
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- মালদার হবিবপুর ব্লকের জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের আইহো চক্রের কাঁঠাল বানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্ক মোহন রায়ের বিরুদ্ধে ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আইহো চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, মালদা জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার, হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতি সহ বিজেপির নেতৃত্বর নিকট ও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ত্রিদীপ রায়-সহ কয়েকজন গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে আইহো চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সহ বিভিন্ন শিক্ষা দপ্তরে কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁদের অভিযোগ, কাঁঠাল বানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্ক মোহন রায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন নিয়েছেন। কীভাবে তাঁর অনুপস্থিতির মধ্যেও বেতন দেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্ক মোহন রায়। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি বলেও জানান তিনি। মৃগাঙ্ক মোহন রায়ের আরও দাবি, তাঁর স্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, তাঁকে ফোনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে তাঁর স্ত্রীকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এলাকার কয়েকজন বড় বিজেপি নেতা এই চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে তদন্ত হলে তিনি সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরবেন বলেও জানান পার্শ্বশিক্ষক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশিত কুমার পাল জানান, পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্ক মোহন রায় তাঁর স্ত্রী প্রধান হওয়ার পর মাঝেমধ্যে কয়েক মাস বিদ্যালয়ে আসতেন না। তবে টানা ১২ বছর বিদ্যালয়ে আসেননি—এই তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। অনুপস্থিতির বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক। বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি অবগত নন। অনুপস্থিতির দিনের পারিশ্রমিক ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির হবিবপুর মণ্ডল-৪-এর সভাপতি জহর মুর্মু অভিযোগ করেন, ওই পার্শ্বশিক্ষক একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হবিবপুর ব্লক যুব সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী বর্তমানে জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিজেপি নেতা।
জানা গিয়েছে, শিক্ষা দপ্তরের কাছে অভিযোগ পৌঁছেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ হবে।












Leave a Reply