সাত সকালে গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো সাঁকরাইলে পরিবারের দাবি চিকিৎসকের গাফিলতিতে গোপাল পোদ্দার এর মৃত্যু ।

প্রকাশ কালি ঘোষাল, হাওড়া : – ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সাঁকরাইল হাজী এসটি মল্লিক হসপিটালে । চিকিৎসকের দেরিতে আশা এবং ওয়ার্ডবয়ের ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ অস্বীকার করে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি চিকিৎসক যথাসময়েই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। তারপরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জেরে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ভোরবেলা পেটে ব্যথার কারণে সাঁকরাইল থানা অন্তর্গত বানিপুর ২ পঞ্চায়েতের শীতলাতলার বাসিন্দা গোপাল পোদ্দারকে(৩১) সাঁকরাইল গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ দীর্ঘ সময় কোন চিকিৎসক গোপালকে দেখতে আসেননি। জরুরী বিভাগে নিয়ে আসার পরেই সেখানে এক ওয়ার্ডবয় রোগীকে কিছু ওষুধ দেন। এরপরেও বেশ কিছু সময় পরে চিকিৎসক এসে রোগীকে পর পর তিনটি ইঞ্জেকশন দেন। ইঞ্জেকশন দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গোপালের পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সাঁকরাইল থানার প্রশাসন বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন । স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই হাসপাতালে চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে পেশায় গাড়িচালক গোপাল পোদ্দারের পরিবারে দুটি ছোট ছেলে স্ত্রী ও মা বাবা রয়েছেন। মৃতের ভাই সুরেশ পোদ্দারের অভিযোগ, দাদাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রায় এক ঘণ্টা পরে চিকিৎসক আসেন। তিনি দাদাকে কোনরকম পরীক্ষা না করেই তিনটি ইঞ্জেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাদার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা পেতে কেন এত সময় লাগলো। এছাড়াও তাঁর আরও অভিযোগ, হাসপাতালের যে রেজিস্টারে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য লেখা হয় সেখানে কাটাকাটি করে ওষুধের নাম বদল করা হয়। আমরা চাই ঘটনার প্রকৃতি তদন্ত করে দোষীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক প্রশাসন, যাতে আগামী দিনে এমন কোন ঘটনা আর না ঘটে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির সাঁকরাইলের দুই নম্বর মন্ডলের সভাপতি সত্যেন্দ্র যাদবের অভিযোগ, জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ঘুমিয়েছিলেন। তিনি অনেক দেরিতে আসেন। এছাড়াও এই মর্মান্তিক ঘটনার পরে ওই চিকিৎসক অত্যন্ত রূঢ় ব্যবহার করেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সাথে। যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, এই হাসপাতালে কোন ওয়ার্ডবয় নেই। জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে মিনিট ১৫ দেরিতে রোগী দেখতে আসেন। সেখানে তিনি রোগীকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। হাসপাতালের স্টাফ নার্স ইঞ্জেকশন দেন। তারপরেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে রোগীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের রেজিস্টারে হজমের যে ওষুধের নাম লেখা হয়েছিল, সেটির পরিবর্তে অন্য হজমের ওষুধ দেওয়া হয়। তাই ওষুধের নামটি কেটে ঠিক করে দেওয়া হয়। আমরা দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোন গাফিলতির প্রমান পাওতা গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাঁকরাইল হাজী এসটি মল্লিক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ময়না তদন্তের রিপোর্টে কি উঠে আসে সেদিকেই তাকিয়ে এখন এলাকাবাসী থেকে শুরু করে মৃতের পরিবার-পরিজনেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *