
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, অর্থাৎ বাঘা যতীনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থেকে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বুড়িবালাম নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক চাষাখণ্ড গ্রাম পর্যন্ত আয়োজিত হল ‘দেশাত্মবোধক রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা’। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় অংশ নেন শতাধিক মানুষ।
বাঘা যতীনের তিরোধান দিবস উপলক্ষে ওড়িশার বাঘা যতীন বিকাশ পরিষদের উদ্যোগে চাষাখণ্ডে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাঘা যতীন ছাড়াও মহান বিপ্লবী চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী, জ্যোতিষচন্দ্র পাল, মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ‘রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা’র সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বালেশ্বরের সাংসদ প্রতাপ চন্দ্র ষড়ঙ্গী, বালেশ্বর জেলার জেলাশাসক, সহকারী জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মানস দত্ত-সহ বালেশ্বর, ভদ্রক ও ময়ূরভঞ্জ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে ওড়িশা বাঘা যতীন বিকাশ পরিষদের সভাপতি, সম্পাদক সহ কমিটি অন্যতম সদস্য অজিত বড়াল ও অন্যসকল পদাধিকারী গণ উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, আদর্শ ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।
বিশেষভাবে বাঘা যতীন ও অন্যান্য বিপ্লবীদের জীবনাদর্শ এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন সাংসদ প্রতাপ চন্দ্র ষড়ঙ্গী। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রা’র প্রদেশ সংযোজক অশোক দাসও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন অন্য প্রদেশ সংযোজক দীপক দাস-সহ যাত্রায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ‘বাঘা যতীন অমর রহে’, ‘পঞ্চসখা অমর রহে’, ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চাষাখণ্ডের পরিবেশ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রাইম রিসার্চ ইনভেস্টিগেশন, হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত (HMKP), কল্যাণী সাহা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল কায়স্থ কনফারেন্স (GKC) এবং কুষদা অভিনন্দন সংঘের সৌজন্যে এই দীর্ঘ রাষ্ট্র চেতনা জাগরণ যাত্রার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথের ব্যবস্থাপনাতেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতি ও তাঁদের আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই যাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।












Leave a Reply