নৌকাই এখন ভরসা: হাঁটুজলে ডুবল ভূতনী থানা, জলমগ্ন মানিকচকে বানভাসিদের পাশে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা:- টানা বৃষ্টি এবং গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির জেরে মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনী অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা। বসতবাড়ি, চাষের জমি থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তর—সবই এখন জলের তলায়। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, ভূতনী থানা চত্বর সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই আবহে প্রশাসনিক পরিষেবা স্তব্ধ হতে না দিয়ে অনন্য নজির গড়লেন ভূতনী থানার পুলিশ কর্মীরা। থানার চার দেওয়ালে বন্দি না থেকে নৌকাকেই এখন নিজেদের মূল কার্যালয় ও টহলদারির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছেন তাঁরা।
​থানা চত্বর ও আশেপাশের এলাকা থৈ থৈ করায় আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ পুলিশ কর্মীরা নৌকায় চড়েই নজরদারি চালাচ্ছেন। বন্যা প্লাবিত এলাকাগুলোয় ঘুরে বিপন্ন ও জলবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে আধ্যাত্মিক সাহায্যকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা। জলমগ্ন গ্রামগুলি থেকে বয়স্ক, শিশু এবং রোগীদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু বাঁধের ওপর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজের জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেশ কিছু বিশেষ নৌকা।
​জলে ডুবে থাকা এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে খোলা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর। যেকোনো আইনি সাহায্য, উদ্ধারকাজ কিংবা ত্রাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনের খবর পাওয়া মাত্রই এলাকাভিত্তিক পুলিশ কর্মীরা নৌকা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, মানবিকতার পরিচয় দিয়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিজেরাই হাঁটুজলে নেমে অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
​প্রশাসনের এই তৎপরতায় জলযন্ত্রণার মাঝেও কিছুটা আশার আলো দেখছেন ভূতনীর বানভাসি বাসিন্দারা। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নৌকা পরিষেবা ও উদ্ধারকার্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *