সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – শুক্রবার এক বিরল দৃষ্টান্তের নজির গড়লো ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল।রাখিপূর্ণিমার দিন হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষ এক রোগীকে রক্ত দিলেন জনৈক এক যুবক।বিনিময়ে মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সামনে ওই যুবক ভাইকে কৃতঞ্জতা জানিয়ে তাঁর হাতে রাখি বেঁধে সম্মান জানালেন বোন।যা ক্যানিং মহকুমা এলাকায় এক বিরল দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে ক্যানিং থানার অন্তর্গত দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কুমার শা পশ্চিম গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দীনমজুর সুমন নস্কর।তাঁর স্ত্রী সোমা নস্কর সন্তান সম্ভবা।শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৃহষ্পতিবার ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে পরীক্ষার জন্য।চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর ওই প্রসুতি মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটজন বুঝতে পারেন। এক মুহূর্ত দেরী না করে তাঁকে ভর্তি করে নেন চিকিৎসকরা। এরপর জানতে পারে ওই প্রসুতি মায়ের শরীরে রক্ত শূণ্যতা রয়েছে। জরুরী ভাবে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন। না হলে বড় ধরনের বিপদের সম্ভবনা রয়েছে। এমনটা প্রসুতি মায়ের পরিবার কে জানিয়ে দেয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা।অন্যদিকে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক রক্তের অভাব থাকায় তাঁরাও রক্ত দিতে অপারগ হয়ে পড়েন। এমন ঘটনায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন নস্কর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের রাতের ঘুম উবে যায়।
নস্কর পরিবারের লোকজন বৃহষ্পতিবার রাতেই স্থানীয় ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক পরেশরাম দাসের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি রাতের মধ্যে বি-পজিটিভ রক্তদাতার খোঁজ শুরু করেন।গভীররাতে রক্তদাতার সন্ধান পেয়েও যায় বিধায়ক। তিনি নস্কর পরিবার কে রাতেই ফোন করে আশ্বস্থ করেন।জানিয়ে দেন ‘মুমূর্ষ প্রসুতি মায়ের জন্য শুক্রবার সকালে রক্তদাতা সরাসরি ক্যানিং ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্ত দেবেন। সেই মতো রক্তদাতা স্থানীয় যুবক শিলাদিত্য রায় এদিন সকালে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করেন। যে রক্তে মৃতপ্রায় প্রসুতি মা সোমা নস্কর সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সোমা নস্করে বাবা কালিপদ বর জানিয়েছেন ‘রক্তের অভাবে মেয়ের শারীরিক অবস্থা খুবই সঙ্কজনক হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন অবিলম্বে রক্তের প্রয়োজন। না হলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।মানবিক বিধায়কের উদ্যোগে রাখিপূর্ণিমার দিন যেভাবে শিলাদিত্য রায় নামে এক ভাই মুমূর্ষ রোগী বোনের পাশে দাঁড়িয়ে রক্ত দিলেন তা ভোলার নয়।আমরা কৃতঞ্জ।’
অন্যদিকে শিলাদিত্য রায় জানিয়েছেন ‘ভাই হিসাবে এক বোনের পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছি।দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর ধরে রক্তদান করে আসছি। তবে রাখিপূর্ণিমার এই বিশেষ দিনে এভাবে রক্ত দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।আগামী দিনেও এমন কাজ চালিয়ে যাবো।“
রাখি পূর্ণিমার দিন রক্ত দিয়ে বোন কে বাঁচালো ভাই।












Leave a Reply