
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা:- রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি কালী মন্দির এলাকায় রেশন বিতরণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়াল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ, সরকারি রেশনের আওতায় যে গম বিতরণ করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রচুর পোকা ও নিম্নমানের শস্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে সরব হন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে রেশন সংগ্রহ করার পর তাঁরা দেখতে পান যে বিতরণ করা গমের মধ্যে অসংখ্য পোকা রয়েছে এবং খাদ্যশস্যের মান অত্যন্ত খারাপ। অনেকেই অভিযোগ করেন, এই ধরনের গম মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার উপযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, এমন খাদ্যশস্য খেলে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সকলেরই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ সাহা বলেন, “সরকার গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দিচ্ছে, কিন্তু সেই খাদ্যসামগ্রী যদি এই অবস্থায় মানুষের হাতে পৌঁছায়, তাহলে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা চাই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখুন। যারা এই ধরনের নিম্নমানের খাদ্যশস্য মানুষের মধ্যে বিতরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের রেশন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগকারীদের মতে, ভালো মানের খাদ্যশস্য অন্যত্র বিক্রি করে নিম্নমানের গম ও চাল সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার দিন রেশন ডিলারের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ডিলারের আসার কথা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তিনি উপস্থিত হননি। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “আমরা গরিব মানুষ। সরকারের দেওয়া রেশনই আমাদের পরিবারের ভরসা। যদি সেই রেশনই পোকাধরা ও খারাপ মানের হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এই গম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার দায় কে নেবে?”
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে DTD News বাংলা সাংবাদিক রেশন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি ডিলারের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসীরা প্রশাসন, খাদ্য দফতর এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে সাধারণ মানুষ মানসম্মত খাদ্যশস্য পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, গ্রামবাসীদের এই অভিযোগের পর প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং রেশন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী যেন সঠিক মান বজায় রেখে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়।












Leave a Reply