গুঞ্জুবাড়ী অপহরণ মামলায় নাম জানানো বিজেপি নেতা অজয় রায়ের, অভিযোগ অস্বীকার বিজেপি নেতার।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা: গুঞ্জবাড়ি অপহরণ মামলায় নাম জোরালো দিনহাটা বিজেপির শহর মন্ডল সভাপতি অজয় রায়ের। তার শাস্তির দাবি তুলে মঙ্গলবার কোচবিহার কোতয়ালি থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশনে দিলো শহর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। এদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার শহর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রাকেশ চৌধুরী, দিলীপ সাহা, আমিনা আহমেদ, সায়ন দ্বীপ গোস্বামী সহ আরো অনেকে।

প্রসঙ্গত রবিবার অর্থাৎ ৬ তারিখ গভীর রাতে গুঞ্জবাড়ি এলাকা থেকে রাহুল সেন নামে এক ব্যক্তিকে কিছু লোক গাড়িতে করে এসে অপহরণ করার চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন বেরিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলার অজু করে তদন্ত শুরু করেছে কোচবিহার কোতোয়ালী থানার পুলিশ। সেই ঘটনায় দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ডেপুটেশন দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস।

এদিন বিষয়ে শহরের যুব সভাপতি রাকেশ চৌধুরী জানান, গত ৬ তারিখ রাতের বেলা রাহুল শের নামে এক যুবককে কয়েকজন দুষ্কৃতী আটক করে মারধর করে। সেখানে তাকে মারধর দেখে আমি ছুটে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। আমি একা ছিলাম বলে আমার কথার পাত্তা না দিয়ে রাহুল সেনকে একটি স্করপিও গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় রাহুল সেন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে। স্থানীয় লোকজন পরে ওই গাড়ি দুটিকে আটক করলো করে। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আপনার স্থলে পুলিশ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্করপিও গাড়িটি সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং একটি গাড়িকে পুলিশ আটক করে। ওই গাড়িতে থাকা তিনজন যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে রাহুল সেনের এফ আই আর কপি থেকে জানতে পারি যে ওই স্করপিও গাড়িটি বিজেপির এটা শহর ব্লক সভাপতি অজয়ের গাড়ি। রাহুল সেনের সঙ্গে টাকা পয়সার লেনদেনের কোন একটা বিষয় রয়েছে। কিন্তু তাকে কিডন্যাপ করার চেষ্টা করে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে অভিযুক্তরা। ওই ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা যাতে গ্রেপ্তার হয় সেই দাবিতে আজ কুচবিহার কোতোয়ালি থানায় বিক্ষোভ দেখান ও ডেপুটেশন দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস।

যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন বিজেপির দিনহাটা শহর মণ্ডল সভাপতি অজয় রায়। তিনি বলেন,প্রশাসন কোন সময়ে কথা বলেনি যে সেখানে একটি স্করপিও গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার স্পষ্টভাবেই বলেছেন সেদিন ওই ঘটনায় টাকা পয়সা লেনদেনের কোন বিষয় রয়েছে। কোথাও একবারও পুলিশ সুপার বলেনি কিডন্যাপ হয়েছে। কার পয়সা লেনদেন, কোন ব্যবসায়ী টাকা পায়, কে টাকা দিচ্ছে না সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। যাদের কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সাথে আমার কোন যোগাযোগ রয়েছে কিনা সেটা দেখুক পুলিশ। পুলিশ তদন্ত করছে। আমার গাড়ির নম্বর সেখানে দেওয়া হয়েছে ? এটা একটা চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটা নিয়ে বেশি লাফালাফি করছে তৃণমূল নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *