
ইতিহাসের বই খুললে আমরা সাধারণত রাজা-রাজড়া, যুদ্ধ, সাম্রাজ্য, মন্দির কিংবা নগরসভ্যতার কথা পড়ি। কিন্তু একটি সভ্যতার প্রকৃত শক্তি শুধু তার রাজনীতি বা স্থাপত্যে থাকে না। মানুষ কীভাবে মাটি চাষ করত, কীভাবে ঘর বানাত, কীভাবে ধাতু গলাত, কীভাবে অস্ত্র ও কৃষির সরঞ্জাম তৈরি করত—এসবও একটি সভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের এই প্রযুক্তিগত দিকটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন প্রফেসর বিভা ত্রিপাঠী। প্রত্নতত্ত্বের পাশাপাশি প্রাচীন ধাতুবিদ্যা ও লৌহপ্রযুক্তির ইতিহাসকে গবেষণার কেন্দ্রে এনে তিনি একটি বিশেষ ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন।
তাঁর গবেষণা আমাদের সামনে এমন এক ভারতকে তুলে ধরে, যেখানে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ শুধু বসতি গড়েনি—ধাতু নিয়ে পরীক্ষা করেছে, লোহা উৎপাদন করেছে এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করেছে।
ইতিহাসের প্রতি আকর্ষণ
বিভা ত্রিপাঠীর জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে। আলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি Ancient Indian History, Culture and Archaeology নিয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে প্রত্নতত্ত্ব তাঁর বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “The Painted Grey Ware – A Protohistoric Culture”। ১৯৭৩ সালে তিনি এই গবেষণার মাধ্যমে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।
এই গবেষণার মধ্য দিয়েই প্রাচীন উত্তর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসংস্কৃতি তাঁর কাজের অন্যতম কেন্দ্রে চলে আসে।
Painted Grey Ware কী?
‘Painted Grey Ware’ বা PGW হল এক ধরনের ধূসর রঙের মৃৎপাত্র, যার গায়ে কালো রঙের নকশা দেখা যায়। উত্তর ভারতের প্রাগৈতিহাসিক ও প্রারম্ভিক ঐতিহাসিক সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এই মৃৎপাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।
একটি ভাঙা মাটির পাত্র হয়তো সাধারণ মানুষের চোখে খুব সামান্য একটি জিনিস। কিন্তু একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের কাছে সেটি হতে পারে একটি সময়ের দরজা।
মাটির পাত্রের আকৃতি, তৈরি করার পদ্ধতি, পোড়ানোর প্রযুক্তি, ব্যবহারের চিহ্ন এবং কোন স্তর থেকে সেটি পাওয়া গেছে—এসব বিশ্লেষণ করে গবেষকরা প্রাচীন মানুষের জীবন সম্পর্কে ধারণা পান।
বিভা ত্রিপাঠীর গবেষণা এই Painted Grey Ware সংস্কৃতিকে আরও গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
১৯৭৬ সালে তাঁর Painted Grey Ware – An Iron Age Culture of Northern India বইটি প্রকাশিত হয়। এই কাজ তাঁকে প্রাচীন উত্তর ভারতের প্রত্নসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম করে তোলে।
মাটির পাত্র থেকে লোহার প্রযুক্তি
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়।
তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন, প্রাচীন ভারতের মানুষ কীভাবে ধাতু ব্যবহার করত। বিশেষ করে লোহার উৎপাদন ও ব্যবহারের ইতিহাস তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
এখানেই বিভা ত্রিপাঠীর কাজ সাধারণ প্রত্নতত্ত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রযুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে ভূতত্ত্ব, ধাতুবিদ্যা, নৃতত্ত্ব এবং ঐতিহ্যগত কারিগরি জ্ঞানকে মিলিয়ে তিনি প্রাচীন প্রযুক্তির একটি বৃহত্তর ছবি তৈরি করার চেষ্টা করেন।
তাঁর গবেষণায় প্রশ্ন ছিল—প্রাচীন মানুষ কোথা থেকে লোহার আকরিক সংগ্রহ করত? কীভাবে আকরিক থেকে লোহা তৈরি করত? কী ধরনের চুল্লি ব্যবহার করত? কীভাবে লোহাকে কাজে লাগাত?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি শুধু পুরনো নিদর্শনের দিকে তাকাননি; বর্তমান সময়ে টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী লৌহকার সম্প্রদায়ের কাজও পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রত্ন-ধাতুবিদ্যার দিকে নতুন দৃষ্টি
এই গবেষণার ক্ষেত্রকে বলা হয় Archaeometallurgy—অর্থাৎ প্রত্নতত্ত্বের মাধ্যমে প্রাচীন ধাতু ও ধাতু-প্রযুক্তির ইতিহাস বোঝা।
বিভা ত্রিপাঠী এই ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষক হিসেবে পরিচিত হন।
তিনি ১৯৯১ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে Indian Archaeometallurgy নিয়ে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজন করেন। পরবর্তীতে Archaeometallurgy in India নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধাতুর ইতিহাস কেবল প্রযুক্তির ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থনীতি, কৃষি, যুদ্ধ, বাণিজ্য, পরিবেশ এবং সমাজের পরিবর্তন।
একটি অঞ্চলে লোহার ব্যবহার বাড়লে কৃষির সরঞ্জাম বদলাতে পারে। অস্ত্রের প্রযুক্তি বদলাতে পারে। বন পরিষ্কার করে নতুন বসতি গড়ে তোলার ক্ষমতা বাড়তে পারে। ফলে ধাতু-প্রযুক্তির ইতিহাস আসলে মানুষের সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাসও।
প্রাচীন লোহা তৈরির জীবন্ত স্মৃতি
বিভা ত্রিপাঠীর গবেষণার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক ছিল ঐতিহ্যবাহী লৌহকার সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা।
উত্তর ও মধ্য ভারতের কিছু অঞ্চলে বহু প্রজন্ম ধরে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে লোহা তৈরি করত। আধুনিক কারখানার প্রযুক্তি আসার পর এই প্রাচীন পদ্ধতিগুলি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।
কিন্তু গবেষকের কাছে এই কারিগরদের জ্ঞান অত্যন্ত মূল্যবান।
কারণ একটি প্রাচীন প্রযুক্তি সম্পর্কে লিখিত নথি না থাকলেও তার কিছু ব্যবহারিক জ্ঞান হয়তো কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে শত শত বছর ধরে টিকে থাকতে পারে।
এই কারণে বিভা ত্রিপাঠী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে জীবন্ত কারিগরি ঐতিহ্যকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ব ও ethnography বা নৃতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের এই সংযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সোনভদ্রের লৌহপ্রযুক্তির অনুসন্ধান
উত্তর ভারতের Vindhya-Kaimur অঞ্চলে লোহার আকরিকের উপস্থিতি এবং ঐতিহ্যবাহী লৌহকারদের কাজ নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।
সোনভদ্র অঞ্চলে পরিচালিত গবেষণায় প্রাচীন লোহা গলানোর চুল্লি, কর্মশালা, আকরিক, slag এবং তৈরি লোহার সামগ্রীর মতো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নিয়ে কাজ করা হয়। গবেষণাটি প্রাচীন লৌহপ্রযুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী লৌহশিল্পের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—প্রযুক্তিকে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না দেখে তার সঙ্গে মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক বোঝা।
লোহার আকরিক কোথায়?
কাঠ বা কয়লা কোথা থেকে আসত?
চুল্লি তৈরির উপকরণ কী?
কারা এই কাজ করত?
কীভাবে সেই জ্ঞান এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে পৌঁছেছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলিয়েই তৈরি হয় প্রাচীন প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।
ইতিহাসে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি
রাজাদের ইতিহাসে সাধারণ লৌহকারের নাম হয়তো পাওয়া যায় না।
কিন্তু রাজ্যের কৃষক যে লোহার লাঙল ব্যবহার করতেন, সৈনিক যে অস্ত্র ব্যবহার করতেন, কারিগর যে সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করতেন—সেগুলি তৈরি করেছিলেন সমাজের সাধারণ মানুষ।
বিভা ত্রিপাঠীর গবেষণা এই অদৃশ্য মানুষগুলির প্রযুক্তিগত দক্ষতাকেও ইতিহাসের আলোয় নিয়ে আসে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসচর্চাকে আরও মানবিক করে।
কারণ সভ্যতা শুধু রাজপ্রাসাদ বানায় না। সভ্যতা তৈরি হয় সেইসব মানুষের হাতেও, যাঁরা মাটি খুঁড়ে আকরিক বের করেন, আগুন জ্বালান, ধাতু গলান এবং হাতুড়ির আঘাতে তাকে প্রয়োজনীয় আকার দেন।
বই ও গবেষণার বিস্তার
বিভা ত্রিপাঠীর গবেষণার পরিধি শুধু একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে The Painted Grey Ware: An Iron Age Culture of Northern India, The Indus Terracottas, Archaeometallurgy in India, The Age of Iron in South Asia: Legacy and Tradition, History of Iron Technology in India এবং গঙ্গা অববাহিকার প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাগ্রন্থ।
তাঁর গবেষণার মধ্যে মৃৎশিল্প, ধাতু, বসতি, কৃষি, পরিবেশ এবং প্রযুক্তির ইতিহাস—বিভিন্ন বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এটি তাঁর গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শিক্ষক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা
বিভা ত্রিপাঠী দীর্ঘ সময় বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের Ancient Indian History, Culture and Archaeology বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি Professor Emeritus হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
একজন গবেষকের কাজ শুধু নিজের গবেষণাপত্র প্রকাশ করা নয়। পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের তৈরি করাও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর অধীনে বহু গবেষক প্রত্নতত্ত্ব, প্রাচীন প্রযুক্তি এবং ধাতুবিদ্যার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
এইভাবে একটি জ্ঞান শুধু একটি বইয়ের পাতায় আটকে থাকেনি; তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও প্রবাহিত হয়েছে।
ইতিহাসকে বিজ্ঞানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা
বিভা ত্রিপাঠীর কাজের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল আন্তঃবিষয়ক গবেষণা।
একদিকে প্রত্নতত্ত্ব, অন্যদিকে ধাতুবিদ্যা; কোথাও নৃতত্ত্ব, কোথাও ভূপ্রকৃতি, আবার কোথাও ঐতিহ্যগত কারিগরি জ্ঞান—এই বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে ব্যবহার করে তিনি অতীতকে বোঝার চেষ্টা করেছেন।
এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।
ইতিহাসকে শুধু পুরনো বই পড়ে বোঝা যায় না। কখনও মাটির নিচে থাকা বস্তু, কখনও আগুনে পোড়া মাটির চিহ্ন, কখনও ধাতুর রাসায়নিক গঠন, আবার কখনও কোনো কারিগর সম্প্রদায়ের জীবন্ত ঐতিহ্য—সবকিছুকেই ইতিহাসের সূত্র হিসেবে দেখতে হয়।
কেন বিভা ত্রিপাঠীর কাজ গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিষয়টি অনেক সময় আড়ালে চলে যায়।
কিন্তু একটি সভ্যতার উন্নতি বোঝার জন্য তার প্রযুক্তির ইতিহাস জানা অপরিহার্য।
বিভা ত্রিপাঠীর গবেষণা দেখিয়েছে, প্রাচীন ভারতের লোহা ও ধাতু-প্রযুক্তি নিয়ে গভীর ও পদ্ধতিগত গবেষণা করা সম্ভব।
তিনি অতীতকে কেবল ‘পুরনো সময়’ হিসেবে দেখেননি। অতীতের প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে—সেই প্রশ্নও সামনে এনেছেন।
উপসংহার
প্রফেসর বিভা ত্রিপাঠীর জীবন ও গবেষণা আমাদের ইতিহাস দেখার একটি অন্যরকম জানালা খুলে দেয়।
তিনি রাজাদের যুদ্ধের ইতিহাস লেখেননি; তিনি খুঁজেছেন সেই লোহার ইতিহাস, যার সাহায্যে সাধারণ মানুষ কৃষি করেছে, কারিগরি কাজ করেছে এবং সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোকে এগিয়ে নিয়েছে।
একটি ভাঙা মাটির পাত্র, একটি পুরনো লোহার টুকরো, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চুল্লি কিংবা কোনো প্রাচীন কারিগরি পদ্ধতি—এসবের মধ্যেও যে একটি সভ্যতার গল্প লুকিয়ে থাকতে পারে, তাঁর গবেষণা সেই সত্যকে সামনে আনে।
প্রত্নতত্ত্বের মাটির নিচে তিনি খুঁজেছেন শুধু অতীতের বস্তু নয়, মানুষের জ্ঞান।
আর সেই জ্ঞানকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সমাজের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে বিভা ত্রিপাঠী ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেছেন।
তাঁর কাজের দিকে তাকালে বোঝা যায়—ইতিহাস কেবল রাজাদের নয়, ইতিহাস সেইসব অজ্ঞাত কারিগরেরও, যাঁদের হাতের তৈরি প্রযুক্তি একটি সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
সেই বিস্মৃত প্রযুক্তির ইতিহাসকে আলোয় আনার কাজেই প্রফেসর বিভা ত্রিপাঠীর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।












Leave a Reply