
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী জেলা শাসকের সরকারি বাংলো ‘হেস্টিংস হাউস’–এর নাম পরিবর্তনের দাবিতে জেলা শাসকের কাছে আবেদন জানালেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। মঙ্গলবার জেলা শাসকের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ভবনটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ রাখার প্রস্তাব দেন। মেদিনীপুর শহরে জেলা শাসকের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা শাসকের সরকারি বাংলো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার গভর্নর এবং পরবর্তীকালে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের নাম অনুসারেই ভবনটির নামকরণ করা হয়। উপনিবেশিক প্রশাসনিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বহু বছর ধরে এই নামই প্রচলিত রয়েছে।
তবে স্বাধীনতার পর থেকেই ভবনটির নাম পরিবর্তনের দাবি বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন, ওয়ারেন হেস্টিংসের নামে এই ভবনের নামকরণ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের স্মারক বহন করে। স্বাধীনতার সাত দশকেরও বেশি সময় পর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নাম এমন হওয়া উচিত, যা স্বাধীন ভারতের মূল্যবোধ, জাতীয় গৌরব এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানায়। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, মেদিনীপুরের এই ঐতিহাসিক ভবনের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু বিপ্লবী দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাই ভবনটির নাম যদি দেশের এক মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামে রাখা হয়, তবে তা ইতিহাস ও আত্মবলিদানের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করবে। বিধায়ক বিশেষভাবে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু–র নাম প্রস্তাব করে বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর ক্ষুদিরাম বসুর গর্বের ভূমি। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এবং অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে ক্ষুদিরাম বসুর অসীম দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর নামে সরকারি বাংলোটির নামকরণ হলে তা শুধু একজন মহান বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই হবে না, বরং স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় চেতনার আদর্শকেও আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হেস্টিংস হাউসকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেয়। ফলে ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
চিঠির শেষে বিধায়ক জেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘হেস্টিংস হাউস’–এর পরিবর্তে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ নামকরণ করা হলে তা পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষের অনুভূতি, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীন ভারতের আত্মপরিচয়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাবে।












Leave a Reply