প্রথম কিস্তির পর আর ঢোকেনি বাড়ির টাকা !! অর্ধনির্মিত বাড়িতেই ত্রিপল খাটিয়ে দিন-যাপন প্রতিবন্ধী দম্পতির !!

নিজস্ব সংবদদাতা , জামুড়িয়া , পশ্চিম বর্ধমান :-সন্ধ্যা ব্যানার্জি ও সুব্রত ব্যানার্জি, উভয়ের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী। দুজনেই প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা একটি বাড়িতেই দিন যাপন করতো তারা। তাদের এই দুর্দশার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পে তাদের নাম মঞ্জুর করানো হয়। টাকাও হাতে আসে। তারপরও মেটেনি ভোগান্তি। এখনো চরম আতঙ্ক ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে প্রতিবন্ধী দম্পতিকে।
ঘটনাটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চিঁচুুড়িয়া অঞ্চলের চিঁচুুড়িয়া নিচুপাড়া এলাকার।
জামুড়িয়ার চিচুড়িয়া গ্রামের নিচুপাড়ার বাসিন্দা বছর ৫৭-র সন্ধ্যা ব্যানার্জী এবং তাঁর ৬৭ বছরের স্বামী সুব্রত ব্যানার্জী। উভয়েই বিশেষভাবে সক্ষম।
বয়সের ভার এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে দু’জনেরই কাজ করার ক্ষমতা নেই।
কোনরকমে সংসার চলে। দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা বাড়িতেই বসবাস করছিল এই দম্পতি।
স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পের অধীনে একটি বাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছিল। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেই টাকা দিয়ে পুরনো ভাঙাচোরা ঘর ভেঙে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করেন তাঁরা।
কিন্তু এরপরই থমকে যায় নির্মাণকাজ। অভিযোগ, প্রথম কিস্তির পর আর কোনো টাকা মেলেনি। ফলে অর্ধনির্মিত বাড়ির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন এই বর্ষায় কোন রকম কোন উপায় না পেয়ে অর্ধনির্মিত বাড়িতেই বাঁশ আর ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।

তবে তাদের দুর্দশা এখানেই থেমে নেই।
জানা যায়,
সন্ধ্যা দেবী প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সুব্রতবাবু বার্ধক্য ভাতা পেতেন। কিন্তু গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। কোনো রোজগার না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছে তাঁদের জীবন।

ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি জানান , ওঁদের অবস্থা খুবই খারাপ। একজন চোখে দেখতে পান না, কানে শুনতেও পান না। অন্যজনও প্রতিবন্ধী। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত বাকি আবাসনের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক যাতে অর্ধনির্মিত বাড়ির কাজ পুনরায় শুরু হয় ।

ঘটনায় বৃদ্ধ দম্পতির বিবাহিত মেয়ে জোৎস্না চক্রবর্তী কাতর কণ্ঠে জানান, অর্ধনির্মিত বাড়ির মধ্যে ত্রিপল টাঙিয়েও এই বর্ষায় রেহাই মিলছে না। ত্রিপল ফেটে ঘরের মধ্যে জল ঢুকেছে। আমার শ্বশুরবাড়ির আর্থিক অবস্থাও সেরকম নই , তবুও যতটুকু পারছি সাহায্য করছি, পাশাপাশি পাড়া প্রতিবেশীরাও বিভিন্ন রকম ভাবে আমার প্রতিবন্ধী মা-বাবাকে সাহায্য করছে। তবে এভাবে কতদিন চলবে? সরকারের কাছে আমার কাতর অনুরোধ দ্রুততার সাথে যেন বাড়ি নির্মাণের বাকি টাকা দেওয়া হয় এবং বিগত তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা ভাতার টাকাও যেন চালু করার ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চল জামুড়িয়া জুড়ে।
প্রসঙ্গে জামুড়িয়ার বিধায়ক ডঃ বিজন মুখার্জি জানান , বিষয়টি শুনেছি। জামুড়িয়ার বিডিওকে বলেছি সমস্ত বিষয়টি দেখতে। সরকারি নিয়ম মেনেই সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে।
পাশাপাশি তিনি এও বলেন বর্তমানে আমি বিধানসভায় আছি, বিধানসভা থেকে ফিরে দম্পতির বাড়ি যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *