পশ্চিমবঙ্গের আলু চাষ, সংরক্ষণ ও রপ্তানি নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিমবঙ্গের আলু চাষ, সংরক্ষণ ও রপ্তানি নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরে মর্নিং ওয়াক শেষে সার্কিট হাউসের সামনে এক চা চক্রে অংশ নিয়ে কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতার মাঝেই তিনি আলু খাওয়া নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। সুগারের ভয়ে অনেকেই আলু খাওয়া এড়িয়ে চলেন,সেই প্রসঙ্গ টেনেই সাধারণ মানুষকে বেশি করে আলু খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “যারা আলু খেতে ভয় পান সুগার হবে বলে, তাঁদের বুঝতে হবে সুগারের জন্য শুধু আলুই দায়ী নয়। আরও অনেক কারণ রয়েছে। কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘদিন রাখা আলুতে সুগারের সম্ভাবনা কিছুটা বাড়ে, কারণ আলুর রস কমে যায়। কিন্তু মাঠ থেকে সরাসরি তোলা টাটকা আলু খেলে সেই ভয় অনেকটাই কম। তাই আলু খেতে ভয় পাবেন না, বেশি করে আলু খান। আপনারা আলু না খেলে আলু বিক্রি হবে কী করে!”
চা চক্রে উপস্থিত কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি আলু সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত দিক নিয়েও আলোচনা করেন। দিলীপ ঘোষ জানান, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় আলু সংরক্ষণ করা গেলে আলুতে সুগারের মাত্রা বাড়ে না। তবে সেই ধরনের আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতির খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক হিমঘর মালিক তা ব্যবহার করেন না। তিনি বলেন, “একটা বিশেষ তাপমাত্রায় যদি আলু রাখা যায় তবে সুগারের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা সেই ব্যবস্থাকে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি।”
আলু রপ্তানি প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন তিনি। বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, আগের সরকার বাংলার বাইরে আলু পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন রাজ্যের আলু চাষিরা। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে যত পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়, তার পুরোটা রাজ্যের মানুষ ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে অন্য রাজ্যে রপ্তানি করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৪০টি হিমঘর রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু মজুত আছে। অন্যদিকে সারা বছরে রাজ্যের গড় আলুর চাহিদা প্রায় ৭১ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ শুধুমাত্র হিমঘরেই যে পরিমাণ আলু রয়েছে, তা রাজ্যের বার্ষিক চাহিদার থেকেও বেশি। এছাড়াও প্রায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু এখনও বাজার, কৃষকের বাড়ি এবং মাঠে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলায় এত বেশি আলু উৎপাদন হয় যে তা শুধু রাজ্যের মধ্যে খরচ করে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই বাংলার বাইরে আলু পাঠানো ছাড়া উপায় নেই। আলু চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে রপ্তানির পথ খোলা রাখতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বর্ধমান, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, হুগলি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এ বছর প্রচুর আলু চাষ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে বাংলার বাইরে আলু পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে কৃষকদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
শুক্রবার মেদিনীপুরে দিনভর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দিলীপ ঘোষের। তার আগে সকালবেলায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে চা চক্রে অংশ নিয়ে আলু চাষ, সংরক্ষণ এবং কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *