
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– পাঞ্জাবে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মা ও মেয়ের কফিনবন্দি দেহ তিন দিন পর বুধবার সকালে গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। মৃতরা হলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের জনমদল গ্রামের বাসিন্দা তথা পরিযায়ী শ্রমিক পিঙ্কি খাতুন (৩৫) ও তাঁর বড় মেয়ে জবেদা খাতুন (১৫)। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে পরিবারের আরও এক কন্যাসন্তান জাহেদা খাতুন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিন কাটত পরিবারটির। বাস্তুভিটা ছাড়া তাঁদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। জীবিকার সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে পিঙ্কি খাতুন স্বপরিবারে পাঞ্জাবে বসবাস করতেন। সেখানে প্লাস্টিক সংগ্রহের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি এসেছিলেন। ভোটপর্ব শেষ হতেই ফের কাজের উদ্দেশ্যে পাঞ্জাবে ফিরে যান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার সকালে পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার ভোগপুর থানা এলাকার জম্মু জাতীয় সড়কে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানগাড়ি নিয়ে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির বাস তাঁদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই পিঙ্কি খাতুন ও তাঁর বড় মেয়ে জবেদা খাতুনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন মেজো মেয়ে জাহেদা খাতুন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর জনমদল গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকাজুড়ে। বুধবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও মেয়ের কফিনবন্দি দেহ গ্রামে আনা হলে শেষবারের মতো তাঁদের একনজর দেখতে ভিড় জমান এলাকার মানুষ। পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।












Leave a Reply