ
- রাষ্টপতি ভবন – ভারতের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন।
- পার্লামেন্ট হাউস – ভারতের সংসদের আসন।
- ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল – নতুনভাবে নির্মিত, শহিদদের প্রতি আরও বিস্তৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য।
️ খাবার ও কেনাকাটা
ইন্ডিয়া গেটের আশেপাশে ছোট ছোট খাবারের স্টল রয়েছে, যেখানে আপনি ভেলপুরি, আইসক্রিম, কুলফি উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও কনট প্লেসের মতো কাছাকাছি এলাকা কেনাকাটা ও খাবারের জন্য আদর্শ।
ভ্রমণ উপায়
- ✈️ বিমানপথে: ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০-৪০ মিনিটের পথ।
- মেট্রো: নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন হলো সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট বা বারখাম্বা রোড।
- সড়কপথে: ট্যাক্সি, বাস বা অটো দিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।
️ উপসংহার
ইন্ডিয়া গেট শুধু একটি মনুমেন্ট নয়, এটি দেশের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক। দিল্লি ভ্রমণে ইন্ডিয়া গেট না দেখলে ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যায়।
সন্ধ্যায় এখানে দাঁড়িয়ে আলোয় ঝলমলে গেট আর চিরন্তন শিখা দেখলে গর্বে বুক ভরে ওঠে।












Leave a Reply