
মানুষের জীবন শুধু কাজ, দায়িত্ব, অর্থ উপার্জন এবং ভবিষ্যতের চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজের জন্য কিছু সময় রাখা এবং এমন কোনো কাজ করা, যা করতে ভালো লাগে। সেই প্রিয় কাজই অনেক সময় মানুষের শখ হয়ে ওঠে।
কারও শখ বই পড়া, কারও গান শোনা, কেউ ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কেউ বাগান করেন, কেউ রান্না করেন, কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, আবার কেউ পুরনো জিনিস সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন। এমনও মানুষ আছেন, যাঁরা অবসর সময়ে কবিতা লেখেন, বাদ্যযন্ত্র বাজান কিংবা নিজের হাতে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করেন।
শখের সঙ্গে সবসময় অর্থ বা পেশার সম্পর্ক থাকে না। অনেক সময় শখ এমন একটি কাজ, যা মানুষ শুধু ভালো লাগার জন্য করেন। এই ভালো লাগার কাজই জীবনের ক্লান্তির মধ্যে এনে দিতে পারে স্বস্তি, আনন্দ এবং নতুন উদ্যম।
শখ বলতে কী বোঝায়?
শখ হলো এমন একটি কাজ বা কর্মকাণ্ড, যা মানুষ নিজের আগ্রহ ও আনন্দের জন্য অবসর সময়ে করেন।
শখ পেশা নয়। একজন মানুষ গান গাইতে ভালোবাসেন বলেই যে তিনি পেশাদার গায়ক হবেন, এমন নয়। কেউ ছবি তুলতে ভালোবাসেন বলেই যে তাকে ফটোগ্রাফার হতে হবে, তাও নয়।
শখের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিজের আগ্রহকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত রাখা।
কেন মানুষের শখ থাকা দরকার?
ব্যস্ত জীবনে মানুষ প্রায়ই কাজের চাপ ও দায়িত্বের মধ্যে নিজের পছন্দকে ভুলে যান। প্রতিদিন একই রকম কাজ করতে করতে জীবন অনেক সময় একঘেয়ে হয়ে ওঠে।
এই একঘেয়েমির মধ্যে একটি প্রিয় শখ নতুন প্রাণ এনে দিতে পারে।
কাজের বাইরে এমন কিছু করার সুযোগ, যা নিজের মন থেকে করতে ভালো লাগে, মানুষকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করতে পারে।
শৈশবের শখ
শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই নানা বিষয়ে আগ্রহী হয়। কেউ সারাদিন ছবি আঁকে, কেউ খেলাধুলা করতে ভালোবাসে, কেউ গল্প বানায়, কেউ গাছপালা নিয়ে আগ্রহী হয়।
শৈশবের শখ অনেক সময় শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
তবে প্রতিটি শখকে ভবিষ্যতের পেশা বানানোর চাপ দেওয়া উচিত নয়। শিশু কোনো কাজ ভালোবাসছে মানেই তাকে সেই কাজেই ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে—এমন নয়।
শখের আনন্দটিও নিজের মধ্যে মূল্যবান।
বই পড়া একটি সুন্দর শখ
বই পড়া শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি অবসর কাটানোরও একটি সুন্দর উপায়।
গল্প, উপন্যাস, কবিতা, জীবনী, ভ্রমণকাহিনি কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক বই—বিভিন্ন ধরনের লেখা মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
তবে শখ হিসেবে বই পড়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষার চাপ বা বাধ্যতামূলক পড়াশোনার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। নিজের পছন্দের বই পড়ার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে।
বাগান করার আনন্দ
অনেক মানুষের কাছে গাছের পরিচর্যা একটি গভীর আনন্দের বিষয়।
একটি ছোট্ট গাছকে প্রতিদিন জল দেওয়া, নতুন পাতা বেরোতে দেখা, ফুল ফুটতে দেখা—এসব ছোট ঘটনা মানুষের মনে আনন্দ তৈরি করতে পারে।
বাগান করার জন্য বড় জমিরও প্রয়োজন নেই। বারান্দা, ছাদ কিংবা জানালার পাশে কয়েকটি টব দিয়েও এই শখ শুরু করা যায়।
প্রকৃতির সঙ্গে এমন যোগাযোগ মানুষকে দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যেতে পারে।
গান শোনা ও সংগীতচর্চা
সংগীত মানুষের জীবনের সঙ্গে বহুদিন ধরে জড়িয়ে আছে।
কেউ গান শুনে আনন্দ পান, কেউ নিজে গান করেন, কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজান। সংগীত অনেকের কাছে অবসর বিনোদনের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশের মাধ্যম।
একটি প্রিয় গান পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে। আবার নতুন কোনো গান মনকে অন্যরকম অনুভূতিতে ভরিয়ে দিতে পারে।
ছবি আঁকার শখ
ছবি আঁকার জন্য বড় শিল্পী হওয়ার প্রয়োজন নেই।
একটি কাগজ ও কয়েকটি রং নিয়েই কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন।
ছবি সুন্দর হলো কি না, সেটি সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আঁকার সময় মানুষ নিজের মনোযোগকে একটি নির্দিষ্ট কাজে কেন্দ্রীভূত করেন। এই প্রক্রিয়াটিই অনেকের কাছে আনন্দের।
লেখালেখির শখ
মনের কথা লিখে রাখা একটি মূল্যবান অভ্যাস হতে পারে।
কেউ ডায়েরি লেখেন, কেউ কবিতা, কেউ গল্প, কেউ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। নিজের অনুভূতি শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করার মধ্যে এক ধরনের আত্মপরিচয়ের সন্ধান রয়েছে।
আজকের দিনে ডিজিটাল নোট বা ব্যক্তিগত ব্লগের মাধ্যমেও লেখার শখ বজায় রাখা সম্ভব।
রান্না করার শখ
রান্না শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন নয়; অনেকের কাছে এটি সৃজনশীলতারও একটি মাধ্যম।
একই উপকরণ দিয়ে ভিন্ন স্বাদের খাবার তৈরি করা, নতুন রেসিপি চেষ্টা করা কিংবা পরিবারের জন্য নিজের হাতে বিশেষ কিছু রান্না করা আনন্দের হতে পারে।
রান্নার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারেন।
ছবি তোলার শখ
চারপাশের পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখতে শেখায় ফটোগ্রাফির শখ।
একটি সাধারণ রাস্তা, সূর্যাস্ত, বৃষ্টির ফোঁটা, ফুল, পাখি কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সবকিছুর মধ্যেই একজন আগ্রহী ফটোগ্রাফার বিশেষ মুহূর্ত খুঁজে পেতে পারেন।
এই শখ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকেও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
সংগ্রহ করার শখ
কেউ ডাকটিকিট সংগ্রহ করেন, কেউ পুরনো মুদ্রা, কেউ বই, কেউ পোস্টকার্ড, কেউ বিশেষ ধরনের স্মারক।
সংগ্রহের শখ শুধু বস্তু জমিয়ে রাখা নয়। প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে একটি ইতিহাস, গল্প বা স্মৃতি জড়িয়ে থাকতে পারে।
এই শখ মানুষের ধৈর্য ও অনুসন্ধিৎসাও বাড়াতে পারে।
খেলাধুলা ও শখ
খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা নয়; অনেকের কাছে এটি আনন্দের অন্যতম প্রধান উৎস।
ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার—নিজের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন খেলাকে শখ হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় থাকার একটি উপায়ও হতে পারে।
শখ ও ব্যক্তিত্ব
মানুষের শখ তার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করতে পারে।
যিনি গাছের পরিচর্যা করতে ভালোবাসেন, তার প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে। যিনি ছবি আঁকেন, তার মধ্যে দৃশ্যমান বিষয় নিয়ে বিশেষ সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। যিনি পুরনো জিনিস সংগ্রহ করেন, তিনি ইতিহাস বা স্মৃতির প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।
তবে কোনো মানুষের ব্যক্তিত্বকে শুধু তার শখ দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। শখ ব্যক্তিত্বের একটি অংশ মাত্র।
শখ এবং আত্মপরিচয়
ব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় নিজের পরিচয়কে শুধু পেশার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন।
“আমি শিক্ষক”, “আমি ব্যবসায়ী”, “আমি কর্মচারী”, “আমি সাংবাদিক”—এসব পেশাগত পরিচয়।
কিন্তু মানুষ তার পেশার বাইরেও একজন ব্যক্তি। তার পছন্দ, স্বপ্ন, আগ্রহ, সৃষ্টিশীলতা ও অনুভূতি রয়েছে।
শখ সেই ব্যক্তিগত পরিচয়কে জীবন্ত রাখে।
শখ ও একঘেয়েমি
একই কাজ প্রতিদিন করতে হলে একঘেয়েমি আসতে পারে। তখন নিজের পছন্দের কোনো কাজের জন্য সময় বের করা জীবনে বৈচিত্র্য আনতে পারে।
প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় দেওয়া সম্ভব না হলেও সপ্তাহে কয়েকদিন কিছুটা সময় রাখা যায়।
শখের জন্য অনেক সময়ের চেয়ে নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শখের জন্য সময় বের করার উপায়
অনেকেই বলেন, “সময় পাই না।”
বাস্তবে সবার সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট সময় থেকে শুরু করা যেতে পারে।
প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট গান শোনা, সপ্তাহে কয়েকদিন গাছের পরিচর্যা করা, ছুটির দিনে ছবি আঁকা কিংবা রাতে কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়া—ছোট অভ্যাসও ধীরে ধীরে বড় আনন্দের উৎস হতে পারে।
শখ যেন নতুন চাপ না হয়ে যায়
শখের উদ্দেশ্য আনন্দ। তাই শখকে সবসময় প্রতিযোগিতা বা ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়।
কেউ ছবি আঁকছেন—ছবিটি প্রদর্শনীতে যাবে কি না, তা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেউ গান করছেন—পেশাদার শিল্পী হতে হবে, এমন নয়।
শখ যদি আবার “আমাকে সেরা হতে হবে” ধরনের চাপে পরিণত হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক আনন্দ কমে যেতে পারে।
শখ থেকে পেশা
কখনও কখনও শখ পরবর্তীকালে পেশায় পরিণত হয়।
কেউ শখের বশে ছবি তুলতে শুরু করে পরে ফটোগ্রাফার হন। কেউ ব্লগ লিখতে লিখতে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেন। কেউ বাড়িতে রান্না করতে করতে খাদ্য ব্যবসা শুরু করেন।
এটি একটি সম্ভাবনা, কিন্তু বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নয়।
শখের সৌন্দর্য হলো—তা পেশা না হলেও মূল্যবান।
বয়স ও শখ
শখের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই।
শিশু, তরুণ, মধ্যবয়স্ক কিংবা প্রবীণ—যে কোনো বয়সে নতুন শখ শুরু করা যায়।
অনেক মানুষ অবসর গ্রহণের পর নতুন করে ছবি আঁকা, বাগান করা, লেখা বা সংগীতচর্চা শুরু করেন।
জীবনের কোনো পর্যায়েই “এখন আর শুরু করার সময় নেই”—এমন ভাবনা জরুরি নয়।
প্রবীণদের জীবনে শখ
অবসর জীবনে দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততা কমে যাওয়ার পর অনেক মানুষ হঠাৎ করে দীর্ঘ অবসর সময়ের মুখোমুখি হন।
এই সময়ে শখ জীবনকে অর্থপূর্ণ ও আনন্দময় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বাগান করা, পুরনো স্মৃতি লেখা, বই পড়া, গান শোনা, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়া, রান্না করা কিংবা পরিবারের ছোটদের গল্প বলা—বিভিন্ন কাজ জীবনকে সক্রিয় রাখতে পারে।
শখ ও পারিবারিক সম্পর্ক
কিছু শখ পরিবারকে আরও কাছাকাছি আনতে পারে।
পরিবারের সবাই মিলে রান্না করা, একসঙ্গে গান শোনা, বাগান করা, ছবি তোলা বা বোর্ড গেম খেলা—এসব কার্যক্রম যৌথ স্মৃতি তৈরি করে।
শখ যদি শুধু ব্যক্তিগত না হয়ে কখনও কখনও পারিবারিক আনন্দের অংশ হয়, তাহলে সম্পর্কের মধ্যেও নতুন প্রাণ আসে।
শখ ও বন্ধুত্ব
একই শখের মানুষদের মধ্যে সহজেই বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে।
যারা বই পড়তে ভালোবাসেন, তারা বই নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। যারা ছবি তোলেন, তারা একসঙ্গে ছবি তুলতে যেতে পারেন। যারা খেলাধুলা পছন্দ করেন, তারা একসঙ্গে খেলতে পারেন।
একটি সাধারণ আগ্রহ কখনও কখনও অচেনা মানুষদেরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
শখ এবং প্রযুক্তি
প্রযুক্তির কারণে আজ শখ চর্চার সুযোগ অনেক বেড়েছে।
অনলাইনে সংগীত শেখা, ছবি আঁকার টিউটোরিয়াল দেখা, লেখালেখির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা, ফটোগ্রাফির কৌশল শেখা কিংবা বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে যেন পুরো সময়টাই স্ক্রিনে না কেটে যায়, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।
শখ ও অর্থ
সব শখের জন্য বড় অর্থের প্রয়োজন নেই।
হাঁটা, লেখা, গান শোনা, কবিতা পড়া, ছবি আঁকা, রান্না কিংবা গাছের পরিচর্যার মতো অনেক শখ খুব কম খরচে করা যায়।
শখের মূল্য তার খরচে নয়; আনন্দ ও ব্যক্তিগত অর্থে।
অবশ্য কিছু শখে বিশেষ সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করা উচিত।
অন্যের শখকে সম্মান করা
আমাদের পছন্দ অন্য মানুষের পছন্দের মতো নাও হতে পারে।
কেউ ক্রিকেট দেখতে ভালোবাসেন, কেউ classical music, কেউ সিনেমা, কেউ gardening, কেউ পুরনো বই সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন।
নিজের শখকে যেমন সম্মান করা উচিত, তেমনই অন্যের শখকেও অকারণে তুচ্ছ করা উচিত নয়।
শখ ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়।
শখ ও সৃজনশীলতা
শখের সঙ্গে সৃজনশীলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
একজন মানুষ যখন নিজের মতো করে রান্না করেন, ছবি আঁকেন, গল্প লেখেন, বাগান সাজান কিংবা কোনো পুরনো জিনিস নতুনভাবে ব্যবহার করেন, তখন তিনি সৃষ্টিশীল চিন্তার সুযোগ পান।
শখ তাই শুধু বিনোদন নয়; এটি নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীলতাকে প্রকাশ করার একটি মাধ্যমও হতে পারে।
শখের মাধ্যমে নতুন কিছু শেখা
শখের আরেকটি বড় সুবিধা হলো শেখার সুযোগ।
একটি নতুন বাদ্যযন্ত্র শেখা, নতুন ভাষা শেখা, রান্নার নতুন পদ্ধতি শেখা কিংবা ফটোগ্রাফির নতুন কৌশল শেখার সময় মানুষ নিজের দক্ষতা বাড়ান।
শেখার এই প্রক্রিয়া বয়সের সঙ্গে থেমে যাওয়ার দরকার নেই।
মানুষ যতদিন শেখেন, ততদিন নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খোলা থাকে।
নিজের হারিয়ে যাওয়া শখ ফিরিয়ে আনা
অনেক মানুষের শৈশব বা যৌবনে কোনো প্রিয় শখ ছিল, কিন্তু কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে তা হারিয়ে গেছে।
কেউ একসময় কবিতা লিখতেন, কেউ ছবি আঁকতেন, কেউ গান করতেন, কেউ খেলাধুলা করতেন।
সম্ভব হলে সেই পুরনো শখের কাছে আবার ফিরে যাওয়া যায়।
হয়তো আগের মতো সময় পাওয়া যাবে না, কিন্তু সামান্য সময় দিয়েও সেই আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শখের মাধ্যমে নিজের সঙ্গে পরিচয়
ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের পছন্দ ভুলে যাই।
শখ আমাদের নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে।
কোন কাজ করতে ভালো লাগে? কোন কাজ করলে সময়ের কথা মনে থাকে না? কোন কাজ করার পর মন ভালো হয়?—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের আগ্রহ সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারে।
উপসংহার
জীবন শুধু দায়িত্ব পালনের জন্য নয়; জীবন অনুভব করারও নাম। কাজ, পরিবার, অর্থনৈতিক চিন্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ছোট শখ সেই সময়টুকুকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে।
হয়তো আপনার শখ খুব সাধারণ—সকালে গাছের যত্ন নেওয়া, সন্ধ্যায় গান শোনা, রাতে কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়া, ছুটির দিনে রান্না করা কিংবা মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলা। তবুও সেই কাজ আপনার জীবনে যে আনন্দ এনে দেয়, তার মূল্য কম নয়।
শখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী, কোনো পরিবারের সদস্য বা কোনো নির্দিষ্ট পেশার মানুষ নই; আমরা নিজেদেরও একজন মানুষ, যার নিজস্ব পছন্দ ও আনন্দ রয়েছে।
তাই ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। নতুন কোনো শখ শুরু করুন, পুরনো কোনো শখ ফিরিয়ে আনুন কিংবা বহুদিন ধরে মনে থাকা কোনো ইচ্ছাকে সুযোগ দিন।
হয়তো সেই ছোট্ট শখই আপনার জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে নতুন রঙ এনে দেবে।
কারণ জীবনের সৌন্দর্য শুধু বড় অর্জনে নয়—নিজের পছন্দের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে মন দিয়ে বাঁচার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।












Leave a Reply