ধানগাছে ঘাস মারা বিষ,মাথা হাত চাষীর।

সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – ক্যানিং থানার অন্তর্গত ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ রেদোখালি গ্রাম। ওই গ্রামেই বসবাস করেন দরিদ্র চাষী পরিতোষ নস্কর ও মাছ ব্যবসায়ী সত্য সরদার।কোন রকমে দীনমজুরের কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন।করোনা আর লকডাউনের যৌথ আক্রমণে ওই পরিবার গুলো আর্থিক ভাবে আরো অসহায় হয়ে পড়ে। এছাড়াও বিগত দিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নদীর লবণাক্ত জল এলাকার চাষের জমিতে ঢুকে পড়েছিল।ক্ষতি হয়েছিল বিঘার পর বিঘা জমি। সেই কারণে গত দুবছর এলাকায় চাষ হয়নি।এমত অবস্থায় স্বাভাবিক হতেই পরিতোষ নস্কর আর সত্য সরদার এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন বিঘা জমি আগাম টাকায় নেয় খরা চাষ করার জন্য।চাষের শুরুতেই ধারদেনা করে দুই চাষী মিলিত ভাবে তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন।ভালো ফলনের আশায় ছিলেন।রাতের অন্ধকার ইতিমধ্যে কে বা কারা ওই চাষীদের তিনবিঘা জমিতে ধানগাছে ঘাস মারা বিষ প্রয়োগ করে।ঘাস মারা বিষ প্রয়োগে তিন বিঘা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।ধান ক্ষেতে জল দিতে গিয়ে শনিবার দুপুরে এমন ঘটনা নজরে পড়ে দুই চাষীর। কে বা কারা এমন কাজ করলো সে বিষয় অবশ্য অজ্ঞাতই রয়ে গিয়েছে।বর্তমানে কি ভাবে সংসার চালাবেন এবং ধারদেনা কি ভাবে শোধ দেবেন সেই চিন্তায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছে দুই চাষী সহ তাদের পরিবার।ইতিমধ্যে দুই চাষী ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চাষী পরিতোষ নস্কর জানিয়েছেন ‘লকডাউন আর করোনা কালে কোন কাজ ছিল না। তারপর আম্ফান আর ইয়াসের তান্ডবে সবকিছুই শেষ করে দিয়েছিল।পরিবার নিয়ে ভাঙা কুঁড়ে ঘরে বসবাস করি।ভেবেছিলেম আগামী টাকায় জমি চাষ করে,চাষের ধান বিক্রি করে ধারদেনা শোধ দেবো এবং থাকার ঘরটি মেরামত করবো।কে বা কারা রাতের অন্ধকারে ধানের জমিতে ঘাস মারা বিষ দিয়ে দেওয়ায় তিনবিঘা জমির সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে।।প্রায় কুড়ি হাজার টাকা দেনা রয়েছে। তারপর এক পশলা বৃষ্টি হলেই ভেসে যাবে ঘর।কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। রাজ্য সরকার যদি সাহায্য করে তাহলে বেঁচে থাকা সম্ভব। তা না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।’
অন্যদিকে সত্য সরদার নামে অপর চাষী জানিয়েছেন পাড়ায় পাড়ায় মাছ বিক্রি করি।ব্যবসা মন্দা হওয়ায় পরিতোষের সাথে যুক্ত হয়ে খরা চাষ করেছিলাম। কে বা কারা রাতের অন্ধকারে আমদের চাষের জমিতে ঘাস মারা বিষ দিয়ে সমস্ত ধান নষ্ট করে দিয়েছি। কি ভাবে দেনা শোধ করবো ভেবে পাচ্ছি না’।
উল্লেখ্য বিগত কয়েকদিন আগেই ওই এলাকার চাষী অসীমা সরদারের এক বিঘা ধান জমিতে দুষ্কৃতিরা ঘাস মারা বিষ দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছিল। দুষ্কৃতিদের যা তান্ডব তাতে করে অন্যান্য চাষীরা ও আতঙ্কে রয়েছে।পাশাপাশি রাতে অন্ধকারে দুষ্কৃতিরা যাতে করে ধান চাষ সহ অন্যান্য ফসল নষ্ট করতে না পারে তার জন্য রাত পাহারার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *