গল্প : যে একটি খালি আসন বদলে দিয়েছিল গোটা গ্রামের ভবিষ্যৎ।।

পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম শ্যামপুরে প্রতি মাসের প্রথম রবিবার একটি সভা বসত। গ্রামের পুরোনো পাঠাগারের পাশের ঘরটিতে গোল হয়ে বসতেন গ্রামের প্রবীণ মানুষ, কয়েকজন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক এবং যুবকেরা। গ্রামের রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, উৎসব কিংবা অন্য কোনও সমস্যার কথা সেখানে আলোচনা করা হতো।

কিন্তু সভাটির একটি অদ্ভুত নিয়ম ছিল। সেখানে গ্রামের প্রায় সব শ্রেণির মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও মহিলাদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। গ্রামের অনেকেই মনে করতেন, সংসারের কাজ সামলে মহিলাদের এসব আলোচনায় আসার প্রয়োজন নেই। তাঁদের সমস্যা থাকলে বাড়ির পুরুষেরাই সভায় জানিয়ে দেবেন।

এই ধারণার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কখনও কিছু বলেননি।

গ্রামের মেয়ে সায়ন্তনী কলেজে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়ত। ছুটিতে বাড়ি ফিরলে সে প্রায়ই দেখত, গ্রামের মহিলারা পুকুরঘাটে, নলকূপের সামনে কিংবা বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে নানা সমস্যার কথা বলছেন। কারও বাড়ির সামনে বর্ষার জল জমে থাকে, কারও মেয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে অন্ধকার রাস্তা পেরোয়, আবার কারও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি জিনিস বিক্রি করার উপযুক্ত বাজার নেই।

সায়ন্তনী একদিন মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল,
—তোমরা এত সমস্যার কথা জানো, অথচ গ্রামের সভায় যাও না কেন?

মা শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলেছিলেন,
—গিয়ে কী হবে? ওখানে আমাদের কথা কেউ শুনবে না। আর আমরা বলবই বা কীভাবে? এত লোকের সামনে কথা বলার অভ্যাস নেই।

সায়ন্তনী কথাটা মনে গেঁথে রেখেছিল।

পরের মাসের প্রথম রবিবার সে গ্রামের সভায় গেল। ঘরে ঢুকে দেখল, মাঝখানে একটি বড় টেবিল। চারপাশে চেয়ার সাজানো। গ্রামের প্রধান, কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং যুবকেরা নিজেদের জায়গায় বসেছেন।

সায়ন্তনী ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে বলল,
—আমি কি এখানে বসতে পারি?

একজন প্রবীণ ব্যক্তি অবাক হয়ে তাকালেন।

—তুমি এখানে কী করবে মা? গ্রামের কাজকর্ম নিয়ে বড়দের আলোচনা চলছে।

সায়ন্তনী শান্ত গলায় উত্তর দিল,
—আমি গ্রামেরই মেয়ে। গ্রামের সমস্যা নিয়ে আমারও কিছু কথা আছে।

কথাটি শুনে কয়েকজন মুচকি হাসলেন। তবে সভার সভাপতি তাকে বসতে দিলেন। সায়ন্তনী একটি খালি চেয়ারে বসল। তার মনে হচ্ছিল, যেন সে কোনও অপরিচিত জায়গায় এসে পড়েছে।

সভায় প্রথমে রাস্তা মেরামতের কথা উঠল। তারপর বাজারের কাছে নিকাশি নালা পরিষ্কারের প্রস্তাব এল। সব আলোচনা চলল পুরুষদের মধ্যে। সায়ন্তনী কয়েকবার কথা বলতে চেয়েও থেমে গেল। কেউ তার দিকে তাকাচ্ছিলেন না, কেউ আবার এমনভাবে আলোচনা করছিলেন যেন সে সেখানে নেই।

শেষে সভাপতি বললেন,
—আর কোনও বক্তব্য আছে?

সায়ন্তনী উঠে দাঁড়াল।

—আমার একটা প্রশ্ন আছে। আমাদের গ্রামের মহিলারা প্রতিদিন যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হন, সেগুলো নিয়ে কি কোনও আলোচনা হবে?

একজন ব্যবসায়ী বললেন,
—সেসব সমস্যা তো বাড়ির লোকেরাই দেখে নেবে। গ্রামের সভায় সব বিষয় তোলা সম্ভব নয়।

সায়ন্তনী বলল,
—কিন্তু বাড়ির সমস্যাগুলো যখন রাস্তা, জল, আলো কিংবা নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেগুলো আর শুধু বাড়ির সমস্যা থাকে না। সেগুলো গ্রামের সমস্যা হয়ে ওঠে।

ঘরে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এল।

সভাপতি বললেন,
—তোমার কাছে নির্দিষ্ট কোনও প্রস্তাব আছে?

সায়ন্তনী সেদিন প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি। সে শুধু বলল,
—আগামী সভায় আমি গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে কিছু সমস্যা লিখে আনব। আপনারা যদি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেন, তাহলে ভালো হয়।

সভাপতি সম্মতি জানালেন। সায়ন্তনী বাড়ি ফিরে এল। কিন্তু গ্রামের কয়েকজনের কাছে তার এই উদ্যোগ হাসির বিষয় হয়ে দাঁড়াল।

কেউ বলল, কলেজে পড়ে মেয়েটি বেশি বুদ্ধি শিখেছে। কেউ বলল, দুদিন পরে নিজেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

সায়ন্তনী এসব কথায় মন খারাপ করলেও পিছিয়ে গেল না।

পরের কয়েক দিন সে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরল। মহিলাদের সঙ্গে কথা বলল। প্রথমে কেউই খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না। কেউ বললেন, সংসারের কাজের সময় নেই। কেউ বললেন, এসব লিখে কোনও লাভ হবে না।

কিন্তু সায়ন্তনী প্রত্যেকের কথা মন দিয়ে শুনল। সে কোনও সমস্যাকেই ছোট করে দেখল না। কারও কথা লিখে নেওয়ার আগে অনুমতি চাইল। প্রয়োজনে সমস্যার জায়গায় গিয়ে নিজে দেখে এল।

এক সপ্তাহের মধ্যে তার খাতায় উঠে এল সাতাশটি সমস্যা।

তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল তিনটি বিষয়—বর্ষায় জল জমে থাকা, সন্ধ্যার পরে কয়েকটি রাস্তা অন্ধকার হয়ে যাওয়া এবং গ্রামের মহিলাদের তৈরি জিনিস বিক্রি করার স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকা।

সায়ন্তনী সমস্যাগুলিকে তিনটি ভাগে সাজাল। প্রতিটি সমস্যার পাশে লিখল কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কাদের অসুবিধা হচ্ছে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সে কোথাও অযথা বড় দাবি জানাল না। যেখানে নিকাশি নালা পরিষ্কার করলেই সমস্যা মিটতে পারে, সেখানে নতুন নালা তৈরির কথা লিখল না। যেখানে আলো দরকার, সেখানে সম্ভাব্য স্থানগুলি চিহ্নিত করল।

মা তাকে সাহায্য করতে শুরু করলেন। প্রতিবেশী রেণুকা পিসি নিজের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেন। গ্রামের আরও কয়েকজন মহিলা তাঁদের অভিজ্ঞতা জানালেন।

সায়ন্তনী বুঝতে পারল, এতদিন যে সমস্যাগুলিকে সবাই আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত অসুবিধা বলে মনে করতেন, সেগুলির মধ্যে আসলে একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে।

পরের মাসের সভার দিন সে আবার পাঠাগারের ঘরে গেল। এবারও একটি চেয়ার খালি ছিল। কিন্তু সেদিন সে একা আসেনি। তার সঙ্গে এসেছিলেন গ্রামের পাঁচজন মহিলা।

ঘরে ঢুকে তাঁদের দেখে কয়েকজন অবাক হলেন।

সভাপতি বললেন,
—আজ এতজন একসঙ্গে এসেছেন যে!

সায়ন্তনী তার খাতা খুলে বলল,
—আমরা গ্রামের কয়েকটি সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাই। প্রত্যেকটি সমস্যার সঙ্গে কোথায় কী অসুবিধা হচ্ছে, তার বিবরণও নিয়ে এসেছি।

একজন মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
—আমাদের পাড়ার রাস্তার ধারে বৃষ্টির জল জমে থাকে। স্কুলের বাচ্চারা সেই জল পেরিয়ে যায়। অনেকবার বলেছি, কিন্তু সমস্যাটা আর মেটেনি।

আরেকজন বললেন,
—বাজার থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যা হয়ে গেলে রাস্তার একটা অংশে আলো থাকে না। সেখানে হাঁটতে অসুবিধা হয়।

তৃতীয়জন জানালেন, তাঁদের গোষ্ঠীর মহিলারা আচার, বড়ি এবং হাতে তৈরি নানা জিনিস বানালেও গ্রামের বাইরে বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারেন না।

এবার আর কেউ হাসলেন না। কারণ অভিযোগগুলির সঙ্গে ছিল নির্দিষ্ট তথ্য, অভিজ্ঞতা এবং সমাধানের প্রস্তাব।

সভাপতি নিকাশি সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। দেখা গেল, পঞ্চায়েতের একটি পুরোনো নালার মুখ মাটি ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেটি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা সম্ভব। রাস্তার আলোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে। আর মহিলাদের তৈরি জিনিস বিক্রির জন্য স্থানীয় সাপ্তাহিক বাজারে একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হলো।

সব সমস্যা সেদিনই মিটে যায়নি। কোনও কোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সময় লাগবে। তবু প্রথমবার গ্রামের মহিলারা নিজেদের কথা নিজেরা বলতে পেরেছিলেন।

সভা শেষ হওয়ার আগে সভাপতি বললেন,
—আগামী মাসেও আপনারা আসবেন। সমস্যাগুলির অগ্রগতি নিয়ে আমরা আবার আলোচনা করব।

সায়ন্তনীর মনে হলো, আজ যেন সত্যিই কিছু একটা বদলেছে।

কিন্তু পরিবর্তনের পথ এত সহজ ছিল না।

কয়েকজন গ্রামবাসী বলতে লাগলেন, মহিলাদের জন্য আলাদা সভা করা উচিত। আবার কেউ বললেন, গ্রামের সব কাজ কি এখন থেকে এই খাতায় লেখা সমস্যার তালিকা দেখেই হবে?

সায়ন্তনী কোনও তর্কে গেল না। সে শুধু পরের মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করল।

এই সময়ের মধ্যে নিকাশি নালার মুখ পরিষ্কার করা হলো। জমে থাকা জল ধীরে ধীরে নেমে গেল। রাস্তার আলোর সমস্যা নিয়ে আবেদন জমা পড়ল। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা সাপ্তাহিক বাজারে নিজেদের তৈরি জিনিস নিয়ে বসার অনুমতিও পেলেন।

যে মহিলারা আগে নিজেদের কথা সভায় বলতে ভয় পেতেন, তাঁদের কয়েকজন এখন সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করতে শুরু করলেন।

তিন মাস পরে গ্রামের সভায় একটি নতুন নিয়ম প্রস্তাব করা হলো। গ্রামের যে কোনও বাসিন্দা, নারী বা পুরুষ, সভায় এসে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। কোনও প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে তার প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবসম্ভবতা এবং গ্রামের মানুষের সামগ্রিক উপকারের ভিত্তিতে।

প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হলো। কয়েকজন আপত্তি তুললেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ সদস্য তাতে সম্মতি দিলেন।

সেদিন সভাকক্ষে চেয়ারগুলি নতুন করে সাজানো হয়েছিল। আগে যেখানে সামনের সারিতে শুধু গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বসতেন, সেখানে এখন যে কেউ এসে বসতে পারতেন।

সায়ন্তনী ঘরে ঢুকে দেখল, জানালার পাশে একটি চেয়ার খালি রয়েছে। সে সেখানে বসতে যাচ্ছিল, এমন সময় এক বৃদ্ধা তাকে ডাকলেন।

—মা, ওখানে বসিস না। আজ তুই আমার পাশে বসবি।

বৃদ্ধার নাম কমলা দাসী। তিনি কোনও দিন গ্রামের সভায় আসেননি। সেদিন প্রথমবার এসেছেন নিজের পাড়ার পানীয় জলের সমস্যার কথা জানাতে।

সায়ন্তনী তাঁর পাশে বসে পড়ল। বৃদ্ধা আস্তে করে বললেন,
—তুই প্রথম দিন একা এসেছিলি বলে আমরা সাহস পাইনি। ভেবেছিলাম, তোর কথা কেউ শুনবে না। এখন বুঝেছি, নিজের কথা বলার জন্য আগে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়।

সায়ন্তনী মৃদু হেসে বলল,
—শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলেই হবে না, মাসিমা। অন্যের কথাও শুনতে হবে। আমরা যদি সবাই মিলে সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করি, তাহলে সমাধানের পথও খুঁজে পাব।

সভা শুরু হলো। এবার শুধু রাস্তা বা নিকাশির কথা নয়, গ্রামের শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা, প্রবীণদের বসার ব্যবস্থা এবং বাজারের আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়ও আলোচনায় উঠল।

কেউ কারও কথা মাঝপথে থামিয়ে দিলেন না। মতের অমিল থাকলেও প্রত্যেকে নিজের যুক্তি তুলে ধরলেন।

সায়ন্তনী ঘরের চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, আসল পরিবর্তন শুধু কয়েকটি সমস্যার সমাধান হওয়া নয়। পরিবর্তন এসেছে মানুষের ভাবনায়। যারা একসময় মনে করতেন, গ্রামের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল কিছু মানুষের, তাঁরা এখন বুঝতে শিখছেন যে গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়তে প্রত্যেকের অভিজ্ঞতারই মূল্য রয়েছে।

বছর ঘুরে গেল। শ্যামপুরের সব সমস্যা মিটে যায়নি। নতুন সমস্যা এসেছে, পুরোনো কিছু সমস্যার সমাধানও এখনও বাকি। কিন্তু গ্রামের সভা আর আগের মতো নেই। সেখানে এখন কৃষক তাঁর জমির সমস্যার কথা বলেন, দোকানদার বাজারের অসুবিধা জানান, ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে মত দেয়, মহিলারা তাঁদের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন।

সায়ন্তনী কলেজ শেষ করে অন্য শহরে পড়তে চলে গেলেও গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ রাখল। মাঝে মাঝে ছুটিতে ফিরে সে সভায় যোগ দিত। তবে এখন আর তাকে সবকিছু একা সামলাতে হতো না। গ্রামের মানুষ নিজেরাই সমস্যা চিহ্নিত করতেন, আলোচনা করতেন এবং সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতেন।

একদিন নতুন একটি মেয়ে সভায় এসে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। তার হাতে একটি কাগজ। ঘরে অনেক মানুষ দেখে সে ইতস্তত করছিল।

সায়ন্তনী সেদিন গ্রামে এসেছিল। সে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
—ভেতরে এসো। তোমার জন্যও এখানে জায়গা আছে।

মেয়েটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে একটি খালি চেয়ারে বসল।

সায়ন্তনী জানালার বাইরে তাকাল। বিকেলের আলো ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। তার মনে হলো, এই আলো কোনও একজনের জন্য নয়। দরজা খোলা থাকলে সেই আলো সবার ঘরেই পৌঁছতে পারে।

গ্রামের পরিবর্তন শুরু হয়েছিল একটি খালি আসন থেকে। সেই আসনটি প্রথমে ছিল অবহেলার প্রতীক। পরে সেটিই হয়ে উঠেছিল অংশগ্রহণের সুযোগ। আর শেষ পর্যন্ত সেই চেয়ার গ্রামের মানুষকে শিখিয়েছিল, কাউকে বাইরে রেখে কোনও সমাজ সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে না।

শিক্ষা: সমাজের উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া শুধু সৌজন্য নয়—এটি ন্যায়সংগত এবং কার্যকর সমাজ গড়ার অন্যতম শর্ত। কখনও কখনও একটি খালি আসনই মনে করিয়ে দেয়, সেখানে এখনও কারও কথা শোনা বাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *