নসরতপুর ফেরিঘাটে মৃত গবাদি পশুর দেহে দুর্গন্ধ, ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বিধায়কের।

পূর্বস্থলী, নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গার কচুরিপানার সঙ্গে ভেসে আসা মৃত গবাদি পশুর দেহ আটকে পড়ায় তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নসরতপুর ফেরিঘাট এলাকার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে নদী পারাপারে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও পুলিশ-প্রশাসন-সহ বিভিন্ন মহলে জানিয়েও ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তরফে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নসরতপুর ফেরিঘাটের জেটিঘাটের নীচে দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা জমে রয়েছে। তার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে গঙ্গার জলে ভেসে আসা গবাদি পশুর মৃতদেহ আটকে পড়ছে। পচন ধরায় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াতের সময় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করাও কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার সকালে আচমকাই নসরতপুর ফেরিঘাট পরিদর্শনে যান পূর্বস্থলী দক্ষিণের বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি ঘাট কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।

বিধায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘাট পরিষ্কার করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ না হলে সাধারণ মানুষকে বিনা পয়সায় ঘাট পারাপার করানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রাণকৃষ্ণ তপাদার বলেন, পবিত্র স্থানগুলিতে যাতায়াতের জন্য মানুষকে এমন দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দুদিনের মধ্যে ঘাট পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, বারবার জানানো সত্ত্বেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিধায়কের হুঁশিয়ারির পর এবার ঘাট পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয় কি না, সেদিকেই নজর এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *