ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে রাজপথে নামবে তৃণমূল, একুশের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ১৯৯৩ সালে সচিত্র ভোটার কার্ডের দাবিতে তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হয়েছিল ঐতিহাসিক আন্দোলন। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ফের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সরাসরি নিশানায় এবার নির্বাচন কমিশন।

ধর্মতলার সভা থেকে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন— বাংলার একজন মানুষের নামও যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে রাজপথে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে। গুজরাট থেকে বসে বাংলা ও বিহারের মানুষদের ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। ‘‘বিহারে ইতিমধ্যেই ৪১ লক্ষ মানুষের নাম কাটা হয়েছে। বাংলাতেও একই রকম পরিকল্পনা চলছে। বাংলার কোনও নাগরিকের নাম কাটা হলে দিল্লি গিয়ে কমিশনের অফিস ঘেরাও করব,’’ বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এই প্রবণতাকে আখ্যা দেন ‘সুপার এমার্জেন্সি’। তিনি আরও বলেন, ‘‘একজন বাঙালির নাম বাদ দিয়ে চারজন ভিনরাজ্যের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এটা বরদাস্ত করব না। প্রয়োজনে কেন্দ্রকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে তৃণমূল।’’

এদিনের সভা থেকে ভাষা-আন্দোলনের ডাকও দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভাষার জন্য লড়াই চলবে। বলেন, “বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। এই সন্ত্রাস মানব না। দরকারে আবার ভাষা আন্দোলন হবে এবং তা ছড়িয়ে পড়বে দিল্লি পর্যন্ত।”

তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ২০২৬-এর নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে বাংলা বনাম বহিরাগত ইস্যু। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই শাসকদল তাদের নির্বাচনী ন্যারেটিভ গড়ে দিল বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *