
ভূমিকা
ধোসা দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। চাল ও ডালের ব্যাটার দিয়ে তৈরি পাতলা, মচমচে ধোসার সঙ্গে ডিম যোগ করলে তৈরি হয় আরও পুষ্টিকর ও স্বাদে ভিন্ন একটি পদ—ডিমের ধোসা।
ডিমের ধোসা তৈরি করা খুব কঠিন নয়। বাড়িতে তৈরি বা বাজার থেকে আনা ধোসার ব্যাটার থাকলে অল্প সময়েই এই খাবার তৈরি করা যায়। ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা ও কয়েকটি মশলা দিয়ে তৈরি এই ধোসা সকালের জলখাবার, টিফিন কিংবা হালকা রাতের খাবারের জন্য উপযোগী।
উপকরণ
ধোসার জন্য
- ধোসার ব্যাটার — ২ কাপ
- ডিম — ৪টি
- পেঁয়াজ — ১টি মাঝারি, মিহি কুচি
- কাঁচালঙ্কা — ২টি কুচি
- ধনেপাতা — ২ টেবিল চামচ কুচি
- গোলমরিচ গুঁড়ো — ½ চা চামচ
- লঙ্কাগুঁড়ো — ¼ চা চামচ
- লবণ — প্রয়োজনমতো
- তেল — প্রয়োজনমতো
পরিবেশনের জন্য
- নারকেলের চাটনি
- টমেটো চাটনি
- সাম্বার
- ধনেপাতার চাটনি
ডিমের মিশ্রণ তৈরি
প্রথমে চারটি ডিম একটি বাটিতে ফাটিয়ে নিন।
ডিমের মধ্যে সামান্য লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো ও লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।
এরপর মিহি কাটা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও ধনেপাতা যোগ করুন।
সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে রাখুন।
ডিমের মিশ্রণে চাইলে সামান্য কুচি করা টমেটো, ক্যাপসিকাম বা গাজরও যোগ করা যায়।
ধোসার ব্যাটার প্রস্তুত
ধোসার ব্যাটার খুব ঘন হলে সামান্য জল মিশিয়ে নিন।
ব্যাটার এমন হওয়া উচিত যাতে তাওয়ার ওপর ঢেলে সহজে পাতলা করে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
তবে খুব বেশি পাতলা করে ফেলবেন না।
যদি ব্যাটার আগে থেকেই লবণযুক্ত হয়, তাহলে নতুন করে বেশি লবণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধোসা তৈরি
একটি ননস্টিক বা লোহার তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম করুন।
তাওয়া গরম হলে সামান্য জল ছিটিয়ে দেখে নিতে পারেন। জল ছিটিয়ে দিলে যদি দ্রুত শুকিয়ে যায়, তাহলে তাওয়া প্রস্তুত।
এবার একটি হাতা ব্যাটার তাওয়ার মাঝখানে ঢেলে গোল করে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন।
ধোসা যত পাতলা হবে, তত বেশি মচমচে হবে।
ধোসার ওপর সামান্য তেল ছড়িয়ে দিন।
ডিম যোগ করা
ধোসার ওপর একটি ডিম সরাসরি ফাটিয়ে দিতে পারেন।
অথবা আগে তৈরি করে রাখা ডিমের মিশ্রণ থেকে কয়েক চামচ ধোসার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন।
চামচ দিয়ে ডিমটি ধোসার পুরো অংশে হালকা করে ছড়িয়ে দিন।
এখানে খুব বেশি চাপ দেবেন না। ধোসার স্তর ছিঁড়ে যেতে পারে।
ডিমের ওপর সামান্য পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও গোলমরিচ ছড়িয়ে দিতে পারেন।
মচমচে করার পদ্ধতি
ডিম দেওয়ার পর আঁচ মাঝারি থেকে কম রাখুন।
ডিমের নিচের অংশ ধীরে ধীরে রান্না হবে।
ধোসার চারপাশে তেল ছড়িয়ে দিন।
প্রায় ২–৩ মিনিট রান্না করলে ধোসার নিচের অংশ সোনালি ও মচমচে হতে শুরু করবে।
ডিমের অংশও যখন পুরোপুরি রান্না হয়ে যাবে, তখন ধোসা প্রস্তুত।
ধোসা উল্টাবেন কি?
ডিমের ধোসা সাধারণত এক পাশেই রান্না করে পরিবেশন করা যায়।
তবে ডিমের ওপরের অংশ যদি বেশি নরম থাকে, তাহলে সাবধানে ধোসাটি উল্টে আরও ৩০–৬০ সেকেন্ড রান্না করতে পারেন।
এরপর আবার উল্টে নিন।
বেশি সময় উল্টে রান্না করলে ধোসা শক্ত হয়ে যেতে পারে।
চিজ ডিমের ধোসা
ডিমের ওপর সামান্য গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে দিলে তৈরি হবে চিজি ডিমের ধোসা।
ডিম রান্না হওয়ার শেষ পর্যায়ে চিজ ছড়িয়ে ঢাকনা দিয়ে ৩০–৪৫ সেকেন্ড রাখুন।
চিজ গলে গেলে ধোসা ভাঁজ করে পরিবেশন করুন।
মশলাদার ডিমের ধোসা
যাঁরা ঝাল পছন্দ করেন, তাঁরা ডিমের মিশ্রণে—
- কাঁচালঙ্কা
- চিলি ফ্লেক্স
- গোলমরিচ
- সামান্য ধনেপাতা
ব্যবহার করতে পারেন।
চাইলে ধোসার ওপর সামান্য পেঁয়াজ-টমেটোর মশলাও ছড়ানো যায়।
সবজি দিয়ে ডিমের ধোসা
ডিমের সঙ্গে পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম, টমেটো এবং সামান্য ভুট্টা ব্যবহার করা যায়।
সবজি অবশ্যই খুব ছোট করে কাটা উচিত।
বড় টুকরো হলে ডিমের ওপর সমানভাবে ছড়ানো কঠিন হবে এবং ধোসা ভাঁজ করার সময় সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের জন্য
শিশুদের জন্য ডিমের ধোসা বানালে কাঁচালঙ্কা ও চিলি ফ্লেক্স বাদ দিতে পারেন।
ডিমের সঙ্গে সামান্য চিজ, গাজর ও ভুট্টা ব্যবহার করলে এটি দেখতে আকর্ষণীয় হবে।
ধোসাটি ছোট আকারে তৈরি করলে শিশুদের খেতেও সুবিধা হবে।
ধোসার ব্যাটার না থাকলে
বাড়িতে ধোসার ব্যাটার না থাকলে চাল ও ডাল ভিজিয়ে ব্যাটার তৈরি করতে পারেন।
চাল ও উড়দ ডাল আলাদা করে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পরে মিহি করে বেটে নিতে হয়। এরপর ব্যাটারটি কয়েক ঘণ্টা ফারমেন্ট হতে দিলে ধোসার জন্য উপযুক্ত হয়।
তবে দ্রুত ডিমের ধোসা তৈরি করতে চাইলে প্রস্তুত ব্যাটার ব্যবহার করাই সহজ।
পরিবেশনের পদ্ধতি
ডিমের ধোসা গরম গরম পরিবেশন করুন।
এর সঙ্গে রাখতে পারেন—
- নারকেলের চাটনি
- টমেটো চাটনি
- সাম্বার
- পুদিনার চাটনি
- ধনেপাতার চাটনি
চাইলে সামান্য মাখন বা চিজের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
মচমচে ডিমের ধোসার গুরুত্বপূর্ণ টিপস
১. তাওয়া ভালোভাবে গরম করে তারপর ব্যাটার দিন।
২. ধোসার ব্যাটার অতিরিক্ত ঘন রাখবেন না।
৩. ব্যাটার ঢেলে দ্রুত গোল করে ছড়িয়ে দিন।
৪. ডিম বেশি পরিমাণে দেবেন না।
৫. ধোসার চারপাশে সামান্য তেল দিন।
৬. মাঝারি আঁচে ধীরে রান্না করুন।
৭. ডিম সম্পূর্ণ রান্না হওয়ার আগে ধোসা ভাঁজ করবেন না।
৮. অতিরিক্ত সময় রান্না করলে ধোসা শক্ত হয়ে যেতে পারে।
আনুমানিক সময় ও পরিবেশন
প্রস্তুতির সময়: ১০ মিনিট
রান্নার সময়: ১৫–২০ মিনিট
মোট সময়: প্রায় ৩০ মিনিট
পরিবেশন: ৪টি ডিমের ধোসা
উপসংহার
ডিমের ধোসা সাধারণ ধোসার তুলনায় একটি ভিন্ন স্বাদের খাবার। মচমচে ধোসার সঙ্গে ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও মশলার সংমিশ্রণ এটিকে করে তোলে সুস্বাদু ও পেটভরা একটি জলখাবার।
সকালে দ্রুত কিছু তৈরি করতে চাইলে অথবা সাধারণ ধোসায় নতুনত্ব আনতে চাইলে ডিমের ধোসা একটি ভালো বিকল্প। চিজ, সবজি কিংবা বিভিন্ন মশলা যোগ করে একই রেসিপিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।












Leave a Reply