যে রঙিন ছাতার নিচে আশ্রয় পেয়েছিল একটি স্বপ্ন।।

১. বৃষ্টিভেজা গ্রামের এক কোণে

পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম শালিখায় বর্ষা এলেই চারদিকে যেন অন্য এক পৃথিবী তৈরি হতো। পুকুরের জলে বৃষ্টির ফোঁটা, বাঁশবাগানের পাতায় টুপটাপ শব্দ, আর কাঁচা রাস্তার দুপাশে জমে থাকা জল—সব মিলিয়ে গ্রামের সকালগুলো হয়ে উঠত ছবির মতো সুন্দর।

কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালে একটা সমস্যা ছিল। গ্রামের অনেক শিশুকে প্রতিদিন বেশ কিছুটা পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হতো। বৃষ্টি নামলে কারও মাথায় থাকত পলিথিন, কেউ বইখাতা জামার ভিতরে লুকিয়ে ছুটত, আবার কেউ বৃষ্টির ভয়ে স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দিত।

সেই গ্রামেরই এক প্রান্তে থাকত বারো বছরের মেয়ে তৃষা। তার বাবা তপনবাবু ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালাতেন। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু তৃষার স্বপ্নে কোনও অভাব ছিল না।

সে বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চেয়েছিল।

তৃষার বিশ্বাস ছিল, গ্রামের প্রতিটি শিশুর পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু নিজের স্কুলে যাওয়ার পথেই সে প্রতিদিন দেখত, কত ছোট ছোট বাধা শিশুদের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়।

একদিন সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। তৃষা তার পুরোনো কালো ছাতাটি খুলে স্কুলের পথে বেরিয়েছিল। ছাতাটির এক পাশে ছেঁড়া কাপড়, অন্য পাশে বাঁকানো শিক। তবু সেটাই ছিল তার একমাত্র ভরসা।

স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছে সে দেখল, রাস্তার ধারে একটি ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। তার নাম পলাশ। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

তৃষা এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে? কাঁদছিস কেন?”

পলাশ চোখ মুছে বলল, “বইগুলো ভিজে যাবে দিদি। মা একটা পলিথিন দিয়েছিল, সেটাও ছিঁড়ে গেছে। আজ স্কুলে না গেলে স্যার বকবেন।”

তৃষা নিজের ছাতার দিকে তাকাল। ছাতাটি ছোট, দুজনের পক্ষে একসঙ্গে হাঁটা কঠিন। তবু সে বলল, “আয়, আমার সঙ্গে চল। বইগুলো আমার ব্যাগে ঢুকিয়ে নে।”

পলাশের মুখে হাসি ফুটল।

সেদিন দুজনে গা ঘেঁষে স্কুলে পৌঁছেছিল। তৃষার নিজের জামা ভিজে গিয়েছিল, কিন্তু পলাশের বইগুলো শুকনো ছিল।

সেই সামান্য ঘটনাই তার মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগিয়ে দিল—একটি ছাতা যদি দুজনকে রক্ষা করতে পারে, তাহলে গ্রামের অনেক শিশুর জন্য একসঙ্গে কিছু করা যায় না কেন?

২. একটি ছোট ভাবনার শুরু

পরের দিন স্কুলে টিফিনের সময় তৃষা তার বন্ধু মিতালি, রাহুল ও সায়নকে সব কথা বলল।

মিতালি বলল, “আমাদের বাড়িতেও একটা পুরোনো ছাতা আছে। কিন্তু সেটার হাতল ভাঙা।”

রাহুল সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আমার বাবার দোকানে কয়েকটা ছাতা পড়ে আছে। সেগুলো কেউ নিতে আসেনি।”

সায়ন একটু ভেবে বলল, “কিন্তু ছাতা জোগাড় করলেই তো হবে না। যাদের সত্যিই দরকার, তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

তৃষা মাথা নাড়ল। “ঠিক তাই। আমরা যদি গ্রামের এমন শিশুদের খুঁজে বের করি, যাদের বৃষ্টিতে স্কুলে আসতে সমস্যা হয়, তাহলে তাদের জন্য কিছু করতে পারি।”

চার বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করল, তারা প্রথমে নিজেদের পরিচিতদের কাছ থেকে ভালো অবস্থায় থাকা পুরোনো ছাতা সংগ্রহ করবে। তারপর সেগুলো পরিষ্কার করে, প্রয়োজন হলে মেরামত করে, যেসব শিশুর দরকার তাদের হাতে তুলে দেবে।

কিন্তু পরিকল্পনা করা যত সহজ, বাস্তবে কাজটি তত সহজ ছিল না।

প্রথম বাধা এল রাহুলের বাড়ি থেকে।

রাহুলের বাবা বললেন, “পুরোনো ছাতা বিলি করবে? ভালো কথা। কিন্তু ছাতাগুলো ঠিকঠাক আছে কি না, সেটা দেখবে কে? কারও মাথায় ভেঙে পড়লে দায়িত্ব নেবে?”

রাহুল চুপ করে গেল।

দ্বিতীয় বাধা এল গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে।

একজন বললেন, “এত ছোট বয়সে সমাজসেবা করার দরকার কী? আগে নিজেদের পড়াশোনা সামলাক।”

কেউ আবার হাসতে হাসতে বললেন, “দুটো পুরোনো ছাতা দিয়ে গ্রামের কী উন্নতি হবে?”

কথাগুলো তৃষার মনে আঘাত করেছিল। বাড়ি ফিরে সে মাকে সব বলল।

মা মন দিয়ে শুনে বললেন, “সব ভালো কাজ শুরুতেই সবাই বুঝতে পারে না। কিন্তু মনে রাখিস, মানুষের উপকার করতে গেলে শুধু আবেগ থাকলেই হয় না। দায়িত্ববোধও থাকতে হয়।”

তৃষা জিজ্ঞেস করল, “তাহলে কী করব মা?”

মা বললেন, “প্রথমে কাজটা ছোট করে শুরু কর। বড় কথা বলার আগে দেখিয়ে দে, তোমরা কী করতে পারো।”

সেই রাতে তৃষা তার খাতায় একটি তালিকা তৈরি করল। সেখানে লেখা ছিল—ছাতা সংগ্রহ, ছাতা পরীক্ষা, পরিষ্কার করা, মেরামতের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় শিশুদের তালিকা এবং বড়দের অনুমতি।

পরদিন সে তালিকাটি বন্ধুদের দেখাল। এবার তাদের কাজের মধ্যে একটা স্পষ্ট দিশা তৈরি হলো।

৩. রঙের উৎসব

তৃষাদের স্কুলের বাংলা শিক্ষক অরিন্দমবাবু বিষয়টি জানতে পেরে খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের ভাবনাটা ভালো। তবে মনে রেখো, কারও উপকার করতে গিয়ে তাকে ছোট করা যাবে না। সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে সে নিজের সম্মান বজায় রাখতে পারে।”

তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললেন। প্রধান শিক্ষিকা অনুমতি দিলেন, তবে শর্ত রাখলেন—সব ছাতা আগে পরীক্ষা করতে হবে এবং কোনও শিশুকে তার অভাবের কথা প্রকাশ্যে বলতে বাধ্য করা যাবে না।

স্কুলের নোটিস বোর্ডে একটি ঘোষণা টাঙানো হলো:

‘বৃষ্টির দিনে স্কুলে আসা শিশুদের জন্য ব্যবহারযোগ্য পুরোনো ছাতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছাতাগুলো পরিষ্কার ও পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হবে।’

প্রথম দিন মাত্র তিনটি ছাতা এল। দ্বিতীয় দিন আরও পাঁচটি। তারপর আশ্চর্য ঘটনা ঘটল।

গ্রামের এক অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তারবাবু দশটি নতুন ছাতা দিয়ে গেলেন। স্থানীয় বইয়ের দোকানের মালিক বললেন, তিনি ছাতা কেনার জন্য কিছু টাকা দিতে চান। এক গৃহবধূ তাঁর মেয়ের ছোট হয়ে যাওয়া রঙিন ছাতাটি দিয়ে বললেন, “এটা কোনও শিশুর খুব কাজে লাগবে।”

এক সপ্তাহের মধ্যে মোট ছাব্বিশটি ছাতা জমা পড়ল।

কিন্তু তৃষা বুঝতে পারল, সব ছাতা ব্যবহারযোগ্য নয়। কয়েকটির শিক বাঁকা, কয়েকটির কাপড় ছেঁড়া, আবার কয়েকটির হাতল খুলে যাচ্ছে।

সে বন্ধুদের নিয়ে গ্রামের ছাতা মেরামতের দোকানে গেল। দোকানদার নিতাই কাকু তাদের কথা শুনে হেসে বললেন, “তোমরা শুধু ছাতা বিলি করতে চাও না, ছাতাগুলোকে নতুন জীবনও দিতে চাও দেখছি!”

তিনি কম খরচে মেরামত করতে রাজি হলেন। কয়েকটি ছাতা মেরামতের অযোগ্য হওয়ায় সেগুলো আলাদা করে রাখা হলো। বাকিগুলো পরিষ্কার করা হলো, পরীক্ষা করা হলো এবং প্রতিটি ছাতার সঙ্গে একটি ছোট রঙিন ফিতা বেঁধে দেওয়া হলো।

নীল, হলুদ, সবুজ, লাল—বিভিন্ন রঙের ফিতা দেখে ছাতাগুলোকে নতুনের মতো লাগছিল।

মিতালি বলল, “আমরা এই উদ্যোগের নাম রাখব ‘রঙিন ছাতা’।”

সবাই হাততালি দিয়ে উঠল।

৪. যে দিন সত্যিকারের পরীক্ষা এল

ছাতা বিতরণের দিন ঠিক হওয়ার আগেই আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা এল। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

পরদিন সকালেই আকাশ কালো হয়ে গেল। দুপুরের আগেই শুরু হলো প্রবল বর্ষণ।

তৃষা স্কুলের জানালা দিয়ে দেখল, রাস্তার পাশে কয়েকটি শিশু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে পলাশও রয়েছে। ছাতার অভাবে তারা বাড়ি ফিরতে পারছে না।

তৃষা শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলের বারান্দায় গেল। কিন্তু ছাতাগুলো তখনও প্রধান শিক্ষিকার ঘরে তালাবদ্ধ আলমারিতে রাখা ছিল। সেগুলো বিতরণের জন্য পরদিন একটি ছোট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তৃষা দৌড়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে গেল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আলমারি খুলে দিলেন। শিক্ষকরা ছাতাগুলো বের করে আনলেন।

কিন্তু বিতরণে একটা সমস্যা দেখা দিল। কে আগে পাবে? কার প্রয়োজন বেশি? কে দূর থেকে আসে?

তৃষা প্রস্তাব দিল, “আমরা আগে শিক্ষকদের সাহায্যে যেসব শিশুর নিয়মিত ছাতা নেই এবং যাদের বাড়ি স্কুল থেকে দূরে, তাদের ছাতা দিই। বাকিগুলো পরে প্রয়োজন বুঝে দেব।”

প্রধান শিক্ষিকা সম্মতি দিলেন।

সেদিন স্কুলের বারান্দায় কোনও মঞ্চ তৈরি হয়নি, কোনও ছবি তোলার আয়োজনও ছিল না। ছিল শুধু বৃষ্টির শব্দ আর শিশুদের হাতে একে একে তুলে দেওয়া রঙিন ছাতা।

পলাশ পেল হলুদ ফিতেবাঁধা একটি নীল ছাতা। ছাতাটি মাথার ওপর তুলে সে আনন্দে বলে উঠল, “দিদি, এবার বৃষ্টি হলেও আমি স্কুলে আসতে পারব!”

তৃষার চোখ ভিজে উঠল। বাইরে তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, যেন আকাশের মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছে।

সেদিন মোট আঠারোটি ছাতা বিতরণ করা গেল। বাকি ছাতাগুলো পরবর্তী কয়েক দিনে প্রয়োজনীয় শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হলো।

তবে কাজ শেষ হয়নি। তৃষা ও তার বন্ধুরা একটি খাতা তৈরি করল, যেখানে ছাতার সংখ্যা, অবস্থা এবং কার কাছে কোন ছাতা দেওয়া হয়েছে, তার হিসাব রাখা হলো। বর্ষা শেষ হলে ছাতাগুলো ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলো না; যাদের প্রয়োজন থাকবে, তারা ব্যবহার করতে পারবে। অন্যরা চাইলে পরের বছর পরিষ্কার ও মেরামত করে আবার এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবে।

৫. একটি ছাতার চেয়েও বড়

কয়েক মাস কেটে গেল। বর্ষা শেষ হলো। স্কুলের মাঠে আবার রোদ ঝলমল করতে লাগল।

একদিন প্রার্থনার পর প্রধান শিক্ষিকা মাইক্রোফোন হাতে বললেন, “এই বছর আমাদের স্কুলে বৃষ্টির কারণে অনুপস্থিতির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এর পেছনে শিক্ষকদের পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর উদ্যোগও রয়েছে। তারা আমাদের শিখিয়েছে, বড় কাজের জন্য সব সময় বড় অর্থের প্রয়োজন হয় না।”

তৃষা ও তার বন্ধুদের ডেকে সামনে দাঁড় করানো হলো। সবাই হাততালি দিল।

কিন্তু তৃষার সবচেয়ে ভালো লাগল অন্য একটি ঘটনা।

কয়েক দিন পর পলাশ তার হাতে একটি কাগজের খাম তুলে দিল। খামের মধ্যে ছিল একটি চিঠি। সে নিজে লিখতে শিখে তৃষাকে চিঠিটি দিয়েছে।

চিঠিতে লেখা ছিল—

‘তৃষা দিদি, আগে বৃষ্টি হলে আমার স্কুলে যেতে ভয় লাগত। এখন আর ভয় লাগে না। আমি বড় হয়ে এমন কাজ করতে চাই, যাতে অন্য কারও পড়াশোনা বন্ধ না হয়। আমার ছাতাটা আমি যত্ন করে রাখব।’

তৃষা চিঠিটি বারবার পড়ল। তারপর নিজের খাতার মধ্যে যত্ন করে রেখে দিল।

কিছুদিন পর গ্রামের আরও কয়েকজন শিশু তাদের পুরোনো স্কুলব্যাগ, জলরোধী বইয়ের খাপ এবং ব্যবহারযোগ্য জুতো সংগ্রহ করার প্রস্তাব দিল। তৃষা তাদের বলল, “সব কিছু একসঙ্গে করতে হবে না। আগে বুঝতে হবে, কার কী দরকার। তারপর যতটুকু পারি, ততটুকু করব।”

ধীরে ধীরে ‘রঙিন ছাতা’ আর শুধু ছাতা দেওয়ার উদ্যোগ রইল না। এটি হয়ে উঠল একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস।

তৃষা বুঝতে শিখল, মানুষের জীবন বদলানোর জন্য সব সময় অসাধারণ কোনও আবিষ্কার করতে হয় না। কখনও কখনও একটি ছোট কাজ, যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে করা যায়, তবে তা অনেক দূর পর্যন্ত আলো ছড়াতে পারে।

এক বর্ষার বিকেলে তৃষা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। আকাশে আবার মেঘ জমেছিল। তার হাতে সেই পুরোনো কালো ছাতাটি, যেটির নিচে একদিন পলাশ আশ্রয় পেয়েছিল।

ছাতাটির কাপড় আরও একটু জীর্ণ হয়েছে, কিন্তু তৃষা সেটি ফেলে দেয়নি।

কারণ সে জানত, এই ছাতাটি তাকে একটি মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছে—আশ্রয় দেওয়ার জন্য নিজের সব কিছু নিখুঁত হওয়া দরকার নেই। দরকার শুধু অন্যের কষ্ট বুঝতে পারা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানো।

নৈতিক শিক্ষা: মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় প্রচুর অর্থ বা বড় ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সম্মান দিয়ে করা ছোট্ট একটি উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আর প্রকৃত সাহায্য সেটাই, যা মানুষের অভাবকে প্রকাশ্যে তুলে ধরে না, বরং তার আত্মসম্মান ও স্বপ্নকে রক্ষা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *