চিতল মাছের মুইঠ্যা কারি।।

উপকরণ
মুইঠ্যার জন্য
চিতল মাছের গাদা (মাংস) – ৫০০ গ্রাম
আলু সেদ্ধ – ২টি
আদা বাটা – ১ চা চামচ
কাঁচালঙ্কা বাটা – ১ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
সর্ষের তেল – ১ চা চামচ
কারির জন্য
আলু – ২টি (চৌকো করে কাটা)
পেঁয়াজ বাটা – ৪ টেবিল চামচ
আদা বাটা – ১½ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ১ চা চামচ
টমেটো বাটা – ২ টেবিল চামচ
জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
গরম মসলা – ½ চা চামচ
তেজপাতা – ২টি
দারুচিনি – ১ টুকরো
এলাচ – ৩টি
সর্ষের তেল – ৬ টেবিল চামচ
ঘি – ১ চা চামচ
কাঁচালঙ্কা – ৫টি
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – ১ চা চামচ
গরম জল – প্রয়োজনমতো
‍ বিস্তারিত প্রণালী
প্রথমে চিতল মাছের গাদা থেকে সমস্ত কাঁটা সাবধানে বের করে নিন। এরপর মাছের মাংস একটি বড় থালায় নিয়ে হাতের তালু দিয়ে ভালোভাবে মেখে নরম পেস্টের মতো করুন।
এখন এর মধ্যে সেদ্ধ আলু চটকে মিশিয়ে দিন। আদা বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, লবণ এবং সামান্য সর্ষের তেল যোগ করে মিশ্রণটি আরও ভালোভাবে মাখুন।
মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে গেলে হাত ভিজিয়ে ডিম্বাকার বা লম্বাটে মুইঠ্যা তৈরি করুন।
একটি হাঁড়িতে জল ফুটিয়ে মুইঠ্যাগুলো ৮–১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হয়ে গেলে তুলে ঠান্ডা করুন।
ঠান্ডা হলে মুইঠ্যাগুলো হালকা সোনালি করে তেলে ভেজে তুলে রাখুন।
এখন কারি তৈরির পালা।
কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে আলুগুলো হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
একই তেলে তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ ফোড়ন দিন।
এরপর পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ধীরে ধীরে কষাতে থাকুন।
পেঁয়াজ বাদামি হলে আদা ও রসুন বাটা যোগ করুন।
এরপর হলুদ, লাল লঙ্কা, জিরা ও ধনে গুঁড়ো সামান্য জল দিয়ে মিশিয়ে কড়াইয়ে দিন।
মশলা থেকে তেল ছেড়ে এলে টমেটো বাটা যোগ করুন।
ভালোভাবে কষানোর পর ভাজা আলু মিশিয়ে দিন।
এখন গরম জল ঢেলে ঝোল ফুটতে দিন।
ঝোল ফুটে উঠলে ভাজা মুইঠ্যাগুলো আলতোভাবে দিয়ে দিন।
কাঁচালঙ্কা যোগ করে ঢেকে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন।
মুইঠ্যা ঝোলের স্বাদ শুষে নিয়ে আরও সুস্বাদু হয়ে উঠবে।
শেষে গরম মসলা ও ঘি ছড়িয়ে চুলা বন্ধ করুন।
৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রেখে দিন।
️ পরিবেশন
গরম ভাত, পোলাও বা ঘি-ভাতের সঙ্গে চিতল মাছের মুইঠ্যা কারি পরিবেশন করুন।
চিতল মাছের নরম মুইঠ্যা, ঘন মশলাদার ঝোল এবং গরম মসলার সুগন্ধ এই পদটিকে বাঙালি রান্নার এক ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত রেসিপিতে পরিণত করেছে। বিশেষ অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন বা উৎসবের ভোজে এই পদ সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *