কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “অরুণালোক সাহিত্য পরিবার” ও “দিলীপ রায় ফ্যান্স ক্লাব” এর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সমাবেশ, ২০২৩। অনুষ্ঠানে ভিড় ছিলো নজরকাড়া । হল ঘরটি কানায় কানায় বোঝাই হয়ে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন । বাংলাদেশ ও আমাদের দেশ থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম । সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে দেশ বিদেশের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের নিয়ে তাদের পথ চলা । সাহিত্য জগতে কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, লেখক, পাঠক, সমালোচক ও গবেষকদের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করতে তাদের অনলস প্রয়াস । সেই প্রয়াসের অঙ্গ হিসাবে এবছর তাদের পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠান ছিলো অন্যতম । সেই সঙ্গে বেশ কিছু নতুন গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ (প্রকাশকঃ আনন্দ প্রকাশন)। তা ছাড়া অরুণালোক সাহিত্য পরিবার নবীন-প্রবীন সৃষ্টিশীল মানুষদের মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর । যার জন্য সৃজনশীল মানুষের আন্তরিক ভালবাসায় অরুণালোক সাহিত্য পরিবার, সাহিত্যের নিরিখে বিশ্ব মাঝে এগিয়ে চলেছে । এই পত্রিকার মূল বৈশিষ্ট্য স্বচ্ছ্বতা ও উৎকৃষ্টতা । এখানে উল্লেখ থাকে যে, মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসা নিয়ে “অরুণালোক” (একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা) সাহিত্য পত্রিকার বইমেলা সংখ্যার (২০২৩) প্রকাশ । এটা পত্রিকার কর্মকর্তাদের কাছে গৌরবের ও মর্যাদার । সকলেই কম-বেশী অবগত, দুই বছর করোনা, আমফান, অমিক্রনের কবলে পড়ে মানুষ কত অসহায়, বিধ্বস্ত । বহু লেখক-শিল্পী অসময়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন । শুধু আমাদের দেশ নয়, করোনা সারা পৃথিবীর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে । বুঝিয়ে দিয়েছে মানুষ কত অসহায় ! করোনার রোষের কারণে অরুণালোক সাহিত্য পত্রিকাও থমকে যেতে বাধ্য হয়েছিল । যার জন্য প্রায় দুই বছর বাদে আজ “অরুণালোক” সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, পত্রিকার সংস্করণের প্রস্তুতি, পত্রিকা প্রকাশ ও অনুষ্ঠান উদ্যাপনের ক্ষেত্রে মানুষের ভালবাসা তাদের একমাত্র পাথেয় ।
আজকের অনুষ্ঠান আমাদের দেশ ও বাংলাদেশের কবি ও সাহিত্যিকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সমাবেশ । প্রায় দুই শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, অতিথিদের সমাবেশ । অনুষ্ঠানটি একযোগে “অরুণালোক সাহিত্য পরিবার” ও “দিলীপ রায় ফ্যান্স ক্লাব”এর যৌথ উদ্যোগে সংঘটিত হলো । প্রত্যেক কবি ও সাহিত্যিককে পত্রিকা (এক কপি) ও স্মারক সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে । তা ছাড়া “দিলীপ রায় ফ্যান্স ক্লাব”এর নিয়মিত লেখক ও ফ্যান্স ক্লাব কর্তৃক অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী কবি, বাচিক শিল্পী ও সাহিত্যিককেও স্মারক সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করা হলো । এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যতম কার্যক্রম ছিলো — ২৫টি সাহিত্য সংগঠন ও সাহিত্যের নিরিখে সৃজনশীল ত্রিশজন গুণী মানুষকে স্মারক সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করা । অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কবি, বাচিক শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী,কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সঙ্গীত পরিবেশন হলো ।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দিলীপ রায় এক প্রশ্নের উত্তরে বললেন, “আমাদের দেশ ও বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার আরও একটা চিন্তা-ভাবনা – দুই দেশের মধ্যে মেল-বন্ধন অটুট রাখা । দুই দেশের সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করা । এখানে বাংলাদেশের ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ যেমনি এসেছেন, তেমনি আমাদের দেশের ত্রিপুরা রাজ্য, অসমের শিলচর, করিমগঞ্জ, মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম-নদীয়া-বাকুঁড়া-বর্ধমান-দক্ষিণ দিনাজপুর-জলপাইগুড়ি থেকেও কবি সাহিত্যিকেরা এসেছেন । আমি মনে করি, সমাজ তথা দেশ উন্নয়নে এই জাতীয় সাহিত্য সমাবেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ।“

আর একটি প্রশ্নের উত্তরে অরুণালোক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক বিমলচন্দ্র গড়াই তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের বইমেলা সংখ্যায় ১৬৫ জন কবি সাহিত্যিকদের লেখা স্থান পেয়েছে । আমরা সত্যিই গর্বিত যে, নতুন ও পুরানো কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে একটি মেলবন্ধনের সেতু গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি । এর জন্য আমরা যেমন কবি সাহিত্যিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, তেমনি আমাদের কার্যকরী কমিটির সদস্য – সদস্যাদের কাছেও কৃতজ্ঞ । প্রত্যেকের সহযোগিতা ব্যতিত এমন একটা মহাযজ্ঞ সুস্থভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় । প্রত্যেককে আমাদের কুর্ণিশ ।“
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করলেন অরুণালোক সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বিমল চন্দ্র গড়াই । অনুষ্ঠানে গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি – দেবাশীষ কোলে (বিশিষ্ট সাংবাদিক, হাওড়া), মীর আব্দুল আলীম (বিশিষ্ট কলামিস্ট, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক, ঢাকা), পার্থসারথী ঝা (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক, মালদহ), ড. রামপ্রসাদ বিশ্বাস (বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ, বাঁকুড়া), নিগমানন্দ মণ্ডল, কর্ণধার-আনন্দ প্রকাশন, কলকাতা), ও আরও বিশিষ্ট শ্রদ্ধাভাজন কবি ও সাহিত্যিক ।












Leave a Reply