মুর্শিদাবাদে ডলি দাসের মৃত্যু, আত্মহত্যার তত্ত্ব ঘিরে পরিবারের একাধিক প্রশ্ন—ময়নাতদন্তের দিকে নজর।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মুর্শিদাবাদের নামচাচন্ড ঘোষপাড়া এলাকায় ডলি দাসের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডলি দাসের দেহ বাড়ির ভিতরে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই অবস্থায় দেহ দেখতে পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহটি সেখান থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

এখানেই উঠছে বেশ কিছু প্রশ্ন।

যে ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি ঘটনাস্থলে এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে বলে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, ফ্যান এবং খাটের উচ্চতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ডলি দাসের স্বামীর প্রথম স্ত্রী উর্মিলা দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল বলে জানা যাচ্ছে। প্রায় চার দিন আগে তিনি ফের স্বামীর বাড়িতে আসেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। খোরপোষ সংক্রান্ত একটি মামলাও রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও একটি গুরুতর দাবি সামনে এসেছে। বড় বউ উর্মিলা দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, ডলি দাস অ্যাসিড খেয়েছিলেন। যদি এই বক্তব্য সত্য হয়, তাহলে একই ঘটনায় অ্যাসিড খাওয়া এবং গলায় দড়ি দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্যের কোনওটিই এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত নয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ডলি দাসের মৃত্যু কি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে?

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে অনুপনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে দেহ মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।

এই মুহূর্তে আমাদের প্রশ্ন নয়—অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক, সেটাই দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *