বারবার উদ্বোধন, তবুও চালু হয়নি বৈদ্যুতিক শ্মশান চুল্লি! জমির ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ফারাক্কার প্রকল্প।

ফারাক্কা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ভোটের মুখে ঘটা করে বারবার উদ্বোধন হলেও বাস্তব চিত্রে এতটুকু বদল হয়নি। সাড়ম্বরে ফিতে কাটার পাট চুকলেও আজও চালু করা যায়নি ফারাক্কার বহুল প্রতীক্ষিত বৈদ্যুতিক শ্মশান চুল্লি। সব প্রস্তুতি এবং কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ তৈরি থাকা সত্ত্বেও কেবল জমির ছাড়পত্রের অভাবেই থমকে রয়েছে পুরো প্রকল্প। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুল্লি চালুর বিষয়ে ফের নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলো ফারাক্কায়।

আজ মঙ্গলবার সকালেই ফারাক্কার বেনিয়াগ্রাম মেলার মাঠের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন একঝাঁক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা। পরিদর্শনে ছিলেন SDO, বBL&LRO, PWD ও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি ফারাক্কা বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের প্রতিনিধি বাবলু ঘোষ।

জমি সংক্রান্ত এই বাধা দূর করতে মঙ্গলবার বিকেলেই ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার (GM)-এর সাথে দেখা করে একটি প্রতিনিধিত্বকারী দল। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ষষ্ঠী চরণ ঘোষ ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির জন্য অর্থ এবং সমস্ত নথিপত্র রেডি রয়েছে। যেহেতু এই জমিটি ফারাক্কা ব্যারেজের অধীনে, তাই আপনাদের পক্ষ থেকে অনাপত্তি পত্রটুকু পেলেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে এবং এলাকার বহু মানুষের উপকার হবে।”

প্রকল্পের মূল সমস্যা নিয়ে ফারাক্কা পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের প্রতিনিধি তথা সমাজসেবী বাবলু ঘোষ জানান, “উদ্বোধন বহুবার হলেও মূল কাজের সমাধান হয়নি। অথচ প্রাক্তন বিধায়ক মনিরুল ইসলামের আমলে এনটিপিসি (NTPC) এই ইলেকট্রিক চুল্লির জন্য ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই টাকা সম্পূর্ণ তৈরি রয়েছে। সমস্যা আটকে রয়েছে শুধু ফারাক্কা ব্যারেজের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা অনাপত্তি পত্রের জন্য। ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জমি ব্যবহারের ছাড়পত্র দিলেই অবিলম্বে চুল্লি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফারাক্কা ছাড়া পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ শেষকৃত্যের জন্য এখানে আসেন, ফলে এই চুল্লি চালু হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

ফারাক্কা ব্যারেজ অফিস পরিদর্শন করেন বিজেপির নেতা ষষ্ঠী চরণ ঘোষ, পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মদক্ষের প্রতিনিধি বাবলু ঘোষ, সমাজসেবী বরুণ ঘোষ

এখন দেখার, প্রশাসনিক এই তৎপরতার পর ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের থেকে ছাড়পত্র কবে মেলে এবং ফারাক্কাবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *