সাপুঁইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকায় বেহাল পরিস্থিতি, ক্ষোভ স্থানীয়দের।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- হাওড়া জেলার ডোমজুড় বিধানসভার সাপুঁইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থা। কোথাও রাস্তার উপর জমে রয়েছে নোংরা জল, কোথাও আবার দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার হয়নি ড্রেন। শুধু তাই নয়, রাস্তার দু’ধারে একাধিক জায়গা আগাছা ও জঙ্গলে ভরে গেলেও এখনও পর্যন্ত সাফাইয়ের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ।
এর পাশাপাশি, একাধিক রাস্তার লাইট পোস্টে আলো জ্বলছে না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে বেশ কিছু রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই রাস্তাগুলি দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। এমনকি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও এই রাস্তা দিয়ে স্কুল ও টিউশনে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার উপর জমে থাকা নোংরা জল পেরিয়েই তাঁদের চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রাতে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে বা কোনও ব্যক্তির ক্ষতি হয়, তাহলে সেই দায়ভার কে নেবে? প্রশ্ন তুলছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, তাঁদের মৌলিক চাহিদা খুব বেশি কিছু নয়—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তার দু’ধারের জঙ্গল ও আগাছা সাফাই এবং নষ্ট রাস্তার আলো দ্রুত মেরামত। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
ডোমজুড় বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তাপস মাইতি জয়ী হয়েছেন এবং সাপুঁইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতও তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালনায় রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—জনগণের পরিষেবা ও এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের নজর কি এই সমস্যাগুলির দিকে রয়েছে?
যে চেয়ারে বসে জনগণের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সেই কাজের প্রতিফলন যদি বাস্তবে দেখা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলবেই—কোথায় সেই পরিষেবা?
সাপুঁইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে আমাদের অনুরোধ—এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করুন এবং যে সমস্ত রাস্তা ও এলাকায় এমন শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেগুলি দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নিন।
কারণ, পরিষ্কার রাস্তা, সচল ড্রেন এবং পর্যাপ্ত পথবাতি কোনও বিলাসিতা নয়—এগুলি সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *