মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ফের পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েই দলীয় বিধায়কের জন্মদিনে ৫০ ভরির রুপার মুকুট উপহার। গতকাল হোলি উৎসবের দিন দিনহাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক উদয়ন গুহের ৭০ তম জন্মদিন উদযাপন করেন তাঁর অনুগামীরা। দিনহাটা শহরের ফুল দিঘির পাড়ে সুভাস ভবনের সামনে ওই জন্মদিন পালন করা হয়। সেখানেই দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান গৌরি শঙ্কর মাহেশ্বরী বিধায়কের মাথায় রংবেরঙের পাথর বসানো সেই মুকুট মাথায় পড়িয়ে দেন। আরও অনেকেই উপহার দিয়েছেন বিধায়ককে। কেউ মাথায় পাগড়ী পড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন ফুলের তোরা। কিন্তু মহামূল্যবান সেই মুকুটই এখন কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে উঠেছে।
বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী বলেন, “পুরসভা নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না দিয়ে গণতন্ত্রের যে খুন দিনহাটার বিধায়ক করেছেন। বিধায়ককে সেটার উপহার দিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান পদে বসা গৌরি শঙ্কর মাহেশ্বরী। এর থেকে স্পষ্ট রাজনীতিতে সেখানে ব্যবসায়ীক ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কোন কিছুর বিনিময়ে কোন কিছু পাওয়া। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার কোন তাগিদ নেই। এই প্রবণতা কোচবিহার কেন বাংলার রাজনীতিতে এর আগে কখনও দেখা যায় নি।”
অন্যদিকে গৌরি শঙ্কর মাহেশ্বরী বলেন, “একদিকে হোলি, অন্যদিকে আমাদের বিধায়কের ৭০ তম জন্মদিন। তাই বিধায়কের জন্মদিন উদযাপনের জন্য কমিটি করে উৎসব করা হয়েছে। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০ ভরির রুপার মুকুট দেওয়া হয়েছে। ওই মুকুট কোলকাতা থেকে বানিয়ে আনা হয়েছে।” উদয়ন গুহ বলেন, “কে কি দিয়েছে, সেভাবে খেয়াল করি নি। তবে অনেকেই উপহার দিয়েছেন। কেউ পাগড়িও পড়িয়ে দিয়েছেন। আসলে কে কি দিল সেটা বড় কথা নয়। কে কারা আসলেন, কারা শুভেচ্ছা জানালেন, সেটাকেই বড় করে দেখছি।”
গতকালের ওই জন্মদিন পালনে দিনহাটার অগণিত উদয়ন ভক্ত তৃণমূল কর্মীরা যেমন উপস্থিত হয়েছিলেন। তেমনি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়, প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীও। যখন ওই রুপার মুকুট বিধায়কের মাথায় পড়ানো হয়। তার আগে বিধায়কের শুভ কামনা করে পুরহিত তিলক পড়িয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করেন। গলায় পুতির মালা পড়ানো হয়।
জন্মদিনে তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহকে ৫০ ভরির রুপার উপহার দিনহাটার চেয়ারম্যানের, জেলা রাজনীতিতে জোর চর্চা।












Leave a Reply