আমের টানে সোশ্যাল মিডিয়ার ভালোবাসা এক্সপ্রেস এসে পৌঁছালো শান্তিপুরের আম বাগানে।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- একসময় তাঁতের শাড়ির রমরমা ছিলো এই শান্তিপুর। জগত বিখ্যাত রাস উৎসব তো আছেই। তবে ইদানিং একযুগের মধ্যে শান্তিপুরের অর্থনীতিতে যে পাকাপাকিভাবে আম জায়গা করে নিয়েছে তা হয়তো জানেন না অনেকেই। স্বাদে গন্ধে পরিমানে অন্যান্য জেলাকে হার মানিয়ে মালদাহাকে ছুঁতে চলেছে নদীয়ার শান্তিপুরের আম।
শান্তিপুরের ছেলে দেবপ্রিয় প্রামানিক বেড়াতে ভালোবাসে। এবং ভ্রমণ মনস্ক মানুষদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে তুলেছে ভালবাসা এক্সপ্রেস নামে একটি গ্রুপ। যার সদস্য এখন প্রায় দেড় হাজার। কখনো কাশ্মীর কখনো দিল্লি কখনো বা উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতের পর্যটনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্বলিত স্থান। আগ্রহের ভিত্তিতে গ্রুপ সদস্যদের নিয়ে এভাবেই হিল্লি দিল্লি করে বেড়ান তারা বছরে মাঝেমধ্যেই। অনেকেই হয়তো তার নিজে নিজে পেশায় প্রতিষ্ঠিত, অর্থও আছে শুধু দায়িত্ব নেওয়ার মানুষ পান না। আর সেই কারণে ঘরের বাইরে বেরোনোও হয় না।
তবে এই গ্রুপের মাধ্যমে এখন, স্বাদ বদল করতে পারেন মাঝে মধ্যেই।
এবারে তাদের ভ্রমণ ছিলো শান্তিপুরের আম বাগান। যদিও এর আগে তরঙ্গিনী নামে গঙ্গার পাড়ে একটি রিসোর্টে এসেছিলেন তারা।
তবে এবার সেই সংস্থারই ভোজবাড়ি থেকে সকালের খাওয়া-দাওয়া সেরে, ধর্মপ্রাণ শান্তিপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান এবং বিগ্রহ বাড়ি ঘুরে, সোজা আম বাগান। এখানে গিয়ে নিজে হাতে আমপাড়া, গাছতলা থেকে তা কুড়ানো, নিজে হাতে ছাড়িয়ে আম খাওয়া এবং সারাদিন আম বাগানে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতায় আপ্লুত হলেন তারা। বাগান মালিকের পক্ষ থেকেও জানানো হয় এভাবে, শান্তিপুরের আম ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্ব মাঝারে।
প্রধান উদ্যোগী দেবপ্রিয় প্রামানিক জানান, সকলে নিজ নিজ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বস হলেও, আজকের আম বাগানে আমপাড়া শ্রমিকের বন্ধু, এ এক আলাদা অনুভূতি। শান্তিপুরের সন্তান হওয়ার কারণে, পর্যটনে শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে তার সামান্য উদ্যোগ, অন্যদিকে গ্রুপ সদস্যদের বাঁধনছাড়া আনন্দের সন্ধান দেওয়া এই সেতুবন্ধনের কাজ করেছেন তিনি। তবে আগামীতে শান্তিপুর যে পর্যটনে আরও উন্নত হয়ে উঠবে সে বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
আগত সদস্যরা জানালেন তাদের সারাদিনের অপ্রত্যাশিত আনন্দের উপলব্ধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *