মনিরুল হক, কোচবিহারঃ স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্ক ক্রমশই বাড়ছে মাথাভাঙ্গায়। কয়েক বছর আগেও মাথাভাঙা মহকুমাবাসীর কাছে অজানা ছিল এই স্ক্রাব টাইফাস রোগ। কিন্তু বিগত দু’তিন বছরে দেখা যাচ্ছে, স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। স্ক্রাব টাইফাসের প্রকোপ নিয়ে মাথাভাঙায় বাড়ছে উদ্বেগ। তার সাথে বাড়ছে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ।
মাথাভাঙা ১ ব্লকে স্ক্রাব টাইফাস আক্রান্তের সংখ্যা ১৩, ম্যালেরিয়া ৩, ডেঙ্গু ১। অন্যদিকে শীতলখুচি ব্লকে স্ক্রাব টাইফাস ৮, ম্যালেরিয়া ৫, ডেঙ্গু ১। মাথাভাঙা ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বিমল অধিকারী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা প্রচারের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। বেশকিছু পুকুর, খালে, নিকাশি নালায় ছাড়া হয়েছে গাপ্পি মাছ। জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।
মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসক ডাঃ এন দাস জানান, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, স্ক্রাব টাইফাস এই ধরনের রোগগুলির বেশিরভাগ উপসর্গ একইরকমের হতে পারে। অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের থেকে যেকোনো ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসা মানুষের রক্ত পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্তদের মধ্যে সারা শরীরে ব্যথা, বমি ভাব, খাবারে অনিচ্ছা, জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়।রাতে শোওয়ার সময়ে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা ও পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধকারী দলের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এলাকায় স্ক্রাব টাইফাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালান তাঁরা। শীতলখুচি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শাম্ব অধিকারী জানান, সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে নিরাময় সম্ভব স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
মাথাভাঙা ১ ব্লকের নারী সমাজ কল্যাণ ও ত্রান কর্মাধ্যক্ষ কল্যানী রায় জানান, স্কাব টাইফাস, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্লকের সকল জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে ভয়ের কিছু নেই।
ক্রমশই স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্ক বাড়ছে মাথাভাঙ্গায়, উদ্বেগে মহকুমাবাসী।












Leave a Reply