আগস্ট বিপ্লব স্মরণে জেডিইউ-এর কর্মসূচি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, বৃক্ষরোপণ ও ‘নীতীশ মডেল’-এর প্রচার।

হুগলি, নিজস্ব সংবাদদাতা: ১৯৪২ সালের আগস্ট বিপ্লবের স্মৃতিকে সামনে রেখে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এবং নীতীশ ব্রিগেডের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ইউনিট। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একইভাবে দিনটি পালন করা হয়। মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় হুগলি জেলার তারকেশ্বরের কাছে বল্লভিপুরে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতা দল ইউনাইটেডের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অশোক দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবচন্দ্র পাঁজা, তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকার জেডিইউ সভাপতি ঋষি পুরকাইত, ধনিয়াখালি বিধানসভার সভাপতি কার্তিক মুদি, ঋষি ঘোষাল, শ্যামসুন্দর বারুই, মাধব অধিকারী-সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জয়প্রকাশ নারায়ণ, অরুণা আসফ আলি, অজয় মুখোপাধ্যায়, প্রফুল্লচন্দ্র সেন, মাতঙ্গিনী হাজরা, মাস্টারদা সূর্যসেন-সহ স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত সকল বীরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশোক দাস ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন। তৎকালীন মেদিনীপুরে অজয় মুখোপাধ্যায়, সুশীল ধারা, সতীশ সামন্ত-সহ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এদিনের কর্মসূচি থেকেই ‘নীতীশ মডেল’-এর প্রচার অভিযান শুরু করার কথা ঘোষণা করেন অশোক দাস। তাঁর বক্তব্যে দলতন্ত্রমুক্ত প্রশাসন, আইনের শাসন, হিংসামুক্ত বাংলা এবং ন্যায়ের সঙ্গে উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি উঠে আসে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের সম্মান জানানো হয়।

এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির এক রাজ্যসভার সাংসদের করা মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানানো হয় অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

জেডিইউ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগস্ট বিপ্লব স্মরণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট এবং ঝাড়গ্রাম জেলাতেও শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *