
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। আর সেই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলকে নিশানা করে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
শুক্রবার খড়্গপুর শহরে মর্নিং ওয়াকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই তৃণমূলের নাম ও ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সরব হন তিনি।
দিলীপ ঘোষের দাবি, তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরেই নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, এটা বন্ধ করা উচিত। এই প্রতীক লুটের প্রতীক। টানাটানিতে এখন নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল উপড়ে ফেলেছে।”
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল—দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই আপাতত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতিতেই দিলীপ ঘোষের সরাসরি চ্যালেঞ্জ—“দম থাকলে আলাদা আলাদা প্রতীক নিয়ে লড়ুক। দেখা যাক কার কত দম আছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা সকলকেই মেনে চলতে হবে।
তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল কার্যত শেষের পথে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামী দিনে তৃণমূলের পাশাপাশি ঘাসফুল প্রতীকও আর থাকবে না—এমনই দাবি করেন তিনি। তবে শুধু নাম ও প্রতীক বিতর্ক নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক বাকবিতণ্ডার প্রসঙ্গ উঠে আসতেই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আক্রমণ শানান তিনি।
দিলীপের অভিযোগ, তৃণমূল এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যা তাঁর মতে ভদ্রলোকের সংস্কৃতি নয় এবং এর প্রভাব গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে পড়েছে।
এই দিন খড়্গপুরের কলাইকুন্ডা বিমানবন্দর-সহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও বক্তব্য রাখেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়গুলিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি—একাধিক ইস্যুতে এদিন তৃণমূলকে নিশানা করলেন দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুরে বিজেপি নেতার এই মন্তব্যকে ঘিরে ফের সামনে এল তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে সেই বিতর্কই আরও জোরালো হয়ে উঠল।












Leave a Reply