কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রতি বছর ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ হিসেবে পালিত হয়। সপ্তাহের শেষ রবিবার পালন করা হয় বিশ্ব বধিরতা দিবস। এই উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI), কলকাতা শাখা-র পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাস শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শ্রবণশক্তি মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। AOI পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডা. উৎপল জানা বলেন, শ্রবণশক্তি হ্রাস অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাস শনাক্ত করা গেলে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তবে বাস্তবে অনেক শিশুর শ্রবণশক্তি হ্রাস সময়মতো শনাক্ত বা চিকিৎসা হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
AOI-এর সর্বভারতীয় সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কম শোনার বিষয়টি শনাক্ত করা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর মতে, শিশুদের জন্মের সময় এবং শৈশবকালে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শনাক্ত না হওয়া শ্রবণশক্তি হ্রাস শিশুর বাকশক্তি, ভাষা শেখা এবং শিক্ষাগত বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সময়মতো শ্রবণশক্তি মূল্যায়ন করলে যোগাযোগের সমস্যা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে বলে জানান তিনি।
AOI পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সভাপতি ডাঃ শুভেন্দু কর সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শ থেকে সতর্ক থাকার আবেদন জানান। উচ্চস্বরে গান শোনা, দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহার, যানবাহনের শব্দ, শিল্প-কারখানার শব্দ এবং বাজির অতিরিক্ত শব্দ শ্রবণশক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি জানান। শব্দদূষণজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি ভলিউমে কিছু না শোনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
AOI পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক ডাঃ অজয় খাওয়াস শ্রবণযন্ত্র ও শ্রবণ পুনর্বাসন নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রবণযন্ত্র দুর্বলতা বা বার্ধক্যের প্রতীক নয়। বরং এটি মানুষের যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নত জীবনযাপনে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট-সহ আধুনিক শ্রবণ সমাধান এবং বিভিন্ন পুনর্বাসন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলেও জানান তিনি।
AOI পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে ডাঃ সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। শিশুর শব্দে সাড়া না দেওয়া, কথা বলতে দেরি হওয়া, বারবার একই কথা শুনতে চাওয়া অথবা টেলিভিশনের ভলিউম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্কদের কথোপকথন শুনতে সমস্যা হলে, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে, সেটিকে শুধু বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে না দেখে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
AOI-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ উপলক্ষে মূল অনুষ্ঠানটি হুগলির চন্দননগরের IMA ভবনে আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানটি ‘ওয়াক ফর দ্য ডেফ’ দিয়ে শুরু হবে। এরপর সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বধির ব্যক্তিদের সংবর্ধনা, শ্রবণযন্ত্র বিতরণ এবং বধির ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে।













Leave a Reply