বাঘা যতীনের স্মৃতিভূমি থেকে রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন ও অজয় মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি।

জামালপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঘা যতীনের স্মৃতিবিজড়িত ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরের চাষাখণ্ড গ্রাম থেকে শুরু হওয়া ‘রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা’ আরামবাগ হয়ে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে জামালপুরে এসে শেষ হয়। যাত্রাপথে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিভিন্ন দাবিতে পথসভা করা হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাঘা যতীনের রক্তে রঞ্জিত ভূমি থেকেই এই যাত্রার সূচনা হয়। এরপর আরামবাগ হয়ে যাত্রাটি পৌঁছয় মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের কর্মক্ষেত্র মায়াপুর কল্যাণ কেন্দ্রে। সেখানে প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের মূর্তিতে মাল্যদান করেন হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েতের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অশোক দাস, কল্যাণী সাহা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপক দাস, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ফাউন্ডেশনের সভাপতি জগদীশ গোড়াই-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সেখানকার সভা থেকে প্রফুল্ল চন্দ্র সেন এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী অজয় মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে এই দাবি পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান ‘রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ মঞ্চ’-এর নেতৃত্ব।

এরপর তারকেশ্বরের জয়কৃষ্ণ বাজারে প্রাক্তন মন্ত্রী রাম চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে মিছিল এগিয়ে যায় জামালপুরের দিকে। পথে গোপীনগর, দশঘড়া, চকদিঘী ও কালনা-সহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি হয়।

যাত্রাপথে বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারীদের মধ্যে অশোক দাস, দীপক দাস, জগদীশ গোড়াই, রঞ্জিত দাস, শিবু পদ পাঁজা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জামালপুর থানার সামনে স্বাধীনতা সংগ্রামী সিধু ও কানুর মূর্তিতে মাল্যদান এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যায়ের সভা শুরু হয়। ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামী দাশরথী তাতের সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অশোক দাস। পাশাপাশি সমাজবাদী ও কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেতার অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়।

সভায় প্রাক্তন আসানসোলের সাংসদ তথা শ্রমিক আন্দোলনের নেতা দেবেন সেনের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দীপক দাস, জগদীশ গোড়াই-সহ অন্যান্যরা।

রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা থেকে দামোদর নদী সংস্কারের পাশাপাশি নদীর সঙ্গে যুক্ত জলাধার ও সংশ্লিষ্ট জলসম্পদগুলির সংস্কারের দাবিও জানানো হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, নদী ও জলসম্পদ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *