ডিমের কাবাব — মশলাদার ও ক্রিসপি নাশতার রেসিপি।

Oplus_131072

ডিম দিয়ে তৈরি নাশতার তালিকায় কাবাব একটি বেশ আকর্ষণীয় সংযোজন। সাধারণ সেদ্ধ ডিমকে আলু, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা ও মশলার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ডিমের কাবাব

বিকেলের চা, অতিথি আপ্যায়ন, ছোটখাটো পার্টি কিংবা পরিবারের জন্য বিশেষ জলখাবার—সব ক্ষেত্রেই এই কাবাব পরিবেশন করা যায়। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, খুব জটিল কোনো উপকরণের প্রয়োজন হয় না।

রান্নার সময়

  • প্রস্তুতি: ২০ মিনিট
  • রান্না: ২০ মিনিট
  • মোট সময়: প্রায় ৪০ মিনিট
  • পরিবেশন: ৪ জন

উপকরণ

কাবাবের জন্য

  • ডিম — ৫টি
  • আলু — ২টি মাঝারি
  • পেঁয়াজ — ১টি মাঝারি, মিহি কুচি
  • কাঁচালঙ্কা — ২–৩টি, কুচি
  • ধনেপাতা — ২ টেবিল চামচ, কুচি
  • আদা — ১ চা চামচ, কুচি বা বাটা
  • রসুন — ১ চা চামচ, কুচি বা বাটা
  • ভাজা জিরে গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • ধনে গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • গরম মশলা গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • লঙ্কা গুঁড়ো — ½ চা চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়ো — ¼ চা চামচ
  • চাট মশলা — ½ চা চামচ, ঐচ্ছিক
  • লবণ — স্বাদমতো
  • ব্রেডক্রাম্ব — ½ কাপ
  • কর্নফ্লাওয়ার — ১ টেবিল চামচ
  • লেবুর রস — ১ চা চামচ
  • তেল — শ্যালো ফ্রাই করার জন্য

কোটিংয়ের জন্য

  • ডিম — ১টি
  • ব্রেডক্রাম্ব — ১ কাপের মতো

ধাপ ১: ডিম সেদ্ধ

প্রথমে ৫টি ডিম একটি পাত্রে রাখুন।

ডিম সম্পূর্ণ ডুবে যায় এমন পরিমাণ জল দিয়ে মাঝারি আঁচে ৯–১০ মিনিট সেদ্ধ করুন।

সেদ্ধ হয়ে গেলে গরম জল ফেলে ঠান্ডা জল দিন।

খোসা ছাড়িয়ে ডিমগুলো একটি বাটিতে রাখুন।

৪টি ডিম কাবাবের মিশ্রণে ব্যবহার হবে এবং ১টি ডিম পরে কোটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ধাপ ২: আলু সেদ্ধ

আলু ভালোভাবে ধুয়ে সেদ্ধ করে নিন।

সেদ্ধ হয়ে গেলে খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে চটকে নিন।

আলুর মধ্যে যেন বড় কোনো দলা না থাকে।

তবে আলুকে একেবারে পেস্ট করার দরকার নেই।

ধাপ ৩: ডিম চটকে নেওয়া

৪টি সেদ্ধ ডিম চামচ বা হাত দিয়ে ভালোভাবে চটকে নিন।

একেবারে মিহি করার দরকার নেই। সামান্য ছোট ছোট টুকরো থাকলে কাবাবের ভেতরে ডিমের সুন্দর টেক্সচার পাওয়া যায়।

ধাপ ৪: কাবাবের মিশ্রণ তৈরি

একটি বড় বাটিতে চটকানো ডিম ও আলু নিন।

এর মধ্যে মিহি কুচি করা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, আদা ও রসুন দিন।

এরপর ভাজা জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, গরম মশলা, লঙ্কা গুঁড়ো ও গোলমরিচ দিন।

সঙ্গে লবণ, লেবুর রস ও সামান্য চাট মশলা দিন।

সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

ধাপ ৫: মিশ্রণ বাঁধা

এবার ½ কাপ ব্রেডক্রাম্ব ও ১ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার মিশ্রণের মধ্যে দিন।

হাত দিয়ে ভালোভাবে মাখুন।

মিশ্রণটি যদি খুব নরম হয়, তাহলে আরও সামান্য ব্রেডক্রাম্ব যোগ করুন।

তবে একসঙ্গে বেশি ব্রেডক্রাম্ব দেবেন না। বেশি দিলে কাবাব শক্ত হয়ে যেতে পারে।

ধাপ ৬: কাবাবের আকার দেওয়া

হাতের তালুতে সামান্য তেল মাখিয়ে নিন।

মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমাণ নিয়ে গোল বা ডিম্বাকৃতি করে নিন।

এরপর হাত দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে কাবাবের আকার দিন।

খুব পাতলা করবেন না। মাঝারি পুরুত্ব রাখলে বাইরে সুন্দর ক্রিসপি এবং ভেতরে নরম থাকবে।

ধাপ ৭: কোটিং

একটি বাটিতে ১টি ডিম ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।

অন্য একটি প্লেটে ব্রেডক্রাম্ব ছড়িয়ে রাখুন।

প্রতিটি কাবাব প্রথমে ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে নিন।

তারপর ব্রেডক্রাম্বের মধ্যে গড়িয়ে নিন।

সবদিকে সমানভাবে ব্রেডক্রাম্ব লেগে থাকা উচিত।

আরও ক্রিসপি কাবাব চাইলে দ্বিতীয়বার ডিম ও ব্রেডক্রাম্বের কোটিং করতে পারেন।

ধাপ ৮: কিছুক্ষণ রেখে দেওয়া

কোটিং করা কাবাবগুলো ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন।

এতে বাইরের আবরণ ভালোভাবে সেট হবে এবং ভাজার সময় কাবাব ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

ধাপ ৯: কাবাব ভাজা

একটি সমতল কড়াই বা ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করুন।

এখানে ডিপ ফ্রাই করার দরকার নেই। অল্প তেলে শ্যালো ফ্রাই করলেই হবে।

তেল মাঝারি গরম হলে কাবাবগুলো সাবধানে প্যানে রাখুন।

একসঙ্গে খুব বেশি কাবাব দেবেন না।

এক পাশ সোনালি বাদামি হলে আস্তে করে উল্টে দিন।

দুই পাশ সুন্দর বাদামি ও ক্রিসপি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

ধাপ ১০: অতিরিক্ত তেল ঝরানো

কাবাব ভাজা হয়ে গেলে ঝাঁঝরি দিয়ে তুলে নিন।

কিচেন টিস্যু বা ঝাঁঝরির ওপর রাখুন, যাতে অতিরিক্ত তেল ঝরে যায়।

কাবাব গরম অবস্থায় পরিবেশন করাই সবচেয়ে ভালো।

কাবাব আরও সুস্বাদু করার কৌশল

ডিমের কাবাবের আসল স্বাদ বাড়াতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।

প্রথমত, আলু বেশি জলযুক্ত হলে কাবাবের মিশ্রণ নরম হয়ে যেতে পারে। তাই সেদ্ধ আলুর অতিরিক্ত জল শুকিয়ে নেওয়া ভালো।

দ্বিতীয়ত, পেঁয়াজ খুব মিহি করে কাটুন এবং বেশি পরিমাণে দেবেন না।

তৃতীয়ত, কাবাব ভাজার সময় আঁচ মাঝারি রাখুন। খুব বেশি আঁচে বাইরে দ্রুত পুড়ে যাবে অথচ ভেতর ঠিকমতো গরম হবে না।

আরও ক্রিসপি ডিমের কাবাব

যারা খুব ক্রিসপি কাবাব পছন্দ করেন, তারা কোটিংয়ের সময় ব্রেডক্রাম্বের সঙ্গে সামান্য কর্নফ্লেক্স ভেঙে মিশিয়ে নিতে পারেন।

এতে বাইরের স্তর আরও মচমচে হবে।

আরেকটি উপায় হলো কাবাব প্রথমে অল্প আঁচে ভেজে নেওয়া এবং শেষে কয়েক সেকেন্ড একটু বেশি আঁচে ভেজে নেওয়া।

ওভেনে তৈরি করার পদ্ধতি

কম তেলে তৈরি করতে চাইলে ওভেনেও ডিমের কাবাব বানানো যায়।

কাবাবগুলো বেকিং ট্রেতে রাখুন এবং উপরে সামান্য তেল ব্রাশ করুন।

প্রিহিট করা ওভেনে প্রায় ১৮০–২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেক করুন।

মাঝখানে একবার উল্টে দিন।

দুই পাশ সোনালি হলে বের করে নিন।

ওভেনভেদে সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি

এয়ার ফ্রায়ার থাকলে এটিও ভালো বিকল্প।

কাবাবের ওপর হালকা তেল ব্রাশ করে এয়ার ফ্রায়ারে রাখুন।

প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রান্না করুন এবং মাঝপথে একবার উল্টে দিন।

বাইরের অংশ ক্রিসপি হয়ে গেলে বের করে নিন।

কীসের সঙ্গে পরিবেশন করবেন?

ডিমের কাবাবের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়—

  • পুদিনা-ধনেপাতার চাটনি
  • টমেটো সস
  • কাঁচা পেঁয়াজ
  • শসা
  • লেবুর টুকরো
  • ধনেপাতার চাটনি
  • দইয়ের ডিপ

পুদিনা ও ধনেপাতার ঝাল-টক চাটনির সঙ্গে ডিমের কাবাবের স্বাদ বিশেষভাবে ভালো লাগে।

ঝাল বেশি চাইলে

কাবাবের মিশ্রণে কাঁচালঙ্কার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন।

চাইলে সামান্য লঙ্কা ফ্লেক্সও ব্যবহার করা যায়।

তবে শিশুদের জন্য তৈরি করলে কাঁচালঙ্কা ও লঙ্কা গুঁড়োর পরিমাণ কমিয়ে দিন।

ভিন্ন স্বাদের জন্য

ডিমের কাবাবে সামান্য চিজ মিশিয়ে চিজি এগ কাবাব তৈরি করা যায়।

আবার মিশ্রণের মধ্যে সামান্য ভাজা পেঁয়াজ যোগ করলে কাবাবে মিষ্টি ও সুগন্ধি স্বাদ আসবে।

চাইলে সামান্য কাঁচা ধনেপাতা ও পুদিনাও যোগ করা যায়।

পার্টির জন্য পরিবেশন

অতিথি আপ্যায়নের জন্য ছোট আকারে কাবাব তৈরি করুন।

একটি প্লেটে কাবাব সাজিয়ে পাশে পেঁয়াজের রিং, শসা, লেবু ও চাটনি দিন।

উপরে সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে দিলে দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে।

সংরক্ষণ

তাজা অবস্থায় ডিমের কাবাবের স্বাদ সবচেয়ে ভালো।

আগে থেকে তৈরি করতে চাইলে কাবাবের মিশ্রণ তৈরি করে ফ্রিজে রাখা যায়। পরিবেশনের আগে আকার দিয়ে কোটিং করে ভেজে নিন।

ভাজা কাবাব সংরক্ষণ করলে পরিবেশনের আগে ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার বা প্যানে হালকা গরম করলে বাইরের অংশ আবার কিছুটা ক্রিসপি করা যায়।

উপসংহার

ডিমের পরিচিত স্বাদকে একটু নতুনভাবে উপভোগ করতে চাইলে ডিমের কাবাব একটি দারুণ রেসিপি। ডিম ও আলুর নরম মিশ্রণের সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও মশলার স্বাদ এবং বাইরে ক্রিসপি ব্রেডক্রাম্বের আবরণ—সব মিলিয়ে এটি হতে পারে পরিবারের সবার পছন্দের একটি নাশতা।

চা বা কফির সঙ্গে বিকেলের জলখাবার হিসেবে কিংবা অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন করলে এই সহজ পদটি বেশ প্রশংসা পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *