প্রাক্তন কেএলও সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ, গাজোলে রাজনৈতিক তরজা

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-.এক সময় হাতে ছিল অস্ত্র, আজ সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ানোর অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। মালদহের গাজোলের প্রাক্তন কেএলও সদস্য সতীশ রাজবংশীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে দুই জমির মালিক তাঁর কেনা জমি দখল করে রেজিস্ট্রি দিতে অস্বীকার করছেন।
সতীশ রাজবংশীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে তিনি জমি কিনেছিলেন। গাজোল কলেজ সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে প্রায় আড়াই বিঘা জমির জন্য ২০২১ সালে দুই জমির মালিককে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়। তবে চার বছর কেটে গেলেও আজও রেজিস্ট্রি মেলেনি।
অভিযোগ, জমিতে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ ও শাসকদলের একাংশের নাম করে ভয় দেখানো হচ্ছে। সতীশবাবুর কথায়,
“আমরা অস্ত্র ছেড়ে সমাজে ফিরেছি মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে। আজ যদি এভাবে প্রতারণা করা হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষদের আবার পুরনো পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
সতীশ রাজবংশীর বাড়ি গাজোল থানার পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিনা স্টেশন সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায়। পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ওই জমিতে একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করা এবং কিছু অংশ বসতি হিসেবে বিক্রি করে স্বনির্ভর হওয়া।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জমির মালিক অমিত প্রসাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। উত্তর মালদা বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই অসহায় মানুষের জমি দখল করা হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, তৃণমূল পরিচালিত গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। দল কোনওভাবেই এতে জড়িত নয়। অভিযোগ থাকলে প্রশাসন তদন্ত করবে।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকার দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *