
ভারতের চার ধামের একটি, দ্বারকা হল কৃষ্ণভক্তদের কাছে এক মহাপবিত্র স্থান। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন শহরটি ইতিহাস, পুরাণ এবং আধ্যাত্মিকতার এক চিরন্তন প্রতীক। দ্বারকা শুধুই একটি শহর নয়, এটি হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাজ্য – দ্বারকাধীশের রাজধাম।
ইতিহাস ও পুরাণ
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, মহাভারতের যুদ্ধের পরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরা ত্যাগ করে আরব সাগরের তীরে এই নগরী স্থাপন করেন।
- একে বলা হয় “সোনার দ্বারকা”, কারণ সেই সময় শহরটি ছিল সমৃদ্ধশালী ও সোনালি প্রাসাদে ভরপুর।
- কথিত আছে, কৃষ্ণের মহাপ্রয়াণের পর দ্বারকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
- আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সমুদ্রগর্ভে প্রাচীন দ্বারকার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
️ দ্বারকাধীশ মন্দির
দ্বারকার প্রধান আকর্ষণ হল দ্বারকাধীশ মন্দির।
- মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৭৮ মিটার, আরব সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে।
- মন্দিরের সাততলা স্থাপত্য সূক্ষ্ম খোদাই করা পাথরের কাজের জন্য বিখ্যাত।
- গরভগৃহে ভগবান কৃষ্ণ দ্বারকাধীশ রূপে বিরাজমান।
- সন্ধ্যার আরতি ও শঙ্খধ্বনি এখানে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
গোমতী ঘাট
দ্বারকাধীশ মন্দিরের কাছে রয়েছে গোমতী ঘাট, যেখানে ভক্তরা স্নান করে পুণ্যলাভ করেন।
- গোমতী নদী এখানে এসে সমুদ্রে মিশেছে।
- সূর্যাস্তের সময় গোমতী ঘাট থেকে মন্দিরের দৃশ্য অবিস্মরণীয়।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
দ্বারকায় এসে শুধু মন্দির দর্শন করলেই হবে না, আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখা উচিত –
- রুক্মিণী দেবী মন্দির – কৃষ্ণপত্নী রুক্মিণীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত এক প্রাচীন মন্দির।
- নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ – বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি।
- বেট দ্বারকা দ্বীপ – সমুদ্র পেরিয়ে নৌকায় যেতে হয়, কথিত আছে এখানে কৃষ্ণ তাঁর পরিবারসহ বাস করতেন।
- গোপী তালাও – যেখানে গোপীরা কৃষ্ণকে দর্শন করতে আসতেন।
️ ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টি দ্বারকা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
- এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
- জন্মাষ্টমীর সময় শহরজুড়ে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
কীভাবে পৌঁছাবেন
- সড়কপথে: দ্বারকা গুজরাটের প্রধান শহর রাজকোট থেকে প্রায় ২২৫ কিমি দূরে।
- রেলপথে: দ্বারকার নিজস্ব রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে।
- বিমানপথে: সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর জামনগর (প্রায় ১৩০ কিমি দূরে)।
উপসংহার
দ্বারকা ভ্রমণ মানে শুধুই একটি শহর দেখা নয়, বরং কৃষ্ণের যুগে ফিরে যাওয়া। এখানে এসে মনে হয় যেন মহাভারতের সেই যুগ আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের ঢেউ, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি আর ভক্তদের কীর্তনে দ্বারকা এক মহাপুণ্য তীর্থে পরিণত হয়, যা প্রতিটি ভক্ত ও পর্যটকের হৃদয়ে আজীবন থেকে যায়।












Leave a Reply