কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর! ‘আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে লাভ নেই’, পুরভোট নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতার মধ্যেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের কথা জানিয়ে বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে লাভ নেই।’ শুক্রবার কলকাতার একটি কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুরভোট ও শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার জেরে আপাতত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচিত পুরবোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত কলকাতার নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে। পুর আইন মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তাঁর দাবি। এই কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে প্রশাসন সমন্বয় রেখে শহরের বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা পরিচালনা করবে।

বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, নির্বাচনে জিততে পারবে না বলেই বিরোধীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের প্রার্থী ও ভোটার নেই বলেই পুরভোট আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও বিরোধীদের তরফে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি ও আইনি প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

শহরের নাগরিক পরিষেবা প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার মানুষ জল পাবেন না, রাস্তা পরিষ্কার হবে না, পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ থাকবে কিংবা রাস্তায় আলো জ্বলবে না—এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। তাই পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে পরিষেবা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিরোধীদের উদ্দেশে আরও কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে লাভ নেই। যত পরীক্ষায় বসতে বলবেন, আমি বসতে রাজি আছি।’ তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী পক্ষের এক প্রাক্তন কাউন্সিলর। শুক্রবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এখন নজর থাকবে, রাজ্য সরকার উচ্চতর আদালতে কী পদক্ষেপ করে এবং ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *